মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষক হয়েও তালিকায় নাম নেই আবদুল মতিনের

মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর :

মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন
মহান স্বাধীনতার মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে সেনাবাহিনীর চাকুরী হতে অবসর দেয়ার পরও যুদ্ধাহত তালিকায় নাম লিখাতে পারেনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষক ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্পোরাল আবদূল মতিন চেীধুরী (৬০)। তিনি এখনো জানেন না কী কারণে এবং কার অবহেলায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম নেই, তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগীতা চান।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামের মৃত আম্বর আলীর ছেলে আবদুল মতিন চৌধুরী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনে অনুপ্রাণীত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে শতঃস্ফুর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২০ বছর বয়সে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য ভারতের অম্পিনগর, মতিনগর, মেলাঘর, আগরতলার শালবন ও লাটিটিলায় দীর্ঘ ১ মাস ১৮ দিন প্রশিক্ষন গ্রহণ করার পর ১৯৭১ সনের ২৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-২ ফিল্ড আর্টিলারীতে ২য় গুলন্দাজ বাহিনীতে (সৈনিক নং ২৯৩৮৪০৪) যোগ দেন। সৈনিক হিসেবে পারদর্শিতায় তিনি গার্ণার, নায়েক ও কর্পোরাল পদে উন্নীত হন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ২নং সেক্টরের অধীনে ভারতের লাটিটিলা নামক স্থানে মেজর রাশেদ এবং লেঃ সাজ্জাদ জহির এর সাথে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করেন। পরবর্তীতে তিনি মেরিন টি গার্ডেন, সমসের নগর, মঙ্গলাবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়াসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন।

এ ছাড়া কোকিতলা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর গুলি তার বাম পায়ের হাটুতে আঘাতপ্রাপ্ত আহত হন। বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের কারণে তিনি মেডেল, সামরিক খেতাব, ইমতিয়াজি খেতাব, ভিক্টোরিয়া মেডেল, কন্সটিটিউশান মেডেল, ক্যাপ্টেন স্টার, ওয়ার মেডেল ও লিভারেশন স্টারসহ বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত হন। যুদ্ধাহত হওয়ার দরুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ডাক্তারি মতে ও এ.আর.(আই)’র ১৭২ নং নির্দেশ অনুযায়ী চরিত্র সম্পর্কিত মন্তব্য ভাল ঘোষনা নিয়ে ১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর (দীর্ঘ ৮ বৎসর ৬ মাস ৬ দিন চাকুরী করার পর) সেনাবাহিনীর চাকুরী হতে তাকে অবসর দেয়া হয়, কিন্তুু স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি জয়ী হলেও এ মুক্তিযোদ্ধা জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে পারেননি। তার নাম কেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় কেন নেই তা তিনি জানতে চান? বয়সের ভারে নুয়ে পরলেও তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের সভা-সমাবেশ, মিটিং মিছিলে এখনো তারুন্যের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামে দু’চালা একটি টিনের ঘরে স্ত্রী, দুই ছেলে ও চার মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে দেশে ভুয়া তথ্য দিয়ে অনেকে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়ে স্বার্থ সিদ্ধি আদায় করছে। আর জীবনবাজী রেখে দেশের জন্য যুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালে ১৪ আগস্ট রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবার বর্গকে নৃশংস হত্যার পরিকল্পনাকারীদের পক্ষ অবলম্বন না করায় তিনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ছাড়াও সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি অভিমান করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর কণ্যা দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দুই বার ক্ষমতায় এসেও আমাদের মত অবহেলিত লোকদের খোঁজ খবর নেননি। প্রধান মন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাৎ করে খোলামেলা আলাপ করতে চান কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান মন্ত্রীর মনে উদার ও মহানুভবতা থাকলে সত্যিকারার্থে তাঁর বাবার সমর্থকদের খোঁজ খবর নিতেন।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply