কুমিল্লা ইপিজেডে ৫৩১টি নতুন শিল্প প্লট

এস জে উজ্জ্বল :

বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ৯৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমিল্লা ইপিজেডকে সম্প্রসারিত করে দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক জোনে উন্নীত করা হচ্ছে। চলতি বছরের গত ১০মাসে এই জোন থেকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৪০ মিলিয়ন ডলার (৯৯০ কোটি) টাকা ঋণ সহায়তা দিতে তাদের সম্মতির কথা ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়ে জানিয়েছে। এছাড়া ডিএফআইডি এসব জোন স্থাপনে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড (১৬৮ কোটি) টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করবে বলে ইআরডি সূত্রে জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঋণ সহায়তার প্রস্তাব অনুমোদন করে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।

ইআরডি সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সাল থেকে পিএসডিএসপি বাস্তবায়নের প্রস্তাব ঝুলে থাকলেও বর্তমানে তা গতি পেয়েছে। বিশ্ব ব্যাংক অর্থ সহায়তা দিতে সম্মত হওয়ায় এটির বাস্তবায়ন এখন সহজ হবে বলে কর্মকর্তারা জানান। এ প্রকল্পের অধীনে অর্থমন্ত্রী ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের তিনটি স্থান ছাড়াও প্রত্যেক বিভাগে কমপক্ষে দুটি এলাকা চিহ্নিত করার তাগিদ দিয়েছেন।

১৯৯৬সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে কুমিল্লায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) গঠন কার্যক্রম শুরু করে। কুমিল্লা পুরাতন বিমান বন্দর এলাকার ২৫৮ একর জমির উপর ১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ইপিজেড স্থাপিত হয়। ২০০০ সালের ১৫জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লা ইপিজেড এর উদ্বোধন করেন।

সড়ক, বিমান এবং রেল যোগাযোগ সম্বলিত এই ইপিজেডে ৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দেড় লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান এবং বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। দেশের আর কোনো ইপিজেডে কুমিল্লার মতো বিমান সুবিধা নেই। ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এবং চট্টগ্রাম বন্দর এর প্রায় মাঝামাঝি স্থানে সদর দক্ষিণ উপজেলা এলাকায় কুমিল্লা ইপিজেডের অবস্থান। এই ইপিজেডে প্রতিটি ২ হাজার বর্গমিটার আকারের ২১১টি শিল্প প্লট রয়েছে। গ্যাস,পানি, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সর্বাধুনিক সুবিধা রয়েছে এই ইপিজেডে।

ইতোমধ্যে এখানে সম্পূর্ণ রপ্তানিমুখী স্থাপিত ২৩টি শিল্প কারখানা তাদের উৎপাদন শুরু করেছে। নির্মাণাধীন রয়েছে আরো ৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ২টি কোম্পানির সাথে। তার মধ্যে ১২টি সম্পূর্ণ বিদেশি কোম্পানি, ৮টি যৌথ মালিকানা এবং ১২টি সম্পূর্ণ বাংলাদেশী কোম্পানি। জানুয়ারি থেকে চলতি অক্টোবর মাস পর্যন্ত গত ১০ মাসে এই ইপিজেড থেকে উৎপাদিত প্রায় ৬০০ কোটি টাকার পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। জেনারেল ম্যানেজার এএমএম শামসুদ্দিন চৌধুরী জানান, গত ৬জুন তাইওয়ান ভিত্তিক একটি কোম্পানির সাথে আরো একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ব্রোডেন ইন্ডাষ্ট্রিজ নামে এই কোম্পানি এখানে আন্তর্জাতিক মানের চামড়ার ফুটবল উৎপাদন করবে। তারা ১০টি প্লট নেবে। এতে প্রায় ৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। জেনারেল ম্যানেজার আরো জানান, এপর্যন্ত এই ইপিজেডে ৬৮৫কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে ১০১জন বিদেশি রয়েছে।

তিনি জানান, কুমিল্লা ইপিজেডে আরো ৫৩১টি নতুন শিল্প প্লট স্থাপিত হবে। ফলে এই ইপিজেডের আয়তন দাড়াবে প্রায় ৫০০ একর। যা দেশের ৮টি ইপিজেডের মধ্যে সর্ববৃহৎ। এজন্য বিশ্ব ব্যাংক ৯৯০কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেবে। ইপিজেডের সম্প্রসারণ কার্যক্রম প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি ২০১০-২০১১ অর্থবছরে সম্প্রসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সম্প্রসারিত কুমিল্লা ইপিজেডের কার্যক্রম শুরু হলে এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের দিক বিবেচনায় বিশ্বের ১৩২টি দেশের ৭’শ অর্থনৈতিক জোনের মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়া করণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)গত বছর চতুর্থ স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমেরিকা ভিত্তিক একটি সংস্থার জরিপে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে কুমিল্লা ইপিজেড জিএম জানান। তিনি বলেন- খরচের দিক থেকে বেপজার অবস্থান তৃতীয়। বেপজার এই সাফল্য দেশের শিল্পপায়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply