দেবীদ্বারে স্কুল ছাত্রের ৫ খন্ডিত লাশ উদ্ধারের ৯ দিন পরও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ

কুমিল্লা ২৩ নভেম্বর, (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :
জেলার দেবীদ্বার উপজেলার জয়পুর গ্রামের অপহৃত স্কুল ছাত্র পারভেজ হোসেন (১১) এর ৫ খন্ডিত গলিত লাশ উদ্ধারের নয় দিন অতিবাহিত হলেও হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে কোন কিনারা খুঁজে পায়নি পুলিশ। নিহতের পরিবারের সন্ধিগ্ধ জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইল ফোনের কল লিষ্টের সূত্র ধরে পুলিশ শনিবার রাতে একই গ্রামের এরশাদ (২৯), পলাশ (২৮), এবং পাশ্ববর্তী ওয়াহেদপুর গ্রামের ফজল মিয়া (৫০) সহ ৩ জনকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার বিকেলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে কুমিল্লা কোর্ট হাজতে চালান করেছে। কুমিল্লা ৩ নং আমুলি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফাতেমা বেগম শোনানী শেষে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত দু’দিনের রিমান্ডপ্রাপ্ত আটক ৩ জনকে থানায় আনা হয়নি।
এদিকে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিণের দাবীতে প্রেরীত চিঠির হস্তাক্ষরের মিল পেয়েছে পুলিশ, সন্ধিগ্ধ জাহাঙ্গীরের হাতের লিখা কিছু কাগজপত্র ও ক্যাসেটের কভার জব্ধ করে তা আরো নিশ্চিত হতে এক্সপার্টে প্রেরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ ( সার্বিক), ইনিস্পেক্টর (তদন্ত), দু’জন সাব ইনিস্পেক্টর সহ পুলিশের একটি দল গত এক সপ্তাহ ধরে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত রেখেছেন এবং ঘটনাস্থল ঘুরে নুতন নুতন ক্ল-খুঁজে পাচ্ছেন, ধান ক্ষেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিশুটিকে ঘাতকরা ৫ টুকরো করে ফেলে যায়নি, শিয়ালের আক্রমনে শিশুটির অংগ-প্রত্যংগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছেন।
তবে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ ( সার্বিক) মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘাতকরা হত্যাকান্ডটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মুক্তিপনের ৩ লক্ষ টাকা দাবী সহ বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে। গত ৭ ও ১২ নভেম্বর নিহত পারভেজের ঘরের দরজায় ফেলে যাওয়া চিঠিতে কুমিল্লা কামারখাড়া গোমতী নদীর ব্রীজের নিচে এবং দেবীদ্বার লক্ষিপুর গোমতী নদীর ব্রীজের নীচে মুক্তিপনের ৩ লক্ষ টাকা রেখে যাওয়ার কথা বললেও তা ছিল সাজানো। চিঠিতে উল্লেখিত মুক্তিপন দাবীকৃত তিন লক্ষ টাকা ১১ নভেম্বরের মধ্যে না দিলে ১২ নভেম্বরের মধ্যে লাশ পাবে বলে জানিয়েছিল। অথচ শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার দিন অর্থাৎ গত ৫ নভেম্বর এক বা একাধিক ঘাতক তাকে হত্যা করে। তিনি আরো জানান, গত ৫ নভেম্বর কুমিল্লায় বঙ্গবন্ধু ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলায় পার্শ্ববর্তী ওয়াহেদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যাল অংশ নেয়ায়, ওই খেলা দেখতে পারভেজ তার ঘনিষ্ঠ কারোর সাথে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। সন্দেহ হচ্ছে ওইদিন ঘাতকরা তাকে বলৎকার করেছিল, ঘটনাটি ফাঁস করে দেয়ার আশংকায় পারভেজকে শ্বাস রুদ্ধ অবস্থায় হত্যা পূর্বক ধান ক্ষেতে ফেলে আসে। সন্ধিগ্ধ জাহাঙ্গীর এবং ঘটনার দিন ওয়াহেদপুর ফুটবল খেলা দেখতে যাওয়ার সময় অপর সন্ধিগ্ধ ৩ জনকে আটক করতে পারলেই মূল রহস্য বেড়িয়ে আসবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ওই দিন ওয়াহেদ পুর থেকে যে দু’টি মাইক্রো, সাতটি সিএনজি ও একটি মিনি বাস গিয়েছিল ওই সকল পরিবহনের যাত্রীদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

Check Also

নিউইয়র্কের চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকারে দেওয়া খাদ্য পাচ্ছে দেবিদ্বারের ১ হাজার পরিবার

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারনে কর্ম হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে দেশের হাজার হাজার ...

Leave a Reply