কুবি’তে শিক্ষক আর ক্লাসরুম সংকট নিরসন না করেই চালু হয়েছে নতুন তিনটি বিভাগ:ভোগান্তি বাড়ছে শিক্ষার্থীদের

কামরুল হাসান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় :

সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের। আবাসন সমস্যা, পরিবহন সমস্যা, শিক্ষক সংকট, ক্লাসরুম সংকটসহ একের পর এক সমস্যা লেগেই আছে নবীণ এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। বিশেষ করে এখন ক্লাসরুম সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে। ক্লাসরুম সংকটের কারনে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দুই শিফটে ক্লাস হয়। কিন্তু নতুন কোন একাডেমিক ভবন নির্মান না করেই এবার ছালু করা হয়েছে নতুন তিনটি বিভাগ। ফলে ক্লাসরুম সংকট আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। ভোগান্তি বেড়ে যাবে শিক্ষার্থীদের। সব বিভাগেই পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় ক্লাস চলছে ঢিমেতালে। ফলে সেশনজটে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বিভাগের জন্য রয়েছে ১টি ক্লাসরুম ও একটি হলরুম। কিন্তু ৪টি ব্যাচের জন্য তা যথেষ্ট নয়। কিছুদিনের মধ্যেই ক্যাম্পাসে আসছে নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ফলে এ সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারন করবে। পর্যাপ্ত ক্লাসরুম না থাকায় একটি ব্যাচের ক্লাস শেষ হলে অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয়। প্রায় সময়ই শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ক্লাসরুম না থাকায় বারান্দায় দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রহর গুনতে হয় কখন অন্য ব্যাচের ক্লাস শেষ হবে আর কখন ক্লাস শুরু হবে। ক্লাসরুম সংকটের কারনে প্রশাসনিক ভবনেও কোন-কোন বিভাগের ক্লাস পরীক্ষা নেয়া হয়।
জানা যায়, তীব্র শিক্ষক সংকটের মাঝেও মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক আমজাদ হোসেন সরকার ও ইংরেজী বিভাগের প্রধান এম এম শরীফুল করিমকে প্রায় ১ বছর ধরে বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখা হয়েছে। ছুটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যে হাইকোর্টে রীট দায়ের করেছে ওই দুই শিক্ষক। রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে নোংরা শিক্ষক রাজনীতি আর পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে যাচ্ছে মেধাবী শিক্ষকরা। ইতিমধ্যে কম্পিউটার সায়েন্সের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমান রাবি’তে প্রভাষক পদে যোগ দিয়েছে। অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ফজলুল হক চলে গেছে রাবি’তে। ইংরেজী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.আবু জাফর, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক দেওয়ান নেয়ামুল করিম এবং হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আব্দুল মান্নান যোগ দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। আরো কয়েকজন শিক্ষক ঈদের ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাবে বলে জানিয়েছে শিক্ষকদের একটি সূত্র। ফলে শিক্ষক সংকট আরো বেড়ে যাবে। শিক্ষক আর ক্লাসরুম সংকটের কারনে ক্লাস পরীক্ষা নিয়মিত না হওয়ায় সেশনজটে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ফলে হতাশায় মাঝেই দিন কাটছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা জানায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘর্ষের ফলে, কোন-কোন সেমিস্টার শেষ হতে এক বছর লেগেছে। খুব শিগগিরই যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ সমস্যা নিরসন না করে তাহলে সেশনজটের ভয়াল থাবা আরো দীর্ঘতর হতে পারে।
জানা যায়, গত রাজেটে একটি আবাসিক হল ও একটি একাডেমিক ভবন নির্মান করার কথা থাকলেও আজও কাজ শুরু হয়নি। ।
এত সমস্যার কথা শুনে গত ২৭ ফেব্রুয়ারী নবনির্মিত ৩টি আবাসিক হলের উদ্বোধন করতে এসে আশার বাণী শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, সামাজিক ও রাজনীতিক উপদেষ্টা প্রফেসর ড.আলাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন, আবাসনসহ সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাষ দেন। কিন্তু আশ্বাষের বাণী শুনেই সন্তুষ্ট নয় শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবী যত তারাতারি সম্ভব বাস্তবেই এ সকল সমস্যার সমাধান করা হোক।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কামাল উদ্দিন ভুইয়া জানান, সব বিভাগেই শিক্ষক নিয়োগ চলছে। ক্লাসরুম সংকটের ব্যাপারে তিনি বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কিছু সংকট তো থাকবেই। তবে একাডেমিক ভবন নির্মানের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আশা করি এ সমস্যা খুব তারাতারিই নিরসন হবে।

Check Also

কুবি সাংবাদিক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান পালিত

মো শরীফুল ইসলাম,কুবি :– বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ...

Leave a Reply