চান্দিনায় বীজ সংকট ও চড়ামূল্যে দিশেহারা কৃষক: বোরো আবাদ হুমকির মুখে

মাসুমুর রহমান মাসুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

বোরো মৌসুম আসন্ন। চলছে বীজ তলা তৈরীর প্রস্তুতি। এমন সময় কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বীজ সংকট ও চড়ামূল্যের কারণে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ফলে বীজ তলা তৈরী নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। বিএডিসি’র নির্ধারিত মূল্য তালিকা না মেনে মনগড়া মত চড়া মূল্য নিচ্ছে বিএডিসি’র ডিলাররা। গতকাল সোমবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে চান্দিনা উপজেলা সদরে সরেজমিনে ঘুরে জানাগেছে, ৩৮০টাকা থেকে ৪৩০ টাকা করে প্রতি বস্তা বীজ বিক্রি করছে ডিলাররা। বিএডিসি’র তালিকা অনুযায়ী ব্রি-ধান-২৮, ব্রি-ধান-২৯, ব্রি-ধান-১৬, ব্রি-ধান-৪৫, ব্রি-ধান-৩ সহ সকল বীজের বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩০টাকা। চান্দিনায় ব্রি-ধান-১৬ এর সরবরাহ কম থাকায় ডিলাররা প্রতি বস্তা ৪৩০টাকা করে বিক্রি করছে।
এদিকে ডিলারদের গোডাউনে পর্যাপ্ত বীজ থাকলেও শো-রুমে কয়েকবস্তা করে ডিসপ্লে দিয়ে অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছে ডিলাররা। অপর দিকে ব্রি-ধান এর সংকট দেখিয়ে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সীড কোম্পানীর বীজ দ্বিগুন মূল্যে বিক্রি করছে। মিনিকেট নামে বিক্রি হচ্ছে বাংলামতি ধানের বীজ। ফলে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ কৃষক। এবছর চান্দিনা উপজেলায় ১০ হাজার ২ শত ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলা সদরের বিএডিসি’র বীজ ডিলার আবদুর রাজ্জাক জানান, এ বছর চান্দিনা উপজেলায় ৩৭৫ টন বীজের চাহিদার বিপরীতে আমরা বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ৭২টন। ডিলার আল-আমিন জানান, আমি বরাদ্দ পেয়েছি ৩টন। বিক্রি শেষ হওয়ার পর কৃষকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে অন্যত্র থেকে বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করেছি। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দাম নিতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ভূইয়া জানান, চড়া মূল্যে বিক্রির খবর পেয়ে আমরা বাজারে মনিটরিং করেছি। মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply