লাকসামের মোহন পুর আলিম মাদ্রাসায় প্রভাষক নিয়োগে দূর্ণীতির অভিযোগ ॥ তদন্ত দাবি

জামাল উদ্দিন স্বপন :
কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার মোহন পুর আলিম মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক নিয়োগ নিয়ে চরম অনিয়ম দুর্ণীতি ও আত্মীয় করনের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে সমগ্র লাকসাম এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ভুক্ত ভোগী ও বঞ্চিত আরবী প্রভাষক পদপ্রার্থী মো : মনিরুল ইসলাম নামক এক মাওলানা সাহেবের অভিযোগে জানা গেছে, লাকসাম মোহনপুর আলিম মাদ্রাসায় একজন আরবী প্রভাষক নিয়োগের জন্য অধ্যক্ষ প্রেরিত সাক্ষাতকার পত্রে ১৭/৮/১০ইং তিনি সহ বেশ কিছু প্রার্থী ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত হয়ে জানতে পারেন মাদ্রাসার গভর্নিং বডি ও সাক্ষাতকার বোর্ডের সভাপতি মোহন পুর পীর সাহেব জনাব মাওলানা আবদুল বারী এহসানুল হক নামের একজন প্রার্থী থেকে মোটা অংকের টাকার লেন দেন করে ঐ প্রার্থীকে প্রভাষক পদে নিয়োগে আদা-জল খেয়ে কাজ করছেন। গত ১৭ আগষ্ট ইন্টারভিউতে যে কয়জন প্রার্থী অংশ নেন,তাতে মো: মনিরুল ইসলাম ২৫ মার্কে ১০ মার্ক লাভ করে ১ম স্থান অধিকার করেন আর ০৯ মার্ক পেয়ে ২য় স্থান লাভ করেন মো: সাখাওয়াত হোসেন নামের অন্য এক প্রার্থী। তার পরে ৬/৭ মার্ক পেয়েছে অন্য ২/৩ জন প্রার্থী।

তবে মাদ্রাসার ডিজির সভাপতির পছন্দের প্রার্থী মো: এহসানুল হক লাভ করেন মাত্র ০৫ মার্ক। তবে মৌখিক পরীক্ষায় তাকে ১২ দিয়ে (মোট ১৭ নাম্বারে) নিয়োগ দানের ব্যবস্থা করেন বলে অধ্যক্ষ অফিস সুত্রে প্রকাশ। লিখিত পরীক্ষায় ১০ মার্ক প্রাপ্ত প্রার্থী কে মৌখিক পরীক্ষায় মাত্র ০৪ মার্ক দিয়ে ডিজি সভাপতি ও পীর আবদুল বারী তার পছন্দের ব্যক্তিকে প্রভাষক পদে নিয়োগে উৎসাহী হন।

একই পথ অনুসরণ করে ৩১/১০/১০ইং তারিখে আরো এক জন প্রভাষক নিয়োগে আরো গুরতর অনিয়মের পথে এগিযে তিনি তার পুত্র কে উক্ত মাদ্রাসার প্রভাষক পদে নিয়োগার্থে ৩১/১০/১০ইং এর সাক্ষাতকার বোর্ডের সভাপতি হয়ে অনিয়মের দরোজা উম্মোচন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পীর আবদুল বারী তার পুত্র কামরুল বারী কে আরবী প্রভাষক পদে নিয়োগে প্রাণ পন চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। জানা গেছে, পীর আবদুল বারী উক্ত শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করতে গেলে পুর্বেই তার ‘সভাপতি’ পদে প্রশ্ন তোলা হয়। এ জন্য সাখাওয়াত নামের একজন প্রার্থী লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পরে ১০ জন প্রার্থী সাক্ষাতকার বোর্ডে অংশ নিয়ে ১ম স্থান লাভ করেন মো: মনিরুল ইসলাম নামক একজন প্রার্থী। তিনি ২৫ মার্কে ১১ মার্ক লাভ করেন। আর পীর পুত্র এসএম কামরুল বারী পান মাত্র ১ (এক) নাম্বার। সাংবাদিক দের নিকট ইন্টারভিউ বোর্ডের মার্কসীট রক্ষিত আছে। তবে পীর পুত্র মাত্র ১ (এক) নাম্বার পাওয়ায় মাওলানা আর বারী ও সাক্ষাতকার বোর্ডের সভাপতি সাহেব ডিজির প্রতিনিধি সহ অন্যান্য সদস্যদের উপর চাপ প্রযোগ করে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায় নি বলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে পুন: বিজ্ঞপ্তি প্রদানে অধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। পীর আর বারী তার পুত্র কে প্রভাষক পদে নিয়োগে ব্যর্থ হয়ে যে বাজিকরের চিত্র প্রদর্শন করেন এতে প্রার্থী মো: মনিরুল ইসলাম সহ অন্যান্য প্রার্থী গন হতবাক হন। শুধু তাই নয় এতে সমগ্র এলাকায় ছি: ছি: রব পড়ে।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে পীর সাহেবের সামনে তার কিছুই করার বা বলার নেই বলে মন্তব্য করেন। আর মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং ইন্টারভিউ বোর্ড সভাপতি বিশেষ করে প্রভাষক প্রার্থী এসএম কামরুল বারীর আব্বা হুজুর মাওলানা আবদুল বারীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি উক্ত বিষয় টিকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

এ দিকে অন্যতম প্রার্থী মো: মনিরুল ইসলাম বিন ইব্রাহিম খলিল হতাশাচ্ছন্ন হয়ে মোহন পুর মাদ্রাসায় প্রভাষক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দূর্ণীতি ও আত্মাীয় করনের বিষয় টিকে আমলে নিয়ে তদন্ত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কৃপা দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। একই সাথে তিনি এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সহযোহিতা ও কামনা করেছেন।

Check Also

লাকসাম-মনোহরগঞ্জের বিএনপি’র সাবেক এমপি আলমগীরের জাতীয় পার্টিতে যোগদান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা-১০ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) বিএনপি’র সাবেক এমপি এটিএম আলমগীর জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেছেন। সোমবার জাতীয় ...

Leave a Reply