খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ : সারাদেশে বিক্ষোভ সংঘর্ষ হরতাল

ঢাকা, ১৩ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :

গুলশার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে সরকার। রবিবার বিকেল ৩টায় ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাড়ি থেকে তাকে বের করে দেয় আইর শৃংখ্যলা বাহিনির সদস্যরা । সেনানিবাসের বাড়ি থেকে তাকে এক কাপড়ে বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বলেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে অমানবিকভাবে আমাকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে’।বাড়িছাড়া করার সময় পরিবারের সদস্যদের গায়ে হাত দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার সন্ধ্যায় গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বেগম জিয়া এসব অভিযোগ করেন। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।খালেদা বলেন, ‘আমাকে বাড়ি থেকে কিছুই আনতে দেয়া হয়নি। এটা অমানবিক। আমার মালামালেরও কোনো আইনসম্মত ইনভেন্টরি পর্যন্ত করা হয়নি।’বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে তাকে উচ্ছেদ করেছে। এই অমানবিক ঘটনার বিচারের ভার মহান আল্লাহ ও জনগণের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নোটিস দিলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তাকে বাড়ি থেকে বেআইনিভাবে উচ্ছেদ করা হল।

রবিবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে বেগম জিয়াকে বাড়ি থেকে বের করে র‍্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তার গুলশানের অফিসে নামিয়ে দেয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে দিনভর সংঘর্ষ, বিক্ষোভ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই বাড়িটি ঘেরাও করে রাখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী।সকালে তারা মাইকিং করে খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। এক পর্যায়ে গেট ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় ওই বাড়ির কর্মচারীসহ অন্য বাসিন্দাদের। আপিল বিভাগে বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় বেগম জিয়াকে হয়রানি না করার জন্য প্রধান বিচারপতির নির্দেশনাও আমলে নেয়নি সরকার। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে আইনজীবীরা মইনুল রোডে যেতে চাইলে তাদের ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতে দেয়া হয়নি। তবে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক দাবি করেছেন, খালেদা জিয়া আদালতের আদেশ মেনে স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন।

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আগামী ২৯ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য থাকা অবস্থায় দলীয় চেয়ারপার্সনকে জোর করে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও তাকে লাঞ্ছিত অপমানিত করার প্রতিবাদে বিএনপি আজ সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতালের ডাক দিয়েছে।

সকাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপি নেতা-কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাংচুর ও দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে এক ডজন গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। ক্যান্টনমেন্টে ঢোকার প্রবেশপথ জাহাঙ্গীর গেট ও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ রাজধানীজুড়ে আগে থেকেই রণসজ্জায় থাকা পুলিশ বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষে কয়েকটি এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের প্রবেশপথ শহীদ জাহাঙ্গীর গেটেও বিএনপি নেতাকর্মী ও আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন। সেখানেও পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষ হয়। ব্যবহার করা হয় জলকামান। নয়াপল্টন এলাকায় দফায় দফায় টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। দেশের সবকটি জেলা ও উপজেলায় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েকটি জেলায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সারাদেশে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় দু’শ নেতাকর্মীকে।

ঢাকাসহ সারাদেশে তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খালেদা জিয়ার স্টাডি রুমে জোর করে প্রবেশ করে এবং তার ব্যক্তিগত স্টাফদেরও আটক করে নিয়ে যায়। খালেদা জিয়া তখন বেডরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলে তারা বেডরুমের কড়া নেড়ে ১০ মিনিট সময় দিয়ে তাকে বের হয়ে আসতে বলে। অন্যথায় জোর করে তাকে উঠিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়ে দেয়। তারা বলে, স্বেচ্ছায় খালেদা জিয়া বেরিয়ে না এলে তাকে জোর করে বের করে আনা হবে। প্রয়োজনে পাজাকোলা করে তুলে নেয়া হবে। পরে এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খালেদা জিয়ার বেডরুমের দরজা ভেঙ্গে ফেলে বেলা সোয়া ৩টার দিকে সেনানিবাসে মইনুল রোডের বাড়ি থেকে বেগম জিয়াকে টেনেহিঁচড়ে জোর করে গাড়িতে তুলে দেয় মহিলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শনিবার রাতে তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের বাসায় থাকবেন বলে জানা গেছে। গুলশান কার্যালয়ে শনিবার রাত সাড়ে ৭টায় সংবাদ সম্মেলন করার পরপরই তিনি তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের বাসায় যান। এ সময় তার মেজ ভাই সাঈদ ইস্কান্দারও সঙ্গে ছিলেন।শামীম ইস্কান্দর গুলশান-২ এ নিজের বাসায় থাকেন। গুলশান কার্যালয় থেকে খালেদা জিয়ার গাড়ি বের হওয়ার সময় দলীয় নেতা-কর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। এ সময় দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা তার গাড়িকে এগিয়ে দেন।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply