মুরাদনগরে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ হাজার লোকের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

স্টাফ রিপোর্টার, মুরাদনগর :
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা ও খামার গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ১৭ জন নামধারীসহ অজ্ঞাত ৩ হাজার লোকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ খবর শুনে গ্রেফতার এড়াতে এলাকা পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ নিয়ে এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, সোমবার সকালে উপজেলার বাঙ্গরা বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২ গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের হামলায় ৮ পুলিশসহ কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। এ সময় কয়েকদফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, পুল-কালভার্ট, দোকানপাট ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৬০ রাউন্ড রাবার বুলেটের ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেন। তখন কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কে ৩ ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়েছে। আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুন-আল রশিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম খান, মুরাদনগর সার্কেলের এএসপি জাহাঙ্গীর আলম, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (তদন্ত) ইকবাল হোসেন, থানার এসআই আলমগীর হোসেন, রফিকুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, এএসআই ইউনুস আলী, খোরশেদ আলম, মুরিদুল ইসলাম, কনস্টবল রফিকুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, আজিজুল হক, আব্দুর রব, সুলতান হোসেন, খামারগ্রামের এরশাদ মাহমুদের ছেলে শরীফ মাহমুদ, বাঙ্গরা গ্রামের মৃত আব্দু মিয়ার ছেলে ফিরুজ মিয়া, হাজী আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে ইয়ার হোসেন ও আব্দুল মজিদ মিয়ার ছেলে ইউছুফ মিয়াকে লাঞ্ছিত ও আহত করেন। উক্ত ঘটনায় মুরাদনগর থানায় একটি জিডি করা হয় (যার নং-২৯৯, তাং-০৮/১১/২০১০ইং)।

এ ব্যাপারে পুলিশের কাজে বাধাঁ প্রদান ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগে খামার গ্রামের মৃধন মিয়ার ছেলে হাসান মিয়া ওরফে কালু (২৪), একরাম মিয়া (২৬), মৃত আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে মৃধন মিয়া (৫০), শব্দর আলীর ছেলে আতিকুর রহমান ওরফে এখলাস (২৫), মোশারফ আলী (২৬), আব্দুল ওয়াদুদ মাস্টারের ছেলে নাছির মিয়া (২৫), মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে মোকাদ্দেস (২৬), এরশাদ মিয়া (৩০), গাজীপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে তারা মিয়া (২২), আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে হাসান মিয়া (২৩), ঘোড়াশাল গ্রামের দনু মিয়ার ছেলে জীবন মিয়া (২৫), দক্ষিন বাঙ্গরা গ্রামের এলাহি বক্সের ছেলে আল মামুন (২৪), এরশাদ মাহমুদের ছেলে শরীফ মাহমুদ (২৫), বাঙ্গরা গ্রামের অজ্ঞাত কলা ব্যাপারীর ছেলে মোস্তফা (২৫), আব্দুল মালেকের ছেলে মোস্তফা (২৫), কাজল বিশ্বাসের ছেলে রিপন মিয়া (৩০), যাত্রাপুর গ্রামের মোহন মিয়ার ছেলে আবুল কালামসহ (২৪) পূর্বধইর পূর্ব, চাপিতলা, আকবপুর, যাত্রাপুর, ইউনিয়নের দৌলতপুর, খামার গ্রাম, বাঙ্গরা ও হাটাশ গ্রামের অজ্ঞাত ২৫০০/৩০০০ উচ্ছৃঙ্খল লোকজন মারাত্বক অস্ত্র-সশ্্ের সজ্জিত হয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায় বলে মুরাদনগর থানার এস আই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সোমবার রাতে এ মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলো- বাঙ্গরা গ্রামের ইয়ার হোসেন (২৫), ফিরোজ মিয়া (৪০), শরীফুল ইসলাম (২৮), খামার গ্রামের বিলাল হোসেন (৩০) ও যাত্রাপুর গ্রামের আবুল কালাম (২২)।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মুরাদনগর থানার ওসি (তদন্ত) ইকবাল হোসেন জানান, আসামীরা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে জনপ্রতিনিধি ও পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Check Also

দেবিদ্বারের সাবেক চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু: কঠোর নিরাপত্তায় গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভাণী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান (৫৫) করোনায় আক্রান্ত ...

Leave a Reply