৬৯’এর গণঅভ্যূথ্যানের সৈনিক আছাদ মিয়ার দিন কাটে ভিক্ষা করে রাত কাটে নৌকায়

লিটন চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ॥

ছোট্ট একটি সংবাদ-‘সেই আছাদ মিয়া অসুস্থ্য’। শুরু হয়ে যায় তোলপাড়! একটি সহযোগী দৈনিকে সংবাদটি প্রকাশিত হবার পর দেশের অগনিত মুক্তিযোদ্ধা, সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শুভাকাংখী দূর-দূরান্ত থেকে এসে তার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
তার মধ্যে রয়েছে- বসুন্ধরা গ্রুপের উর্ধ্বতন নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ সরকারের সমাজ কল্যান দপ্তর, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শুভ সংঘ (বাঞ্ছারামপুর শাখা), অপসোনিন ফার্মা, বিকন ফার্মা ও রেনেটা ফার্মা লি:, ঢাকা থেকে আগত আছাদ মিয়ার সহযোদ্ধা ও উপকারভোগী সাবেক সরকারী আমলা হারুনুর রশীদ, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থেকে সহ আরো অনেকে। এছাড়া বেসরকারী হাসপাতাল উপজেলাস্থ ‘তিতাস ইউনিটি’ আছাদ মিয়ার সার্বক্ষনিক দেখভালের ব্যবস্থা নিয়েছে।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত স্নেহধন্য ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যূত্থানের রাজপথের সাহসী সৈনিক এবং’৭১-এ দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহায়তাকারী আশাবুদ্দিন মিয়া (৮৪) ডাকনাম আছাদ মিয়া গত ৪ অক্টোবর বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে শুভ সংঘ, বাঞ্ছারামপুর শাখা তার সহযোগিতায় উদ্যোগ নিলে প্রথমেই তাকে তাৎক্ষনিকভাবে তাকে তার তিতাস নদীতে বহরকৃত ছোট্র ভাঙ্গা-মাচাং-এর ডিঙ্গি নৌকা থেকে উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. শাহজাহান, ডা. লুতফর নাহার লতা তাকে পর্যবেক্ষণ করে জানান,- ‘তিনি ক্রনিক ব্রংকাইটিস, এ্যাজমা, অনাহারের কারনে শারিরীক দূর্বলতা, জ্বর, গ্যাষ্ট্রিক সহ বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে ভূগছেন। তারা,আছাদ মিয়াকে ভালমানের চিকিতসা দেয়ার জন্য জরুরী ভিত্তিতে ঢাকায় নিয়ে উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা রোগ নিরাময়ে সেবা দেয়ার পরামর্শ দেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার (ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৬) নির্বাচিত সাংসদ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন.(অব.)এ.বি.তাজুল ইসলামের সাথে ছালাম মিয়া প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তার একান্ত সচিব (উপ-সচিব) পি.এস মো.সাইফুল ইসলাম-‘অত্যন্ত আগ্রহ-আন্তরিকতার সাথে ছালাম মিয়ার প্রসঙ্গটি শুনেন।এরপর তিনি জানান-‘ছালাম মিয়ার ব্যাপারে শীঘ্রই কিছু একটা করার ব্যবস্থার জন্য চেষ্টা করা হবে”।
বসুন্ধরা গ্রুপের উর্ধ্ধতন নির্বাহী পরিচালক (হিসাব ও অর্থ) ময়নাল হোসেন চৌধুরী আছাদ মিয়ার কথা জেনে দুর্যুগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে-স্ব উদ্যোগে ৮ অক্টোবর শুক্রবার বেশ কিছু নগদ অর্থ তার হাতে তুলে দেন।একই সময় বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদ মিয়াকে দেখেই চিনে ফেলে তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন-‘আপনার কাছে দেশ-জাতি অনেক ঋণী’,তিনি আছাদ মিয়াকে পরবর্তীতে কি করা যায় তা ভেবে জানাবেন বলে জানান।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের থানা কমান্ডার মো.গোলাম ইসহাক ও উপ-কমান্ডার আ.লতিফ ,-১৯৫৯ সালের গণ আন্দোরনের সময় আছাদ মিয়ার সাবেক রাজপথের সহসৈনিক ও যোদ্ধা দাবী জানিয়ে বলেন বঙ্গবন্ধুর এই স্নেহধন্য ব্যাক্তিটির আজ দিন কাটে ভিক্ষা করে-রাত কাটে ভাঙ্গা নৌকায়! এটা হতে পারে না। তারা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষে বলেন-‘অবিলম্বে তার একটি ভাল বাসস্থান ও ভালো চিকিৎসার দরকার।
এদিকে,বাঞ্ছারামপুর সমাজ কল্যান অফিসার আছাদ মিয়ার কথা জেনে নিজ উদ্যোগে তাকে দুস্থ্য ও বয়স্কভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন।
বাঞ্ছারামপুর কেন্দ্রীয় উন্নয়ন সমবায় সমিতি(বি,আর,ডি,বি) চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা এ,কে আজাদ আছাদ মিয়ার ব্যাপারে জানান আছাদ ভাইকে সরকার ঘোষিত একটি বাড়ী-একটি খামার প্রকল্প হতে কিছু একটা করার ব্যবস্থা গ্রহনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.শোয়াইব আহমাদ খান বলেন-‘আছাদ মিয়া কে সরকারের পক্ষ থেকে যতোখানি সহযোগিতা করা সম্ভব-তার সবকিছুই করার চেষ্টা করা হবে।”

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply