মুরাদনগরে ২ গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ পুলিশসহ আহত অর্ধশত : ৬০ রাউন্ড গুলি বিনিময়

মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর :
মুরাদনগরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২ গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে ৮ পুলিশসহ কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়েছে । এ সময় পুল-কালভার্ট, দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৬০ রাউন্ড রাবার বুলেটের ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে। তখন কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কে ৩ ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার বাঙ্গরা বাজারে এ ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, রোববার রাতে উপজেলার হাটাশ গ্রামের কালীমন্দিরে কীর্তন অনুষ্ঠানে পার্শ্ববর্তী বাঙ্গরা ও খামার গ্রামের যুবকদের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সমঝোতার জন্য সোমবার বিকেলে বাঙ্গরা ডাকবাংলোতে বৈঠক আহবান করা হয়। এর আগেই সকালে বাঙ্গরা গ্রামের সোহাগ নামের এক যুবক কোম্পানীগঞ্জ যাওয়ার পথে গ্যাস ফিল্ডের সন্নিকটে পৌঁছামাত্র খামার গ্রামের কতিপয় যুবক তাকে বেদম মারধর করে। এ খবর বাঙ্গরা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বাঙ্গরা বাজারে উভয় গ্রামের লোকজন টেটা-বল্লম ও লাঠি-সোটায় সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ ও কুমিল্লা থেকে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সকাল ৯টা থেকে আনুমানিক ১২টা পর্যন্ত উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, লাঠিসোটা, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে ৮ পুলিশসহ উভয় গ্রামের কমপক্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়। এ সময় বাঙ্গরা বাজারে ২০/২২টি দোকানের সাটার ভাংচুর করা হয় এবং ৪/৫টি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এছাড়া বাঙ্গরা-বিষ্ণুপুর রাস্তায় একটি কালভার্ট ভাংচুর ও বাঙ্গরা-খামার গ্রামের মধ্যবর্তী কাঠের তৈরী অপর একটি ব্রীজ ভেঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কুমিল্লা-কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কে প্রায় ৩ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ইট-পাটকেল ও লাঠিসোটার আঘাতে থানার এসআই আলমগীর হোসেন, রফিকুল ইসলাম, এএসআই ইউনুস আলী ও খোরশেদ আলমসহ ৮ পুলিশ এবং খামার গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩৫), বশির মিয়া (২৫), আবুল খায়ের (৪০), মোকাদ্দেস আলী (৪০), বাঙ্গরা গ্রামের ঘোড়াশাল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম (৪৫), শেখ কবির (৩৫), জাকির হোসেন (৩০), মজিবুর রহমান (২২), মনির খা (২৪), শেখ শাম মিয়া (৪০) সহ প্রায় অর্ধশত লোক কমবেশী আহত হয়।
মুরাদনগর থানার ওসি আমিরুল আলম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৬০ রাউন্ড রাবার বুলেটের গুলি বর্ষণ করেছে ও ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো- বাঙ্গরা গ্রামের ইয়ার হোসেন (২৫), ফিরোজ মিয়া (৪০), শরীফুল ইসলাম (২৮) ও খামার গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৩০)। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুন-আল রশিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম খান, মুরাদনগর সার্কেলের এএসপি জাহাঙ্গীর আলম, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আমিরুল আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুন-আল রশিদ জানান, উভয় গ্রামের লোকজনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ১২ জনকে দায়িত্ব দিয়ে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ মিমাংসার জন্য আগামী শনিবার মুরাদনগর থানায় শালিস বৈঠক আহবান করা হয়েছে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনপক্ষই থানায় মামলা করেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Check Also

দেবিদ্বারের সাবেক চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু: কঠোর নিরাপত্তায় গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভাণী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান (৫৫) করোনায় আক্রান্ত ...

Leave a Reply