কুবি’তে সহকারী প্রক্টর লাঞ্চিতের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবীতে একাট্টা শিক্ষকরা

কামরুল হাসান, স্টাফ রিপোর্টার :

বৃহস্পতিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ত:বিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের হাতে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদক ও সহকারী প্রক্টর মো: তাজুল ইসলাম লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবীতে একাট্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক কর্মকর্তারা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সকল শিক্ষকরা রোববারের মধ্যে অভিযুক্ত ১১ শিক্ষার্থীর বিচারের দাবীতে ভিসির নিকট লিখিত দেন। রোববার অর্থাৎ আজকের মধ্যে অভিযুক্তদের শাস্তি না দিলে সোমবার থেকে লাগাতার ক্লাস বর্জনেরও ঘোষনা দেন শিক্ষকরা। পূর্বেও অপর সহকারী প্রক্টর তোফায়েল হোসেন মজুমদারকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। সেসময়ও অজানা কারণে পার পেয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে গত মাসে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা শামিমা নাসরীনের সাথে অসদাচরন করে সরকার দলীয় কর্মীরা। ওই শিক্ষিকা ভিসির নিকট বিচার চাইলে রাজনৈতিক চাপে সেখানেও পার পেয়ে যায় তারা। কিন্তু একই ঘটনা বাব-বার পূনরাবৃত্তি হওয়ায় উদ্বিগ্ন শিক্ষক কর্মকর্তারা।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার আন্ত:বিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা রেফারীকে মারধর করে এবং গোলপোষ্ট ভাংচুর করে। এসময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গেলে শিক্ষার্থীরা সহকারী প্রক্টর ও বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদক এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মো: তাজুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। উপস্থিত অপর শিক্ষকরা এগিয়ে এলে তাদের সাথেও অসদাচরন করা হয়। এরই প্রতিবাদে সকল শিক্ষকরা ভিসির সাথে দেখা করে লিখিতভাবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রোববার অর্থাৎ আজকের মধ্যে শাস্তির দাবী করে। ুুঅন্যথায় সোমবার থেকে লাগাতার ক্লাস বর্জনের ঘোষনাও দেন শিক্ষকরা। শিক্ষকদের একাধিক সূত্র জানায় শিক্ষক কর্মকর্তাদেরকে লাঞ্চিত করা, তাদের সাথে অসদাচরন করা প্রতিনিয়তই ঘটছে। এভাবে চলতে থাকলে কোন শিক্ষক কর্মকর্তাই ক্যম্পাসে নিরাপদ নয়। এই ঘটনা বার-বার চলতে দেয়া যায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, মোটা অঙ্কের বেতন ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পেশায় এসেছি একটু সম্মানের আশায়। আর এই সম্মনের পরিবর্তে যদি লাঞ্চনার শিকার হতে হয় তাহলে তো এই চাকরী ছেড়ে দেয়াই ভাল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এর বিরুদ্ধে কঠিন ভুমিকা গ্রহন করতে হবে। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী শিক্ষকদের হারাবে।
অপর এক শিক্ষক বলেন, যেখানে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সাধরন সম্পাদকই ছাত্রলীগের হাতে লাঞ্চিত হয় সেখানে সাধারন শিক্ষকরা কতটুকুই বা নিরাপদে থাকবে। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

Check Also

কুবি সাংবাদিক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান পালিত

মো শরীফুল ইসলাম,কুবি :– বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ...

Leave a Reply