৩৮ বছরেও শেষ হয়নি তিতাসের বারকাউনিয়ার ব্রীজের কাজ

তিতাস উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের বারকাউনিয়া গ্রাম সংলগ্ন বাতাকান্দি-মোহনপুর সড়কে বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিটি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে প্রায় ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। ছবি- নাজমুল
নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস :
স্বাধীনতার পরবর্তী ৩৮ বছরেও ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি তিতাস উপজেলার সাতানী ও জগতপুর ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের সাধারণ মানুষের। আজও উক্ত অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বারকাউনিয়ার বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে। ফলে আশেপাশের ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর অধিদপ্তর থেকে পর পর দুইবার ব্রীজটির টেন্ডার আহ্বায়ন করা হলেও একটি বিশেষ মহলকে টেন্ডার দেওয়ার জন্য তৃতীয়বার টেন্ডার আহ্বায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

বারকাউনিয়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ১৭০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকোর মাধ্যমে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে সাতানী ও জগতপুর ইউনিয়নের সাতানী, কৃষ্ণপুর, হরিপুর, আলমপুর, ফরিদপুর, রায়পুর, মজমেরকান্দি, প্রথম ও দ্বিতীয় স্বরসতীরচর, চরকুমারিয়া, তাতুয়াকান্দি, নয়াকান্দি, বারকাউনিয়া রামভদ্রা, দুর্ল্লভদ্রী মাছিমপুর, বৈদ্যারকান্দি, ভাটিপাড়া, মঙ্গলকান্দি, চাঁনপুর গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করছে। ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত এই বাঁশের সাঁকোটিই প্রমাণ করে স্থানীয় জনগণ ইউনিয়ন পরিষদের সুবিধা থেকে কতটুকু বঞ্চিত। প্রতিবছর উপজেলা পরিষদ থেকে বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে সাঁকো নির্মাণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের বরাবর বরাদ্দ দিলেও তার ছোঁয়া লাগেনি বারকাউনিয়া জনপথে।

চরকুমারীয়া বাজারের একজন ব্যবসায়ী জানান, উপজেলা সদর ও বাতাকান্দি বাজার থেকে সাধারণ জনগণ ও চর কুমারিয়া, কাঠালিয়া এবং সৎমেহেরবিবির বাজারের ব্যবসায়ীরা বর্ষা মৌসুমে নৌকাযোগে মালামাল বহন করতে পারলেও শুষ্ক মৌসুমে মালামাল সরবরাহে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, ইতিমধ্যে দুই বার বারকাউনিয়া ৫০ মিটার ব্রীজ নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বায়ন করা হয় এবং প্রথম ও দ্বিতীয়বার আওয়ামীলীগ সমর্থিত ঠিকাদার ব্রীজের টেন্ডারও পায়। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, একজন বিশেষ ব্যক্তি কাজটি বিএনপি সমর্থিত ঠিকাদারকে দেওয়ার জন্য কৌশলে তৃতীয়বার টেন্ডার আহ্বান করেন। এতে আওয়ামীলীগ সমর্থিত ঠিকারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে তিতাস উপজেলা প্রকৌশলী শাহ জাহান বলেন, ইতিমধ্যে তিনবার টেন্ডার আহ্বায়ন করা হয় এবং সর্বশেষ টেন্ডার ড্রপিং হয়েছে ৬ অক্টোবর কিন্তু তার কোন কাগজপত্র আমাদের অফিসে আসেনি অর্থ্যাৎ কাজটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ এর সাথে গতকাল শনিবার বিকালে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি মোবাইল কল রিসিভ করেননি।

Check Also

তিতাসে মেহনাজ হোসেন মীম আদর্শ কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

নাজমুল করিম ফারুক :— কুমিল্লার তিতাসে মেহনাজ হোসেন মীম আদর্শ কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠান গত শনিবার ...

Leave a Reply