ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় ১৩ ঘন্টর তীব্র যানজট

কুমিল্লা, অক্টোবর ২৩ (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় শুক্রবার স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়। এসময় মহাসড়কের দাউদকান্দির টোল প্লাজা থেকে কুমিল্লার আলেখারচর বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার রাস্তায় রাত ৩ টা হতে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত প্রায় ১৩ ঘন্টা যাবৎ তীব্র যানজট সৃষ্টির ফলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। এসময় যানজটে আটকে পরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ভিআইপি যাত্রী, ব্যবসায়ীসহ দূর-দূরান্ত থেকে ছেড়ে আসা বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসগুলো ।
জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার পুঠিয়া নামক স্থানে রাত ৩ টায় দুটি ট্রাকের মুখোমুখী সংর্ঘষ হয়। এর ফলে এই যানযটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলেও হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব রেকার না থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা হাজার হাজার গাড়ি যানজটে আটকে পড়ে মহাসড়কের উভয় পাশে। এর ফলে যাত্রীদের প্রচন্ড দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনা ও যানজটের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যানওয়া দাউদকান্দি, ইয়িটগঞ্জ ও ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা যানজট মুক্ত করতে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে পড়েন সকালে ৯ টায় কুমিল্লা শহর থেকে রেকার এনে ট্রাক দু’টি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিলেও ততক্ষণে মহাসড়কের দু’পাশ যানজটে আটকা পড়েছে হাজার হাজার যানবাহন। গাড়িগুলো সরিয়ে নেয়ার পর হাইওয়ে পুলিশসহ মহাসড়কের পাশের থানাগুলোতে কর্মরত পুলিশ যানজট নিরসনে এক যোগে কাজ শুরু করলে বিকাল ৪ টায় যানজট কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
ভয়াবহ এই যানজটের পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের হাইওয়ে পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব কোন রেকান না থাকার কারণে যানজট দীর্ঘায়ীত হয়েছে এছাড়াও ২০০৫ সালে হাইওয়ে পুলিশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাইওয়ে ফাঁড়িগুলো পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করার কোন অবকাঠামো ও সরঞ্জাম থাকাসহ যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের সংখ্যা না বাড়ানোর কারণে স্বল্প সংখ্যক পুলিশ দিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর বলে বলে তারা জানান। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ফিটনেসবিহীন ট্রাক, বাস, টেম্পো চলাচল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ, ট্রফিক আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ততক্ষণিক জরিমানা, যত্রতত্র বাস-ট্রাক থামানো বন্ধ করা গেলে যানজট সমস্যার সমাধান হবে। প্রতিদিন ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে চলাচলরত ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বলেন, ঢাকা থেকে কুমিল্লায় দেড়ঘণ্টার পথ এখন ৩ ঘণ্টায়ও পৌঁছা যায় না। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে সাধারণ কাজকর্ম সব এখন অচল হয়ে পড়েছে।
এদিকে ঢাকার সায়দাবাদ বাসটার্মিনাল ঘুরে এসে আমাদের সংবাদদাতা জানান, সকাল থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ঢাকা থেকে গন্তব্যে যাওয়ার বাস না পেয়ে অনেকে বাসায় ফিরে গেছে । দুপুর দুইটার পর কিছু বাস আসলেও সেগুলি যানযট এড়ানুর জন্য ভৈরব হয়ে কুমিল্লা ও চট্রগ্রাম যাচ্ছিল বলে অনেকে দীর্ঘ্য জার্নির কথা চিন্তা করে বাড়ি ফিরে গেছে ।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply