মুরাদনগরে উৎসবমূখর পরিবেশে বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠান উদযাপিত

মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর:
মুরাদনগর উপজেলায় এবার উৎসবমূখর পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী উদযাপিত হয়েছে। এ বছর মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের ১৪০টি পুজা মন্ডপে ব্যাপক আয়োজনে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়। কোথাও কোন রকম অপ্্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলার রামচন্দ্রপুর, কামাল্লা, মহেশপুর ও যাত্রাপুর গ্রামে জাঁকজমকভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে বিজয়া দশমী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। রোববার রাতে ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুর বাজারের ওই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ড. আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার সফিকুল ইসলাম, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হানিফ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম খান, সহকারী পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আমিরুল আলম, রহিমপুর অযাচক আশ্্রমের অধ্য ডা. যুগল ‏ব্রম্মচারী, শিল্পপতি আবুল হাসেম হাসু, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি সহিদ মিয়া, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি চন্দন রায়, উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক নিত্যানন্দ রায়, সহ-সভাপতি পার্থ সারথী দত্ত, সাধারণ সম্পাদক অরূপ নারায়ন পোদ্দার পিংকু, সহ- সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দেবনাথ, প্রচার সম্পাদক গৌরাঙ্গ দেবনাথ, স্থানীয় পূজা কমিটির সভাপতি খগেশ চন্দ্্র সাহা, সহ-সভাপতি সুনীল চন্দ্র সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সমীর বরন সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সফু মিয়া সরকার। এ ছাড়াও জনপ্রতিনিধি, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী লোকজন এতে যোগ দেন। আলোচনা শেষে প্রতিমা বাছাই করে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হয়। বৃটিশ আমল থেকেই শতাব্দীর প্রাচীন রামচন্দ্রপুর বাজারের এ স্থানে মুরাদনগর উপজেলাসহ হোমনা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা থেকে শতাধিক প্রতিমা জড়ো হয়। এ উপলে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে বিজয়া দশমীর এ মাঠে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। সারা রাত ব্যাপী চলে পূজা অর্চনার পালা। ঢাক-ঢোলের আওয়াজে মুখরিত হয় এ জনপদ। বিজয়া দশমী উপলে দশমীর মেলাও বসেছিল রামচন্দ্রপুরে। সোমবার ভোর রাতে তিতাস নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটে।
এ দিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বক্তারা উল্লেখ করেন যে, তাদের দীর্ঘদিনের দাবি বিজয়া দশমীতে প্রতিমা উঠা-নামা ও বিসর্জনের জন্য তিতাস নদীর ঘাটে ঘাটলা নির্মান ও দশমীর মাঠে মাটি ভরাট। জরুরী ভিত্তিতে ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুর বাজারের বিজয়া দশমীর মাঠ ভরাট ও প্রতিমা বিসর্জনের তিতাস নদীর ঘাটে ঘাটলা নির্মানের জন্য বক্তারা জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।
তাদের এ দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষনা করে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা অচিরেই রামচন্দ্রপুর বাজারের বিজয়া দশমীর মাঠ ভরাট ও প্রতিমা বিসর্জনের জন্য তিতাস নদীর ঘাটে ঘাটলা নির্মান করার আশ্বাস দেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...