গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্থানীয়করণ চাই

মমিনুল ইসলাম মোল্লা:
সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত ও প্রাণ। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ তাদের প্রতিনিধি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বাছাই করেন, এবং এসব প্রতিনিধির মাধ্যমে পরোভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিগণও একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচন না হওয়ায় একদিকে নির্বাচনী নিয়ম অমান্য হচ্ছে। অপরদিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও মতায় থাকার অন্যায় আকাংখা পাকাপোক্তভাবে উৎসাহিত হচ্ছে। এসব বাংলাদেশের খুবই দূর্বল গণতন্ত্রের জন্য এক্কেবারেই তিকর। সে দিকে কি আমরা ল্য রাখছি?
সবাই জানেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন দলীয় মার্কায় ও নির্দলীয় মার্কায় (অর্থাৎ প্রত্যেক স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিজস্ব মার্কায়) অনু্িষ্ঠত হয়ে থাকে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় মার্কায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বলে দলীয় মনোনয়নে দলীয় মার্কায় কোনও প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন না। অর্থাৎ এ নির্বাচনে কোনও প্রার্থী তার পোস্টার, ব্যানার, কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে প্রচার করতে গিয়ে দলীয় পরিচয়ে মার্কা ব্যবহার করতে পারেন না। এবারও আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে তার ব্যতিক্রম হচ্ছেনা বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন বলছে-কোন প্রার্থী নির্বাচনী পোস্টারে প্রার্থীর ছবি ও নির্বাচনী প্রতিকের বাইরে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীর ছবি বা দলের নাম ব্যবহার করতে পারবেনা। প্রশ্ন হল, জাতীয় সংসদের নির্বাচনের মত স্থানীয় স্তরে নির্দলীয় মার্কায় নির্বাচনের পাশাপাশি দলীয় মার্কায় স্থানীয় নির্বাচন হলে অসুবিধা কোথায়? রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড কি শুধু জাতীয় সংসদ কেন্দ্রীক থাকবে? শুধু নির্দলীয় মার্কায় নির্বাচনের পে কিছু সমর্থন থাকলেও দলীয় মার্কায় নির্বাচন হোক-এ মতের পে বিপুল সমর্থন রয়েছে। কিছুদিন আগেও বিতর্কটা বেশ জোরে-শোরে চলছিল। এর একটি তাৎপর্যপূর্ণ সমাপ্তির প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
স্থানীয় জনসাধারণের সেবা ও উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্রের ভিত হিসেবে স্বশাসিত ও স্বাবলম্বী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশে তা নেই বলে বিদ্যমান স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। এই অবস্থার অবসান হওয়া তো খুবই জরুরী নয় কি? দীর্ঘদিন ধরে এ উপমহাদেেেশ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। তবে এর আকার আয়তন, রূপরেখা এক রকম ছিলনা, নেই। কেন্দ্রীয় সরকার (নির্বাচিত ও অনির্বাচিত) তাদের সুবিধা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার গঠন করেছে। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের তাঁবেদার এজেন্ট শ্রেণীতে পরিণত করেছে। এই এজেন্ট ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি বাছাইয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। নির্বাচনের নিয়ম কানুনও সবসময় এক রকম ছিলনা, নেই। সময়ের পরিপ্রেেিত এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী এর রূপ পরিবর্তিত হয়েছে। বাংলাদেশের শুরু থেকেই এ নির্বাচনকে দলীয় পরিচয়মুক্ত রাখা হয়। বর্তমান বিশ্বে রাজনৈতিক দলবিহীন গণতন্ত্র পানিবিহীন পুকুরে মাছ চাষের মতো। পানি থেকেই মাছ অক্্িরজেন পায়। পুকুরের মাছ বাসায় এনে পাতিলে জিইয়ে রাখলে, মারা না গেলেও প্রাণবন্ত থাকেনা। সুতরাং জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনেও দল ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকা উচিত। অন্যথায় তাকে গণতান্ত্রিক পূর্ণাঙ্গতা বলা যাবে না।
বাংলাদেশে স্বারতার হার বাড়ছে। তবে প্রকৃত শিেিতর হার আশানুরূপ নয়। এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ ভোটার প্রভাবিত হয়ে ভোটদান করেন। ভোটারগণ রাজনৈতিক দল, ধর্ম, মার্কা, অর্থ ইত্যাদির মাধ্যমে প্রভাবিত হন। কেউ কেউ হয়তো বলবেন, সবাইতো আর প্রভাবিত হন না, কেউ কেউ হন। এেেত্র মনে রাখতে হবে, একজন নাগরিকের একটি মাত্র ভোট দেবার অধিকার রয়েছে। একজন মাস্টার ডিগ্রী পাস লোকের ভোটের যে মূল্য একজন অশিতি লোকের ভোটের মূল্যও একই। এছাড়া উচ্চ শিতি ভোটাররাও অনেক সময় দলীয় ভিত্তিতে ভোট দিয়ে থাকেন। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু নির্দলীয়ভাবে করার পেছনে কোন জোরাল যুক্তি নেই।
বাংলাদেশের বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের বিপুল সমর্থন রয়েছে। এ ধরনের ব্যবস্থায় জনসাধারণের প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ সুবিধা রয়েছে। দ্বি-দলীয় ব্যবস্থার দেশে জনগণ দুটি দলের একটি দলকে ভোট দিতে বাধ্য হয়। তৃতীয় কোনও দলকে ভোট দেয়ার কোন সুযোগ থাকেনা। এেেত্র বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। কারণ, বাংলাদেশে অন্য সবকিছুর অভাব থাকলেও রাজনৈতিক দলের কোন অভাব নেই। “এক নেতা, এক দল” সহ বাংলাদেশে দুই শতাধিক রাজনৈতিক দল বর্তমানে অবস্থান করছে। তাই ইউনিয়ন নির্বাচন দলীয় ও নির্দলীয় মার্কায় হলে জনগণ তাদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিয়ে তাদের চাহিদা পূরণ করতে সম হতো।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আঞ্চলিকভাবে হওয়ায় আঞ্চলিক বৈষম্য বাড়ছে। কয়েকটি গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন গঠিত।্ এর মধ্যে সকল গ্রামের আয়তন সমান নয়। কোনও কোনও গ্রামের আয়তন অন্য ৪/৫টি গ্রামের সমান।্ এমনও দেখা গেছে একটি ইউনিয়নের ১ টি গ্রামের জনসংখ্যা বাকী সকল গ্রামের জনসংখ্যার সমান। এেেত্র একটি গ্রামের লোকজন মিলে একজন লোককে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করালে সে অনায়াসে জয়লাভ করতে পারে। ফলে একদিকে একটি গ্রাম ্ওবং অন্যদিকে বাকী সবগুলো গ্রাম জোটবদ্ব হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। তখন গ্রামে গ্রামে কোন্দল সৃষ্টি হয়। এ কোন্দল শুধু নির্বাচন পর্যন্তই যে সীমাবদ্ব থাকে তা নয়, এটি দীর্ঘদিন চলতে থাকে। নির্বাচনে হয়তো ঐ বড় গ্রামের প্রার্থীটি জয়লাভ করলো, তখন বাকী গ্রামগুলোর লোকজন তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন না। কেউ কেউ প্রকাশ্যেই বলে বেড়ান, সে তো অমুক গ্রামের চেয়ারম্যান, তাকে আমরা সম্মান দেখাবো কেন?
এক সময় একই গ্রামের লোকজনের মধ্যে যে মিল-মহব্বত ছিল এখন তাতে ভাঁটা পড়েছে। ফলে বড় বড় গ্রমগুলোতে নেতৃত্বের দ্বন্ধ প্রকট। একটি গ্রামে বহু বংশ/গোষ্ঠির লোক বাস করে। এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর তুলনায় নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করে। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ বিবাদ আরো চাঙ্গা হয়। ফলে গ্রামের মধ্যে অমিল, বিবাদ-সংঘর্ষের সুচনা হয়। যা যুগ যুগ ধরে চলে। ইদানিং পত্র-পত্রিকার পাতা উল্টালেই আমরা দেখি গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অমুক গ্রামে সংঘর্ষ, নিহত এত জন। এটি মূলত নির্দলীয় ইউপি নির্বাচনের ফল। সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই প্রার্থীরা প্রস্তুত থাকেন। তারা আগে থেকেই হিসেব করে রাখেন অমুককে সরাতে না পারলে আমার সুবিধা হবেনা। ফলে আগে থেকেই নীলনক্সা করে রাখেন। ইউপি নির্বাচন দলীয় মার্কায় হলে গোষ্ঠীগত সংঘর্ষ কমানো যেত। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রামে গ্রামে যে বিবাদ সংঘর্ষ শুরু হয় তা শুধু রাজনৈতিক সমস্যারই সৃষ্টি করেনা; এটি বহুমুখী সমস্যার জন্ম দেয়। একটি ইউনিয়নে যদি ১৫ টি গ্রাম থাকে তাহলে সকল গ্রামেই কিন্তু স্কুল থাকেনা। সরকার প্রতি গ্রামে যদি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে তাহলে এক গ্রাামের ছেলে মেয়ে অন্য গ্রামে হয়তো যেতে হবেনা। প্রাথমিক শিা লাভের পর তাদেরকে অবশ্যই হাই স্কুল বা কলেজে পড়ার জন্য অন্য গ্রামে যেতে হবে। ফলে নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট বিবাদ শিােেত্রও বাধার সৃষ্টি করে। একটি ইউনিয়নে হয়তো ২/১টি হাট-বাজার থাকে। এক গ্রামের লোক অন্য গ্রামে গিয়ে কেনাবেচা করে। নির্বাচনী বিবাদ এতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে।
শুধু তাই নয়, এমনকি ছেলে-মেয়ে বিয়ে দেয়ার েেত্রও দেখা যায় একজন অন্যজনকে বলছে-চেয়ারম্যান নির্বাচনের সময় তোমরা কি ব্যবহার করেছ দেখেছি; তোমাদের সাথে আমাদের আত্মীয়তা চলেনা। সুতরাং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অরাজনৈতিক করায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সংহতি বৃদ্ধি না পেয়ে বরং কমছে এবং তা অধিকাংশ েেত্রই সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনের মত, রাজনৈতিকভাবেও হওয়া উচিত। বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দল থাকলেও নিবন্ধিত দলের সংখা বেশি নয়। এসব রাজনৈতিক দলের মধ্যেও তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন রয়েছে হাতে গোণা কয়েকটি দলের। দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পারবে। বাংলাদেশের জনগণ রাজনৈতিকভাবে সচেতন নন। আমাদের দেশে মূলত শহরকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রচলিত। রাজনৈতিক দলগুলোর গ্রামভিত্তিক ইউনিটগুলো সক্রিয় নয়। স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় হবার পাশাপাশি দলীয় ভিত্তিতে হলে স্থানীয় রাজনৈতিক ইউনিটগুলো আরও চাঙ্গা হতো। অতীতের কয়েকটি নির্বাচনের দিকে ল করলে দেখা যায় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে ইউপি নির্বাচনে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, গোলাগুলিও বোমাবাজি বেশি হয়েছে। নিজস্ব গোষ্ঠি বা গ্রামের প্রার্থীকে পাশ করানোর জন্য তারা মরিয়া হয়ে ওঠে। তখন তাদের ন্যায়-অন্যায় জ্ঞান থাকেনা। যে করেই হোক তাদের প্রার্থীকে পাস করাতে চায়। এই সেন্স নিয়ে তারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে। ফলে প্রতিদ্ব›দ্ধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। অথচ দলীয় ভিত্তিতে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা গেলে এত বেশি গন্ডগোল হতোনা বলে মনে হয়।
গত ইউপি নির্বাচনে মেম্বার, চেয়ারম্যান ও মহিলা মেম্বার পদে প্রতিদ্ব›িদ্ধতা করেছিল প্রায় আড়াই লাখ প্রার্থী। তাদের অধিকাংশই প্রত্য অথবা পরোভাবে দলীয় সমর্থনপুষ্ট ছিল। এবছরও তার ব্যতিক্রম হচ্ছেনা। নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে চাইলেও সরকারি ও বিরোধী দল একে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে। গ্রাম এলাকায় একজন চেয়ারম্যানের প্রভাব অনেক বেশি। র্আ ঐ চেয়ারম্যানটি যদি দলীয় লোক হয় তাহলে দলের নেতা-কর্মীদের অনেক সুবিধা হয়। তাই রাজনৈতিক দলগুলো এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত। নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। যদিও একই ইউনিয়নে একই দলের পরিচয়ে বহু প্রার্থী ভোটারদের সাথে সালাম বিনিময় করছে। কিন্তু দলগুলো চাচ্ছে প্রতি ইউনিয়নে যাতে মাত্র একজন প্রার্থী থাকে। তাই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বশিভুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কাউকে আগামী নির্বাচনের স্বপ্ন দেখিয়ে কাউকে অর্থের বিনিময়ে আবার কাউকে ভয় দেখিয়ে ম্যানেজ করা হচ্ছে। অর্থাৎ সরকারিভাবে দলীয় পরিচয় নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো একে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে; এবং এ চ্যালেঞ্জে কেউই হারতে চায়না। রাজনৈতিক পরিচয়ে ইউপি অথবা পৌরসভা নির্বাচন এখন ওপেন সিক্রেট মাত্র। জনগণ যেহেতু চায় সেহেতু একে সিক্রেট রাখার প্রয়োজন রয়েছে কি?
আমরা ২০২০ সালের মধ্যে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দেখতে চাই। তাই গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাপনা জাতীয় ও স্থানীয় স্তরে একসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিকতা দেয়ার কাজ এগিয়ে নিতে হবে। সেজন্য স্থানীয় সরকার গবেষক ও সিডিএলজি’র নির্বাহী পরিচালক আবু তালেব “গণস্বপ্ন ২০২০” উপস্থাপিত করেছেন। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু নির্দলীয়ভাবে হওয়ায় প্রতিটি গ্রামে-পারায় কিছু কিছু কিকবাজ বা টাউট শ্রেণীর লোকের সৃষ্টি হয়েছে। তারা নিজেদেরকে গ্রাম্য এলিট, অথবা মোড়ল/মাতাব্বর হিসেবে দাবী করেন। তাদের কথা বাদে নাকি গাছের পাতাও নড়েনা। গলির মোড়ের কিংবা গাঁয়ের বাজারের চা দোকানগুলো তাদের কুটবুদ্ধির প্রাণকেন্দ্র। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে চাইলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও জাতীয় সংসদের নির্বাচনের মত দলীয় ও নির্দলীয়ভাবেই করা প্রয়োজন। তা করা হলে ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’ অনুযায়ী ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্থানীয়করণ’ প্রক্রিয়ার একধাপ অগ্রগতি সাধিত হবে এবং এই বিষয়টি ব্যাপকতর পরিসরে দেখতে হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...