তিতাসের চররাজাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ধ্বসে পড়ছে : শিমের মাচার নিচে ক্লাশ করছে দু’শতাধিক শিক্ষার্থী

তিতাসের চররাজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিম গাছের মাচার নিচে বসে পরীক্ষা দিচ্ছেন
নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস :
তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি ইউনিয়নস্থ চররাজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের আস্তর ক্রমশ ধ্বংসে পরে লোহার অংশ বেড়িয়ে আসছে। দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যালয়ের প্রায় দু’শতাধিক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী দু’টি বাড়ীর উঠানে শিম গাছের মাচার নিচে ক্লাশ করছে। ফলে স্বাভাবিক আবহাওয়ায় ক্লাশ চললেও বৃষ্টিতে শ্রেণী কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চররাজাপুর গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। চররাজাপুর ও তিতাস নদী নতুন চরের প্রায় দু’শতাধিক শিক্ষার্থী উক্ত বিদ্যালয়ের লেখাপড়া করছে। অন্যান্য গ্রাম থেকে চররাজাপুর গ্রামটি আলাদা থাকায় বাধ্য হইয়ের কমলমতি শিশুরা উক্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেলো স্কুলের পশ্চিম ও পূর্ব পাশের দু’টি বাড়ীর শিম গাছের মাচার নিচে ছেলে-মেয়েরা দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা দিচ্ছে। বিদ্যালয়টির ভবনের ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি রুমের আস্তর ধ্বংসে পড়েছে, লোহার অংশ বেড়িয়ে এসেছে। বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, যে কোন মুহুর্তে সমস্ত ভবনটি ধ্বংসে পড়তে পারে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ গণি সরকার জানান, এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থা খারাপ থাকায় যে কোন মুহুর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তাই কষ্ট হলেও বাহিরের ক্লাশ করতে হচ্ছে। শিক্ষক স্বল্পতার ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক বলেন, আমার সাথে সহকারী শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার আছে; নতুন নিয়োগে বাকি দু’টি পদ পূরণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি ফজর আলী খায়ের বলেন, এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে ভবনটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসের সরকার বলেন, বিদ্যালয়টির অবস্থা সম্পর্কে আমি জেনেছি। ঝুঁকি এড়াতে অন্যত্র ক্লাশ করানো জন্য বলা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। চররাজাপুর গ্রামের বর্তমান মেম্বার মনিরুজ্জামানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের বাহিরে ক্লাশ করার কথা শুনেছি। যত শীঘ্রই সম্ভব আমি নিজে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিদ্যালয়ের সামনে একচালা টিনের সীট তৈরী করে দেব, যাতে আপাতত শিক্ষার্থীরা ক্লাশ করতে পারে।
এদিকে চররাজাপুর, চরেরগাঁও ও তিতাস নদী নতুন চরের প্রায় আট’শতাধিক ভোটার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য উক্ত বিদ্যালয়টিকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চররাজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত বা নির্মাণ করা না হলে কেন্দ্রটি অন্যত্র চলে যাওয়ার আশংকা করছে গ্রামবাসী।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply