কুমিল্লায় যুবদলের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গুলি বিনিময় ॥ পুলিশসহ আহত ৩০ ॥ আটক ১৫

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা::
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিবদমান ইয়াসিন-সাক্কু গ্রুপে সংঘর্ষ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি বিনিময়সহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। রবিবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কান্দিরপাড় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ও টিয়ার সেল নিপে করে। সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপে ৩০ জন আহত হয়। পুলিশ ১৫ জনকে আটক করেছে এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে বিবদমান দু’গ্রুপের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর কুমিল্লা টাউন হল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় জেলা দক্ষিণ যুবদলের সম্মেলন।
পুলিশ, দলীয় সূত্র ও প্রত্যদর্শীরা জানায়, গতকাল রবিবার কুমিল্লা টাউন হল মিলনায়তনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সম্মেলনকে ঘিরে বিএনপির হাজী ইয়াসিন ও মনিরুল হক সাক্কু গ্রুপের প থেকে কাংখিত পদ পেতে পৃথক দু’টি প্যাণেল দেয়া হয়। বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সম্মেলনস্থলে প্রবেশের সাথে সাথে দু’গ্রুপে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে কালো মুখোঁশ পরিহিত অবস্থায় উভয় গ্রুপের দলীয় ক্যাডারদের মধ্যে এলোপাতারি গুলি বিনিময় শুরু হয়। এ সময় সম্মেলনস্থলে আগত কর্মীরা একে অপরকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। সংঘর্ষে কান্দিরপাড়সহ আশপাশের এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ওই দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকাটি রীতিমত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় বিবদমান দু’গ্রুপের অস্ত্রধারী ক্যাডারদের কাছে পুলিশকে অনেকটা অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কোতয়ালী থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও ২০ রাউন্ড টিয়ার সেল নিপে করে। তিনি জানান, এর আগে কান্দিরপাড় এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরী রিভলবার, ২টি ছুরি ও সম্মেলনস্থলে প্রবেশের সময় তল্লাশী চালিয়ে এক কর্মীর সঙ্গে থাকা ১ কেজি মরিচের গুড়া উদ্ধার করা হয়। সংঘর্ষে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শাহজাহান কবীর, এসআই মোছাদ্দেকুল মাওলা, শ্যামল চক্রবর্তী ও ১ জন হাবিলদারসহ ৪ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ বিবদমান দু’গ্রুপের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধসহ মারাত্মকভাবে আহত মিলন (২২), সাদমান (১৮), ফেরদৌস (৪০), রাসেল (২০), জামাল হোসেন (৪৫)কে কুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গুলিবিদ্ধ মিলন ও ফেরদৌসকে কুমেক হাসপাতালে ভর্তির পর আশংকাজনক অবস্থায় তাদেরকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিকাল পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- সুমন, মোস্তাফিজ, হৃদয়, পাভেল, রকিবুল, জহির, আনু, রুবেল, ফিরোজ, রিপন (১), রণি, রিপন (২), আবুল হাসান, মনির ও এয়াছিন।
এদিকে, সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নীরব। জেলা দণি যুবদলের আহবায়ক আমিরুজ্জামান আমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এড. আবদুস সালাম আজাদ, জেলা যুবদল নেতা আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম প্রমুখ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সম্মেলন চলছিল। এর আগে শনিবার সন্ধ্যা থেকে দু’গ্রুপই ব্যাপক শো-ডাউনের প্রস্তুতি নেয়। এ অবস্থায় সম্মেলন স্থলে আধিপত্য বিস্তারের জন্য ইয়াসিন গ্র“প শহরের লাকসাম সড়কে এবং সাক্কু গ্রুপ কান্দিরপাড়স্থ দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। রাতে উভয় গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে মিছিল, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন উপলে দু’গ্রুপের নির্মিত তোড়ন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা। প্রসঙ্গত ১৯৯৩ সালে জেলা যুবদলের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

Check Also

কুমিল্লায় ট্রাক উল্টে ৭ নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু॥ ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

মো. জাকির হোসেন :– কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি টিনবাহী ট্রাক উল্টে ৭ জন নির্মাণ শ্রমিকের ...