আবারো ফিরে আসছেন সেই বিতর্কিত শিক্ষক কাজী জাহিদ !!


স্টাফ রিপোর্টার :
যার মাধ্যমে রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি, শুরু হয়েছিল অরাজকতা, সেই বিতর্কিত ও বহুল আলোচিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমান আবারো ফিরে আসছেন। গত জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অব্যাহতিপত্র জমা দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। আবারো ফিরে আসতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সহযোগী অধ্যাপক পদে আবেদন করেন বলে সংস্লিস্ট সূত্র থেকে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কাজী জাহিদুর রহমান ২০০৯ সালের ৩ মার্চ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দেন। প্রায় দের বছর চাকরী করার পর গত জুলাই বহু বিতর্কের জন্ম দিয়ে, রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে ছাত্র শিক্ষক রাজনীতি চালু করে, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করে গত জুলাই মাসে অভ্যাহতি পত্র জমা দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগ দেন। তার যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাবি কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড.শামিম আহমদ। কিন্তু তার অব্যাহতির বিষয়টি নিয়ে ধুম্রজাল পাকাচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তার অব্যাহতির বিষয়টি সম্পূর্ন এড়িয়ে যান ভিসি ড.আমির হোসেন খান। তিনি বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের কাছে তার অব্যাহতির বিষয়টি অস্বীকার করেন। অথচ রাবির ডায়েরিতেও কাজী জাহিদুর রহমানের নাম ও মোবাইল নাম্বার রয়েছে।
এদিকে গত ২৫ আগষ্ট প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর আবারো সহযোগী অধ্যাপক পদে আবেদন করেন বলে জানা যায়। অথচ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া দুটি শর্তের কোনটিই তার সম্পন্ন নেই। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড.আলাউদ্দিন আহমেদের অস্থাভাজন হওয়ায় বর্তমান ভিসি তাকে নিয়োগ দিতে তৎপর বলে জানা যায়। তিনি চলে যাওয়ার পরও বর্তমান ভিসি তাকে আবারো ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে তিনি যে সকল দায়িত্বে ছিলেন সকল দায়িত্বই শূন্য রেখেছেন। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে প্রভোষ্টের পদ এখনো খালি। বিভাগীয় প্রধানের পদটি এতদিন খালি ছিল। কয়েকদিন আগে বিভাগের অপর শিক্ষক মাহফুজুর রহমানকে বিভাগীয় প্রধানের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ম দিকে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টার কাছের লোক হওয়ায় তাকে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ৩ মার্চ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই জড়িয়ে পরেন নানা বিতর্কে। নিজেকে উপদেষ্টার লোক বলে সবক্ষেত্রেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেড়ান। এক পর্যায়ে তৎকালীন ভিসি ড.জেহাদুল করিমের সাথে শুরু হয় মতবিরোধ। ২০০৯ সালের ১০ আগষ্ট দুপুর আড়াইটায় বিভাগের নাম পরিবর্তন নিয়ে সাবেক ভিসির সাথে তার কক্ষে অসদাচরন করেন। এ নিয়ে তার বিরোদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং শোকজও করা হয়। একই বছর ৬ অক্টোবর ভর্তির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে তার নের্তৃত্বে কতিপয় শিক্ষক ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি ফরম বিতরন বন্ধ করে দেয়। একই দিন রাতে তিনি একটি রাজনৈতিক গ্র“পের নেতৃবৃন্দের সাথে ভিসি বিরোধী আন্দোলন নিয়ে গোপন বৈঠক করেন। পরদিন ৭ অক্টোবর ছাত্রলীগের এক গ্র“প ভিসির পদত্যাগ দাবীতে আন্দোলনে নামে। এদিন দুপুরে তিনি শিক্ষকদের একটি গ্র“প নিয়ে ভিসি ও দুই জন সিন্ডিকেট সদস্যকে আটকে রেখে ভিসির কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। গত ৫জুলাই ভিসি, শিক্ষক ও আন্দোলনরত ছাত্রদের নিয়ে বৈঠক চলাকালে কাজী জাহিদুর রহমান উত্তেজিত হয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে কলম ছুড়ে মারেন। নিয়োগ বোর্ডের প্রভবিশালী সদস্য হওয়ায় দারোয়ান পদে চাকরী দেয়ার নামে স্থানীয় আওয়ামীলীগ কর্মী আব্দুস সাত্তারের নিকট থেকে এক লক্ষ টাকা ঘুষ আদায় করেন বলে আব্দুস সাত্তার অভিযোগ করেন। এ সংবাদ দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় প্রকাশ হয়। প্রভাবশালী এ শিক্ষককে খুশি করতে সকল প্রমানাধি থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইনকিলাব প্রতিনিধি মাসুদ মুন্সীকে ৬ মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করে। এছাড়া সকল নিয়োগের সদস্য হওয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাবিতে নিয়োগ পাওয়ার পরেও গত ২ জুলাই রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে তার নের্তৃত্বে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ গঠন করা হয়। নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদেরকে বাধ্য করিয়ে পরিষদের সদস্য করানো হয়। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে তিনাট গ্র“প প্রকাশ্য রুপ লাভ করে। এমনকি ক্লাস চলাকালীন সময়ে ক্লাস বন্ধ রেখে শিক্ষকরা পরিষদের মিটিং এ হাজিরা দিতে হয়। অন্যথায় তাদেরকে নানাভাবে হেনস্থা করা হয়। এছাড়াও রাবির ছাত্র থাকাকালীন অবস্থায় তিনি জঙ্গি সংগঠন আহলে হাদীসের অন্যতম সহযোগী ছিলেন বলে এমন সংবাদ শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাকে বিভিন্ন সময় শহরে রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের সাথে মিটিং করতেও দেখা গেছে। রাবিতে যোগদানের পর তিনি ফেইসবুকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কটুক্তিমুলক স্ট্যাটাস লিখতেন। তিনি লিখতেন নরকখানা থেকে চলে এসেছি, আর ফিরে যেতে চাই না। ওই নরকখানায় জীবনের ১৬ টা মাস ধ্বংস করে এসেছি। কিন্তু এখানেই আবার আবেদন করায় সবারই প্রশ্ন আবার কেন নরকখানায় ফিরে আসতে চায় ?
কাজী জাহিদুর রহমান আবারো আবেদন করেছেন এ কথা ক্যাম্পাসে জানাজানি হলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এ কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমান ভিসি ও কতিপয় শিক্ষক কুমিল্লা বিদ্বেসী কর্মকান্ডে লিপ্ত। কাজী জাহিদ তাদেও মাঝে অন্যতম। তার মত বিতর্কিত শিক্ষককে যদি ফিরিয়ে আনা হয় তাহলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কল্যাণজনক নয় বরং ক্ষতিই হবে।
এ ব্যপারে কাজী জাহিদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায় নি।

Check Also

কুবি সাংবাদিক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান পালিত

মো শরীফুল ইসলাম,কুবি :– বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ...

Leave a Reply