নিন্মচাপের প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাত ও জলোচ্ছাস : সারাদেশে জনজীবন বিপর্যস্ত


দেশ ও জনপদ, ৮ অক্টোবর, (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বৈরী আবহাওয়া শুক্রবারও অব্যাহত রয়েছে। সাগর উত্তাল। উপকূলজুড়ে বিরাজ করছে জলচ্ছ্বাস আতঙ্ক। টানা বর্ষণ আর ঝড়ো হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণ আর ঝড়ো হাওয়ায় ব্যহত হচ্ছে জনজীবন। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে পটুয়াখালী, বরগুনা, বাগেরহাট, কক্সবাজার, নোয়াখালী ও ভোলাসহ উপকূলীয় জেলার দ্বীপ ও চরাঞ্চল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানায়, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, চাঁদপুর, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পাঁচ থেকে সাত ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বরগুনায় কমপক্ষে ৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছে অর্ধশতাধিক।এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় মংলার কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এটি বরিশাল, নোয়াখালী ও তদসংলগ্ন এলাকায় স্থল নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের সন্ধ্যা ছয়টার বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট বেশি উচ্চ জলোচ্ছ্বাসে শুক্রবার তলিয়ে গেছে উপকূলীয় জেলা বরগুনা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী ও ভোলা। জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ।
তবে হালকা বৃষ্টিপাত ছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তেমন কোন বিরূপ আবহাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মতো রাজধানী ঢাকাতে নিম্নচাপের ফলে টানা বর্ষণে এরই মধ্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নগর জীবন। নগরীর অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই রাস্তা-ঘাট ছিল একেবারে ফাঁকা।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজারসহ উপকূলীয় জেলায় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানোনো হয়েছে, নিম্নচাপ ও অমাবশ্যার প্রভাবে সাগর ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। নিন্মচাপের প্রভাবে শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বরগুনায় টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে শহরের রাস্তা-ঘাটসহ শতাধিক গ্রাম ও ১০টি চর প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা। নিম্নচাপের প্রভাবে বরগুনাসহ উপকূলীয় এলাকায় ভারিবর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৬/৭ফুট বৃদ্ধি পেতে পারে। সিপিপির পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের চরকলোনীতে পানিতে ডুবে শাথিন নামের পাঁচ বছরের এক শিশু মারা গেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে অবিরাম বর্ষণে বরগুনার বিষখালী বলেশ্বর ও পায়রা নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৭/৮ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় বরগুনার পুরাকাটা-আমতলী ও বড়ইতলা-বাইনচটকি ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে তলিয়ে যানচলাচল চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের সদর রোড ছাড়া বাকি সবগুলো রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি ঢুকে পড়ায় শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। জেলার সবগুলো মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বেড়ি বাঁধের বাইরে বসবাসকারীদের বাড়ি-ঘর তলিয়ে গেছে। কুমিরমারা, নিশানবাড়িয়া, গাজী মাহামুদ, গুলিশাখালী চালিতাতলী, লতাকাটা,গোলবুনিয়ায় বেড়ি বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে আমতলীর উত্তর টিয়াখালী ও শাখারিয়ায় শুক্রবার ভোরে টর্নেডো আঘাতে জগদিশ ধুপির ছেলে নবেন ধুপি নামে এক শিশু ও আঠারগাছিয়ায় হারুনের স্ত্রী মিনার (২৫) মারা গেছে।
টর্নেডোর আঘাতে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ১০ জনকে আমরী হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক ঘর-বাড়ি। আমতলীর শারিকখালী, বাদুরগাছা, ঝাড়াখালী এলাকায় বেড়ি বাঁধ না থাকায় ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। সকালে বঙ্গোপসাগরের তালতলী মোহনায় আমতলীর এফবি আজমেরী নামক একটি ট্রলার ডুবে ২ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।
পাথরঘাটার পদ্মা গ্রামের স্লুইজ ও সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত ভাঙল, পাথরঘাটার জিয়ামাঠ সংলগ্ন এলাকা, চরলাঠিমারা, হরিণঘাটা, কালমেঘা, কুপদোন, কাকচিড়া, কাঠালতলী, চরদুয়ানী এলাকায় বেড়ি বাঁধ ভেঙে বলেশ্বর ও বিষখালীর পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তির্ণ এলাকা। হাজার হাজার মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিয়েছে। আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বরগুনা জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় একটি অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং প্রতি উপজেলায় শুকনা খাবার সরবরাহ করা হলেও যোগাযোগে বন্ধ থাকায় পাথরঘাটায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান আমতলীর টর্নেডো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন। এদিকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে।
বরগুনা জেলা ট্রালার মালিক সমিতিরি সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী জানান, সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরা সকল নৌকা ও ট্রলার আশারচর, কুয়াকাটা, মহিপুর, ফকিরের হাট, চরদুয়ানী ও পাথরঘাটা বন্দরে অবস্থান করছে। এখন পর্যন্ত ৭০ জেলেসহ ৫টি ট্রলার নিখোঁজ রয়েছে। তবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
বিরতিহীন বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকায় বরিশালের সার্বিক পরিস্থিতরি আরো অবনতি হয়েছে বলে জানা গেছে, নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলা সদরের মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী ও বাবুগঞ্জের অন্তত একশটি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্রে প্রকাশ, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ১৩৬ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া খারাপ আবহাওয়া ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বরিশাল ও পটুয়াখালীর অভ্যন্তরীণ রুট ছাড়াও বরিশালের সঙ্গে বিভিন্ন রুটের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

ভোলায় মেঘনা ও তেঁতুলি নদীর পানি বেড়ে জেলার কমপক্ষে ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবিন্দ হয়ে পড়েছে প্রায় এক লাখ মানুষ। এছাড়া ঝড়ো হাওয়ার কারণে চরফ্যাসনের কয়েকশ’ কাঁচা বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ভোলার সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের চৌদ্দগ্রামে টর্নেডোর আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে ৩৯টি ঘর। শ্যামনগর উপজেলার আইলা উপদ্রুত পদ্মপুকুর ইউনিয়নের রিংবাদ ধসে পড়ায় ওই ইউনিয়নের কামালকাটি, পাখিমারি, বাইমতলাসহ ১০টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। অস্বাভাবিক জোয়ারে বেড়ি বাঁধের একাধিক স্থলে পানি প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এছাড়া বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দেয়ায় চরম আতঙ্কে দিন যাপন করছেন এ এলাকার বাসিন্দারা।

অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি ও প্রবল বৃষ্টিতে পটুয়াখালী জেলা শহরের পুরানবাজার, চরপাড়া, বনিক পট্টির মানুষ প্লাবনের শিকার হয়েছে। উপকূলের রোপা আমন ক্ষেত তলিয়ে গেছে। সাগর ও নদীবেষ্টিত উপজেলা গলাচিপার নিম্নাঞ্চলের বেড়ি বাঁধবিহীন ১১টি চরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় বেড়ি বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে চরের মানুষ। পানির তোড়ে ভেসে গেছে নিম্নাঞ্চলের ৩ শতাধিক মাছের ঘের। তবে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।এদিকে অতিরিক্ত পানিতে কুয়াকাটার মহিপুর, হাজিপুর, কলাপাড়া, বগা, লেবুখালী, গলাচিপা, পায়রা ফেরীঘাটের গ্যাংওয়ে ও পন্টুন ডুবে যাওয়ায় জেলার অভ্যন্তরীণ রুটসমূহে বাস চলাচল সাময়িক বন্ধ রয়েছে। বাউফল-দশমিনা সড়কের দেবে যাওয়া শৌলা ব্রিজটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. ইউসুফ জানিয়েছেন, জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ আছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ইউএনও, ইউপির জনপ্রতিনিধিদের ও রেডক্রিসেন্ট কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় অস্বাভাবিক জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি অঞ্চলের বেড়ি বাঁধ ভেঙে শ’ শ’ ঘর-বাড়ি, পুকুর ও চিংড়ি ঘের ডুবে গেছে। কক্সবাজার থেকে সাগরে মাছ ধরতে গেয়ে নিখোঁজ ট্রলারগুলোর ২৫টি বাদে বাকি সবকটি ট্রলার তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ধলাঘাট, টেকনাফের বেড়ি বাঁধ ভেঙে আজ নতুন করে তিনটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে গেছে বলে জানা গেছে । এতে অবস্থানকারী ২৮ জনের মধ্যে ৫ জন প্রাণে বাঁচলেও অপর ২৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। ট্রলারের মালিক জয়নাল জানিয়েছেন, নিখোঁজদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ৯ টা পযর্ন্ত ৩ ঘণ্টায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি খুলনায় এখন পর্যন্ত এ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
এগিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আজ শুক্রবার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাতটি রুটে (লেত্রা, দৌলতখাঁ, চরফ্যাশন, হাতিয়া, লালমোহন, বরগুনা ও ভোলা) সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ঢাকা নদী বন্দরের নৌযান পরিদর্শক মো. সুলেমান জানান, ঢাকা নদী বন্দরে দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত থাকায় এ সাতটি রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঢাকা নদী বন্দর সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ৪০ থেকে ৪৫টি লঞ্চ আসা-যাওয়া করে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আজ মাত্র ২৫টি লঞ্চ এসেছে আর চাঁদপুর ও শরীয়তপুর রুটে ছেড়ে গেছে ১৩টি লঞ্চ। তবে যাত্রীর সংখ্যা ছিল কম।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply