ভুলে ভরা প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত: তিতাসে প্রাথমিক শিক্ষা ভেঙ্গে পড়ার আশংকা ॥ অভিভাবকরা হতাশ


নাজমুল করিম ফারুক :
তিতাস উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ভুলে ভরা ও গত বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্ন দিয়ে চলতি বছরের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়াকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা বিরাজসহ প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ার আশংকা করছে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, সম্প্রতি শেষ হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় পঞ্চম শ্রেণীর পরিবেশ পরিচিতি বিজ্ঞান বিষয়ে দেয়া হয়েছে গত বছরের প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্ন, পঞ্চম শ্রেণীর গণিত বিষয়ে দেয়া হয়েছে গত বছরের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্ন। চতুর্থ শ্রেণীর পরিবেশ পরিচিতি সমাজ বিষয়ে দেয়া হয়েছে গত বছরের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্ন। পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের ২নং প্রশ্নে ব্যাখ্যা ২টি দেয়া থাকলেও “যে কোন ৫টি” উত্তর দিতে বলা হয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো প্রথম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্নে কমলমতি শিশুদের দেয়া হয়েছে শব্দ দিয়ে বাক্য গঠন এবং চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা প্রশ্নে ছাপা হয়েছে প্রথম শ্রেণীর শূন্যস্থান পূরণ। এই সব ভুল ছাড়াও প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণীর প্রতিটি বিষয়ে রয়েছে অসংখ্য বানান ভুল। একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ শুধু অজস্র বানানই ভুল নয়, পাশাপাশি সাধু ও চলিত ভাষায় মিশ্রণ রয়েছে অহরহ।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহানা আফরোজ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রশ্ন দেখে ভুলের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অফিসিয়াল ভাবে এখনও কোন শিক্ষক আমাকে ব্যাপারটি অবহিত করেনি। যদি অবহিত করে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশ্নপত্র ছাপানোর দীর্ঘ এক মাস সময় থাকলেও কেন ভুল সংশোধন করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশ্ন প্রণয়ন ও প্র“ভ দেখার জন্য সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মিরাজুল আশরেকীনকে প্রধান করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল এ ব্যাপারে তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মিরাজুল আশরেকীনের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়টি এড়িয়ে যান। উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি ফোনে জানান, আমি বিষয়টি জানলাম। প্রশ্নপত্র যাচাই করে দেখব। ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা শিক্ষা কমিটির একাধিক সদস্য তাদের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, এই সমস্ত ভুল দীর্ঘ দিন যাবৎ হয়ে আসছে। ভুল সংশোধন করে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ছাপানোর জন্য একাধিক শিক্ষা কমিটির সভায় আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন শিশুর সর্ব প্রথম শিক্ষার যে ধাপ তাহলো প্রাথমিক শিক্ষা। সেখানে যদি কমলমতি শিশুদের ভুলে ভরা প্রশ্ন দেয়া হয় তাহলে এদেশে কোনধরণের শিক্ষিত লোক জন্মগ্রহণ করবে তার পূর্বাভাস দেয়া বড় কঠিন। উপজেলা শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি এ বিষয়ে সতর্ক না হন তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার মান ব্যাহত ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply