চাঁদপুরে ২৮২ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে


চাঁদপুর প্রতিনিধি :
চাঁদপুর ও হাইমচর নদী তীরবর্তী এলাকায় মেঘনার ভাঙ্গন থেমে নেই। বর্ষার শেষ দিকে এসে নদী ভাঙ্গনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায়। এখন মেঘনার পানি দ্রুত নামছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল মেঘনায় গড়ানোর সময় চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ ঘেষে হ্ইামচর পর্যন্ত নদীর পূর্ব পাড়ে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়। স্রোত তীব্র হওয়ার পুরান বাজার মোলহেড দক্ষিণ পাশ এলাকাটি জুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সম্প্রতি এক দেড় মিটার বাঁধ এলাকায় ভাঙ্গন ও দেখা দেয়। চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জাফরাবাদ থেকে সাখুয়া ইউণিয়নের লক্ষীপুর গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার ত্রলাকা জুড়ে মেঘনার ভাঙ্গন চলছে। এ দু’টি ইউনিয়নের অসংখ্য বসতি ভিটা, ফসলী জমি, গাছ পালা, মসজিদ, ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিস্তৃর্ণ এলাকা এখন নদীগর্ভে। হাইমচর উপজেলা জুড়েও চলছে মাটি ধস। চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি হাইমচর রক্ষায় ১২৭ কোটি টাকা ও চাঁদপুর সদর উপজেলার জন্যে ভাঙ্গন রোধে ১৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন সরকারী উচ্চ পর্যায় থেকে বরাদ্দ করান। ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসীর ক্ষোভ এক মাস আগে যদি ভাঙ্গন রক্ষার কাজ শুরু করা যেতো তাহলে নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া বসত ভিটেগুলো রক্ষা পেতো। পরে সেই কাজ করে লাভ কী। ক্ষতি যা হবার ত হয়ে গেছে আর ফিরে পাবো না। ক্ষতিগস্ত্রদের এসব ক্ষোভের প্রতি পানি উন্নয়ন বোডর্, চাঁদপুর এর নির্বাহী প্রকৌশলী জীবন কৃষ্ণ দাস এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এবং ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রকল্পের কাজ কবে নাগাদ শুরু হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতি সংঘের অধিবেশনে যাবার প্রাক্কালে তিনি বলে গেছেন যে কোন মূল্যে ভাঙ্গন রক্ষার কাজ করার জন্য। বর্ষায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাবার কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব ছিলোন না। তিনি বলেন, সরকারের এতগুলো টাকার কাজ বিফলে যাক তিনি চাননি। নদীর যে পরিস্থিতি তাতে প্রকল্পের কাজ শুরু করাহলে বালুর বস্তা খুজে পাওয়া যাবেনা। তিনি আরো বলেন, নদী ভাঙ্ন রোধে প্রকল্পের যাতে প্রপার ওয়েতে হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ শুরু করবো। পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী আরো জানান, পানি কমে আসছে। কাজের ঠিকাদাররা প্রস্তুত। আমরাও প্রস্তুত। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে হাইমচর ও চাদঁপুরের নদী ভাঙ্গন রক্ষার টোটাল কাজ শুরু হবে। তাতে কোন সন্দেহ নেই। চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ প্রসঙ্গে জীবন কৃষ্ণ দাস জানান, পুরান বাজার বাঁধ অংশের যে স্থানটিতে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছিল একদিন পরই সে স্থানটি রক্ষায় বালু ভর্তি জিও টেক্সাটাইল ব্যাগ জরুরি কাজের অংশ হিসাবে ফেলা হয়। ৮/৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সেই কাজ চলমান রয়েছে। শহর রক্ষা বাধ ঝুকি মুক্তি আছে বলেও জানান। তিনি বলেন, এই ভাঙ্গন কবলিত এলাকা নতুন পদ্ধতিতে রক্ষা করা হলে আগামীতে ভাঙ্গন প্রতিরোধ হবে।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply