কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে শর্তারোপ : দুটি বিষয়ে ভর্তি হতে পারছে না মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা


স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় :
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রকিৃয়ায় নতুন শর্তারোপ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে বাংলা ও ইংরেজী বিষয়ে ভর্তি হতে পারছে না মাদ্রাসা থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা। এতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মাদ্রাসা থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে নামবে বলেও জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় বাংলা বিভাগে ভর্তি হতে হলে আবেদনকারীকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের বাংলা থাকতে হবে এবং ইংরেজী বিভাগে ভর্তি হতে হলে আবেদনকারীকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের ইংরেজী থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে ওই দুটি বিষয়ে পড়ার আর সুযোগ থাকল না মাদ্রাসা থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা। কারণ মাদ্রাসায় বাংলা এবং ইংরেজী উভয় বিষয়ে ১০০ নম্বরের কোর্স পড়ানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত প্রশাসন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা যেন ইংরেজী পড়তে না পারে সেজন্য ভর্তি পরীক্ষায় অতিরিক্ত ২৫ নম্বর এডভান্স ইংলিশ যোগ করে। কিন্তু এতেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই মেধার স্বাক্ষর রেখে ইংরেজী বিভাগে পড়ছে। এতেও কাজ না হওয়ায় এবার এই নতুন শর্ত আরোপ করা হয়। ফলে এবার থেকে এ দুটি বিষয়ে পড়া থেকে সম্পূর্নই বঞ্চিত হচ্ছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। দেখা গেছে বিগত বছরগুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় প্রথম সারিতে স্থান করে নিয়েছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। তারা অভিলম্বে কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে নামবে বলেও জানান তারা। শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, ভর্তি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে আমরা পড়ব। কিন্তু এতে এ শর্তারোপ কেন। আমাদের তো আর এমনিতে ভর্তি করায় না। আর এমন তো না যে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়ে এই বিষয়গুলো পড়তে পারছে না। এমনকি কলেজের শিক্ষার্থীদের তুলনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ফলাফলে এগিয়ে। তবুও কেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হবে ?

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কুমিল্লার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক মহল। তারা অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয প্রশাসনকে এ বিতর্কিত সিদ্ধান্দ প্রত্যাহারের দাবী জানান।

Check Also

কুবি সাংবাদিক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান পালিত

মো শরীফুল ইসলাম,কুবি :– বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ...

Leave a Reply