সৌদি প্রবাসীদের করুন কাহিনি


সৌদি আরবের বুরাইদাহ্ থেকে মো: ইসমাইল হোসেন :
সৌদি আরবের একটি বড় শহর আলকাশিম । এখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত ভাল, শহরটি রাজধানী রিয়াদ থেকে ৩৫০ কি: মি: দূরে অবস্থিত ।এখানে অসংখ্য বাংলাদেশী সুনামের সহিত কর্মরত । এখানকার আইন কানুন অন্য শহরের তুলনায় একটু কঠিন । প্রিয় বাংলাদেশে বসবাসরত মা বাবা, আত্নীয় স্বজনের মায়া ছেড়ে অর্থ উপার্জনের জন্য প্রবাসীরা পারি জমায় আরবের এই মরু প্রান্তরে । এর মাঝেই তাদের পোহাতে হয় নানাবিধ সমস্যা, তাদের সমস্যা সমাধানে কোন সরকারি পদক্ষেপও নেই ।
তিন মাস অন্তর অন্তর বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি দল আসে পাসপোর্ট নবায়নের জন্য, সমস্যা দেখার জন্য নয় ।
এ বিষয়ে কথা হয় শফিকুল ইসলামের সাথে, সে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার, জয়পুর গ্রামের আ: মান্নানের ছেলে, শফিকুল জানায় সে দীর্ঘদিন যাবৎ সৌদি আরবে সুনামের সহিত ড্রাইভিং পেশায় কর্মরত ছিল, একদিন বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গেলে তুছ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধুর বাসায় অবস্থানরত বাংলাদেশী সবাইকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় । থানা হাজত থেকে জামিন লাভ করে শফিকুলের অন্যান্য সহযোগীরা দেশে ফিরতে পারলেও শফিকুলের ক্ষেত্রে দেখা দেয় বিপত্তি । বৈধ ছুটি নিয়ে টিকিট কেটে এয়ারপোর্টে গেলে ইমিগ্রেশন পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অভিযোগের অযুহাতে শফিকুলকে ফিরিয়ে দেয় । পরে শফিকুল নজস্ব আইনজীবির মাধ্যমে জানতে পারেন তার বিরুদ্ধে সৌদি আইন অনুসারে ১০ টি বেত্রাঘাত ও দেশ ত্যাগের রায় প্রদান করা আছে । এই রায় কার্যকর না করা পর্যন্ত তার দেশে ফিরা হবেনা । এই রায়ের বিরুদ্ধে শফিকুল নিন্ম আদালতে আপিল করলে আদালত রায় বাতিল করে সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করে । তারপরও সৌদি পুলিশ তাকে দেশে আসতে দিছ্ছেনা । এই নিয়ে শফিকুল আদালত আর ওকিলদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও দেশে ফিরার কোন ব্যবস্হা করতে পারছেন না । এ ব্যাপারে শফিকুলের সাথে কথা বললে তিনি হতাস কন্ঠে বলেন জানিনা আল্লাহ কখন আমার সমস্যা সমাধান করবেন, আর কবে দেশে যেতে পারব । তিনি বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিভাগ একটু সহযোগিতা করলে আমি দ্রুত দেশে যেতে পাড়তাম । এ ব্যপারে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা: দীপু মনির সহযোগিতা কামনা করছেন পাশাপাশি দেশবাসির কাছে দোয়া চইছেন ।

বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে সৌদি সরকার বাংলাদেশী শ্রমিকদের ভিসা ও কাফালা প্রদান বন্ধ করে দেয় । মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি সফর কালে এই সংক্রান্ত সমস্যা সমধানে ইতিবাচক অগ্রগতির কথা শোনালেও কার্যত কোন অগ্রগতিই হয়নি ।
এ বিষয়ে কথা হয় ছলবিয়া নামক শহরের একটি ছাগলের খামারের ব্যবস্হাপকের সাথে, তিনি জানান দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করে যাছ্ছি, বিনিময়ে মালিকের অবহেলা আর যাতনা ছারা কিছুই জুটেনি, এমনকি ঠিকভাবে বেতন পর্যন্ত দিছ্ছেনা । খাদ্য, পানি, বাসস্হান, চিকীৎসা, সকল ক্ষেত্রেই অবহেলা, আবার পালিয়ে যাব এই আশংকায় আকামাও দিছ্ছেনা, সারাক্ষন নিঃসন্গ এই বন্দি জীবন আর ভাল লাগেনা । এই প্রতিবেদকের সাথে সে ক্ষোভের সাথে জানায় কথা বলার মত একটি মানুষ ও নাই এখানে, কথা বলতে মন চাইলে শয়তান ছারা আর কাওকে পাওয়া যায়না ।

এত কষ্ঠে কাজ করেন কিভাবে জানতে চাইলে বলেন, এছাড়া আর কোন উপায়ও নেই আকামা না দেয়ার কারনে অন্য কোথাও গেলে কাজও পাবনা, বেশি কিছু করতে গেলে মালিক দেশে পাঠিয়ে দেবে তাই বাধ্য হয়ে করতে হছ্ছে । আবেগ জড়িত কন্ঠে তিনি জানান ৩লক্ষ টাকা খরচ করে ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য বিদেশে এসেছি, কিন্তু এমনি ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে যে পালিয়ে যেতে ইছ্ছা করে, দেশে পরিবারের খরচ চালানোর জন্য কষ্ট করে যাছ্ছি নাহয় কার এই জীবন ভাল লাগে বলেন ? এদিকে সারেজমিনে ঘুরে জানা গেছে সৌদি আরবের মরুভূমিতে ভাল নেই আমাদের প্রবসী স্বজনরা, প্রতিনিয়ত নানাবিধ সমস্যায় কাটছে তাদের জীবন । দেশ এবং দেশের সরকারের কাছ থেকে কোন প্রকার সহযোগীতাই তারা পাছ্ছেনা, এই সুযোগে যছ্ছেতাই ব্যবহার করছে মালিকপক্ষ । তার ওপর আকামা বৃদ্ধি না করার কারনে প্রতিদিনই অসংখ্য বাংলাদেশীকেই দেশে ফিরতে হছ্ছে শূন্য হাতে । এখনই এই সমস্যার সমাধান করতে না পারলে তা আমাদের দেশের আর্থসামাজিক অবস্হার উপর ভয়ানক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে ।

Check Also

রিয়াদে জ্যাবের ‘অমর একুশে’ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ষ্টাফ রির্পোটার :– “অমর একুশের চেতনায় গন মানুষের মনে জেগে উঠুক উজ্জলতা উৎকৃষ্টতা” শীর্ষক আলোচনা ...

Leave a Reply