চাঁদপুরে মেঘনার ভাঙ্গন অব্যাহত


চাঁদপুর ,২১ সেপ্টেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :
চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ও সাখুয়া ইউনিয়নের সাড়ে ৪ কি. মি. এলাকা জুড়ে মেঘনার ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। গতকালও প­িম জাফরাবাদ, রামদাসদী ও সাখুয়া গ্রামের ১৫/২০টি বসত ঘর ভাঙ্গনের শিকার হয়ে বসতাভটা অন্যত্র সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলালের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল রোববার দুটি ইউনিয়নের ভাঙ্গন স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় দুলাল পাটোয়ারী বলেন, ভাঙ্গন রোধে সরকার বৃহৎ একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। নদীতে পানি বাড়ার কারণে ভাঙ্গন রক্ষার কাজ আরম্ভ করা সম্ভব হচ্ছেনা । দ্রুত কাজ শুরু করার জন্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের তাগিদ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করার জন্যে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়াজী, দপ্তর সম্পাদক অজয় কুমার ভৌমিক, চাঁদপুর সদর থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার আলহাজ্ব হারুন চৌধুরী, শহর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মধুসূদন পোদ্দার, ইউপি সদস্য রুহুল আমিন তপাদার প্রমুখ।
শনিবার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল কাইয়ুম সরকার, সদর ইউএন ও শাহীনুর শাহীন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ওসমান গণি পাটোয়ারী, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হাফেজ বেপারীকে সাথে নিয়ে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসন তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করার জন্যে ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যান দুলাল মিয়াজী জানান, নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় তার ইউনিয়ন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ৩২১ জনের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তিনি জানান, ঈদের এক সপ্তাহ আগ থেকে তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ঈদের এক সপ্তাহ পর থেকে এ পর্যন্ত তার ইউনিয়নের প্রায় আড়াই কিঃ মিঃ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা আত্মীয়স্বজনদের কাছে এদিক-সেদিক আশ্রয় নিয়েছে।
চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ হাফেজ বেপারী জানান, তার ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গন প্রকট আকার ধারণ করেছে। লক্ষ্মীপুর মৃধা বাড়ি হতে পুরাতন বেড়িবাঁধ এবং দোকান ঘর ইউনুছ মিয়াজীর বাড়ি এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৫ থেকে ৬শ’ বসত ভিটে নদী গর্ভে চলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ৪ থেকে সাড়ে ৫শ’ জনের নামের তালিকা তৈরি করার জন্যে জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) তাকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং যাচাই-বাছাই করে সে তালিকা তিনি চূড়ান্ত করেছেন।
গত দু’সপ্তাহ যাবৎ মেঘনার ব্যাপক নদী ভাঙ্গনে একর পর এক বাড়ি ঘরের বসত-ভিটে, গাছ-পালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ যাবৎ সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যে কোনো ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের পর সরকারের পক্ষ হতে বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply