সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা : মুরাদনগরে আইন শৃংঙ্খলা কমিটির সভায় তোপের মুখে ওসি

স্টাফ রিপোর্টার :
সোমবার সকালে কুমিল্লার মুরাদনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগমের সভাপতিত্বে উপজেলা আইন-শৃংঙ্খলা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদের কবি নজরুল মিলনায়তনে অনষ্ঠিত সভায় সাংবাদিক হাবিবুর রহমানকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর বিষয়টি উত্থাপন হলে তোপের মুখে পড়েন ওসি আমিরুল আলম। সভায় মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হাজী আব্দুল আউয়াল সরকার জানান যে, পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান আজ মিথ্যা মামলার শিকার, গ্রেফতার আতংকে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। একটি তদন্ত কমিটি মাধ্যমে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবিব পাশাপাশি নিরপরাধ সাংবাদিক হাবিবুর রহমানকে উক্ত মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার অনুরোধ জানান। তার উক্ত বক্তব্যে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে মুরাদনগর থানার ওসি আমিরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে কিছু করা হলে তা হবে আদালত অবমাননার শামিল। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুন আল রশীদ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সানোয়ারা বেগম লোনা। তারা বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ লিখলে সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা, প্রকৃত ঘটনার মামলা না নিয়ে মিথ্যা মামলা নেয়া, আসামী ধরে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া, মামলা নিতে ঘুষ খাওয়া, শালিশের টাকা আত্বসাৎ করা হলে আদালত অবমাননা হয় না?। তখন সভায় উপস্থিতিদের ত্রিমুখী বক্তব্যে সভাস্থলে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগমের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সভায় উপস্থিত সকলে শুধু সাংবাদিক কেন, কেউ যেন অযথা মিথ্যা মামলায় হয়রানীর শিকার না হয় সে দিকে খেয়াল রাখার জন্য ওসি মুরাদনগরকে অনুরোধ জানান। এতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম খানসহ প্রশাসনের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুন আল রশীদ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সানোয়ারা বেগম লোনা জানান, আমরা সরকারি দলের লোক হওয়ার পরও পুলিশ মিথ্যা মামলা নিয়ে আমাদের লোকজনকে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন করে যাচ্ছে, অনেক ধৈর্য্য ধরেছি, আর নয়। পুলিশের আর কোন অন্যায় কাজ আমরা সহ্য করব না। প্রয়োজনে আন্দোলনের মাধ্যমে পুলিশের সকল অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করব।

এ দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগম জানান, যেহেতু বিষয়টি আদালতে চলে গেছে, ওসি বলছেন এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে আদালত অবমাননা হবে, সে জন্যে কোন তদন্ত কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। তারপরও ভেবে চিন্তে দেখা হচ্ছে- বিষয়টি কি করা যায়।

Check Also

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...

Leave a Reply