পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের : কুমিল্লাওয়েব ডটকম এর স্টাফ রিপোর্টার হাবিবুর রহমান আবারো মামলার শিকার

হাবিবুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা, ১৪ সেপ্টেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :
পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ করায় কুমিল্লার মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশ’র মুরাদনগর প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান আবারো হয়রানীমূলক মামলার শিকার হয়েছেন। মুরাদনগর থানার ওসি আমিরুল আলমের প্রত্যক্ষ যোগসাজসে এস আই সাজেদুল ইসলামের পরোক্ষ ইন্ধনে পুলিশের সখ্য ইকবাল মোর্শেদকে বাদী সাজিয়ে জামিন অযোগ্য (চাদাঁবাজি) ধারায় শুক্রবার ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে এ মামলাটি রুজু করা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সংগঠিত উক্ত মামলার খবর মিডিয়া মহলে ছড়িয়ে পড়লে জেলা-উপজেলার সাংবাদিক অঙ্গনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশের এহেন কর্মকান্ডে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়া ছাড়াও সর্বমহলে চলছে নানা গুঞ্জন। পুলিশের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে তদন্তের মাধ্যমে ক্ষমতাধর মুরাদনগর থানার ওসি আমিরুল আলম ও এস আই সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে মিডিয়া মহলে।
জানা যায়, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের পালাসুতা গ্রামের হাজী আব্দুর রশিদের ছেলে ইকবাল মোর্শেদ জমি-জমাসহ কয়েকটি মারামারির ঘটনায় জড়িত হয়ে বিভিন্ন মামলার বাদী ও স্বাক্ষী হওয়ার সুবাধে থানা পুলিশের সাথে তাঁর সখ্যতা গড়ে উঠে। তার কয়েকটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন মুরাদনগর থানার এস আই সাজেদুল ইসলাম। গত ৫ আগস্ট এস আই সাজেদুল ইসলাম পালাসুতা গ্রামের পাশ্ববর্তী দারোরা গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী খোশনেয়ারা বেগমকে মাদকসহ আটকের পর ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেন। উক্ত ঘটনাটি ৭ আগস্ট দৈনিক আমার দেশসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা গুলোতে প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য এস আই সাজেদুল ইসলামসহ থানার ওসি আমিরুল আলম সাংবাদিক হাবিবুর রহমানকে হয়রানী করার অসৎ উদ্দেশ্যে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে থাকে। উক্ত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইকবাল মোর্শেদকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়ার প্রলোভন দিয়ে তাকে বাদী সাজিয়ে ২৯ আগষ্ট আদালতের মাধ্যমে তদন্তের নামে একটি অভিযোগ থানায় নেয়া হয়। পরবর্তীতে মাত্র ১০ দিনের মাথায় অর্থাৎ ৮ সেপ্টেম্বর কৌশলে বিষয়টির ব্যাপারে পূনরায় আদালতে আবেদন জানালে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এ. কে. এম কামাল উদ্দিন ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এফ,আই,আর করে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩ ধারামতে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য ওসি মুরাদনগকে নির্দেশ দেন। এতে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ছাড়াও বাদীর পূর্বের মামলা-মোকাদ্ধমায় প্রতিপক্ষ পালাসুতা গ্রামের আম্বর আলী সরকারের ছেলে অসহায় আবুল হাশেমকেও এ মামলায় আসামী বানানো হয়।
এ ব্যাপারে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান জানান, আমার ১৯ বছরের সাংবাদিকতার ইতিহাসে চাদাঁবাজির কোন নজির নেই, যদি কেউ প্রমান করতে পারে তাহলে সাংবাদিকতা ছেড়ে দিব। পুলিশের বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ ইতিমধ্যে প্রকাশিত হওয়ায় মুরাদনগর থানার ওসি আমিরুল আলমের যোগসাজসে ও এস আই সাজেদুল ইসলামের পরোক্ষ ইন্ধনে জামিন অযোগ্য ধারার (চাদাঁবাজি) এ মামলাটি রুজু করা হয়। যদি আল্লাহ সহায় থাকেন, দায়েরকৃত মামলার অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমানিত হবে ইনশাল্লাহ। বর্তমানে তাঁকে আরো কয়েকটি মামলা দিয়ে হয়রানীর অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এমন সংবাদে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান আতংক ও উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে চরম নিরাপত্বাহীনতায় ভূগছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিষয়টির ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, আইজিপি ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য যে, বিগত কয়েক বছরের বিভিন্ন সময়ে মুরাদনগর থানার ওসিসহ পুলিশের এহেন কর্মকান্ড পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করায় আক্রোশমূলক ভাবে ওসিদের প্রত্যক্ষ যোগসাজসে পূর্বেও সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদন্তে প্রমান মিলেনি।

Check Also

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...

Leave a Reply