কারিগরি শিক্ষার প্রসারে অবদানের জন্যে “ডিএসএ এ্যাওয়ার্ড-২০১০” পেল সিসিএন অধ্যক্ষ

অতিথিদের কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করছেন কুমিল্লা সিসিএন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ মোঃ তারিকুল ইসলাম চৌধুরী। ছবি: সিরাজ
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ২৯ আগস্ট ২০১০ (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :
ঢাকাস্থ পাবলিক লাইব্রেরীর ভিআইপি মিলনায়তনে এক অনারম্ভর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ঢাকা সাংস্কৃতিক একাডেমি কর্তৃক “ডিএসএ এ্যাওয়ার্ড ২০১০” প্রদান করা হয়। কারিগরি শিক্ষা, আইন, চিকিৎসা, বেকারত্ব লাঘবসহ মোট নযটি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আইন পেশায় অসামান্য অবদানের জন্যে ব্যারিষ্টার রাবেয়া ভুইয়া, চিকিৎসা ক্ষেত্রে ক্যান্সার চিকিৎসায় বিশেষ অবদান রাখায় ডা. এমএন হুদা, বেকারত্ব লাঘবে জনাব সোহরাব হোসেন এবং নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিশেষ অবদান রাখায় কুমিল্লার সিসিএন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম চৌধুরীকে উক্ত এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

২০০১ সাল থেকে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সিসিএন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০১-২০০২ শিক্ষাবর্ষে ডিল্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের কমপিউটার ও ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি যুক্ত হয়। একই বছর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও সেবা শিক্ষাক্রমের আওতায় ডিপ্লোমা-ইন-মেডিকেল টেকনোলজি চালু করা হয়। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির পরিসর অনেকাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে কুমিল্লার শিক্ষা অঞ্চল নামে খ্যাত পর্যটন নগরী কোটবাড়ীর পাহাড় ঘেরা নান্দনিক পরিবেশে সাড়ে তিন একর জায়গার উপর নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হয়। নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের পর ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, কমপিউটার টেকনোলজিসমূহে দ্বিতীয় শিফটে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির অনুমোদন দেয়া হয়। একই সাথে ডিপ্লোমা-ইন-মেডিকেল শিক্ষাক্রমের ফার্মেসি টেকনোলজি এবং ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা-ইন-টেক্সটাইল টেকনোলজি চালূর অনুমতি প্রদান করা হয়।

অধ্যক্ষ জনাব মোঃ তারিকুল ইসলাম চৌধুরীর একাগ্রতা, নিষ্ঠা এবং দক্ষতার ফলে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ের মধ্যেই সারাদেশের পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটসমূহের মধ্যে একটি মডেল ইন্সটিটিউট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে দেশের ৪২ জেলার এক হাজার একশত এর বেশি ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করছে।

ফলাফলের দিক দিয়েও ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিকেল উভয় ক্ষেত্রেই ঈর্শ্বণীয় ফলাফল করে আসছে। যার ফলে এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাসকৃত ছাত্র-ছাত্রীরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত সফলতার সাথে স্ব স্ব অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের তাত্বিক এবং ব্যবহারিক জ্ঞান অত্যন্ত ভাল হওয়ার কারণেই অত্র প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ইন্টার্ণশীপ সম্পন্ন করতে পারছে।

কারিগরি শিক্ষার প্রসারে জনাব তারিকুল ইসলাম চৌধুরী অন্যান্য ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়কালে কমপিউটার বিষয়ে বাংলা ভাষায় ৪২টি পুস্তক রচনা করে তিনি কমপিউটার শিক্ষাকে সহজভাবে সকল স্তরে ছড়িতে দিতে সক্ষম হয়েছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্যে কারিকুলাম প্রণয়নের জন্যে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করে মাদ্রাসা শিক্ষায় আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়াও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) কর্তৃক গঠিত ঝঃধহফধৎফং ধহফ ঈঁৎৎরপঁষঁস উবাবষড়ঢ়সবহঃ ঈড়সসরঃঃবব (ঝঈউঈ) এর বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। এর ফলে নতুন শিক্ষা নীতির আলোকে কারিগরি শিক্ষার ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ার জন্যে কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply