মুরাদনগরে ২ কেজি গাঁজাসহ ৩ ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

মুরাদনগর, ২৬ আগস্ট ২০১০ (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :
কুমিল্লার মুরাদনগর থানা পুলিশ ২ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩ ব্যক্তিকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, বুধবার রাত অনুমান সাড়ে ১০টার সময় মুরাদনগর থানা পুলিশের এএসআই ও সিদ্ধিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইউনুস আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ পূর্বধইর পশ্চিম ইউনিয়নের হাটাশ গ্রামে অভিযান চালায়। তখন ওই গ্রামের মৃত নায়েব আলীর ছেলে গাঁজা ব্যবসায়ী মুছন মিয়ার বাড়িতে হানা দিলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ৮/১০জন মাদক সেবী পালিয়ে যায়। এ সময় গাজাঁ ব্যবসায়ী মুছন মিয়া (৩৮), মুছন মিয়ার শালী আছমা বেগম (২২) ও মাদক সেবী আলফাজ আলীর ছেলে মনির হোসেনকে (৩২) আটক করে। তখন তাদের দেহ ও পাশের খড়ের পাড়ায় তল্লাশী চালিয়ে পুলিশ অনুমান ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন। পরে গাঁজা ব্যবসায়ী মুছন মিয়ার ভাই মোহন মিয়ার মধ্যস্থতায় মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ২ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩ ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হয়। মুছন মিয়া দীর্ঘদিন যাবত তার ছোট ভাই মোখলেছুর রহমান হিরনের যোগসাজসে এ ব্যবসা চালিয়ে এলাকার যুব সমাজকে কুলষিত করছে বলে এলাকাবাসী জানায়।

পুলিশের ছেড়ে দেয়া মাদক সেবনকারী মনির হোসেন জানান, পুলিশ আসার পর মালিপাড়ার আব্দুর রশিদের ছেলে মামুন (২৫) ও গাজাঁ ব্যবসায়ী মুছন মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম (৩২) সহ ৭/৮জন পালিয়ে যায়। তখন গাজাঁ ব্যবসায়ী মুছন মিয়া ও তার শালী আছমা বেগমের লুকিয়ে রাখা প্রায় ২ কেজি গাঁজা পাশ্ববর্তী খড়ের পাড়া থেকে পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে মুছন মিয়ার ভাই মোহন মিয়ার মধ্যস্থতায় আমরা রক্ষা পাই।

গাজাঁ ব্যবসায়ী মুছন মিয়ার ভাই মোহন মিয়া জানান, মুছন মিয়া ও তার শালী আছমা বেগমকে এলাকা ছেড়ে চলে যাবার শর্ত সাপেক্ষে পুলিশ তাদের ছেড়ে দিয়ে যায়। তবে গাজাঁ ব্যবসায়ী মুছন মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম জানান, বিভিন্ন লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে গাঁজা সেবন করে সঠিক, কিন্তু আমরা গাঁজা বিক্রি করি না।

সহকারী পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) মোহাম্মদ আয়ুব জানান, বিষয়টি আমার নজরে আসার পর খতিয়ে দেখার জন্য ওসি মুরাদনগরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মুরাদনগর থানার ওসি আমিরুল আলম জানান, বিষয়টি লোকমুখে শুনে এ ব্যাপারে ইউনুস আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে উক্ত বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কয়েকজন মাদক সেবীকে ধরেছিল, পিটা-পাটা ও চর-থাপ্পর দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মুরাদনগর থানা পুলিশের এএসআই ও সিদ্ধিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইউনুস আলী ঘটনাটি অস্বীকার করেন।

Check Also

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...

Leave a Reply