চান্দিনা পৌরসভার হিসাব রক্ষকের কান্ড : কাজে যোগদানের আগেই স্বাক্ষর জালিয়াতি, অনিয়মের অভিযোগ


মাসুমুর রহমান মাসুদ, স্টাফ রিপোর্টার :
কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার হিসাব রক্ষক মো. সালাহ উদ্দিন কাজে যোগদানের আগেই কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য, সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ.বি.এম গোলাম মোস্তফা এবং চান্দিনা পৌরসভার মেয়র আবদুল মান্নান সরকার এর স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে দেয়া একটি মিথ্যা অভিযোগে ওই দুইজনের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অভিযোগের বিপরীতে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। একই সাথে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পদবীসহ সীলমোহরও নকল করেছেন তিনি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ১৮ মে মো. সালাহ উদ্দিন কে দেবিদ্বার পৌরসভা থেকে চান্দিনা পৌরসভায় হিসাব রক্ষক হিসেবে বদলীর আদেশ দেন। আদেশের পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও দেবিদ্বার পৌরসভার সকল হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে না দেয়ায় তাকে অবমুক্ত করেনি পৌর প্রশাসক। এদিকে গত ২৮ জুন মো. সালাহ উদ্দিন পৌরসভার নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিজেই একটি নথি তৈরী করে তার যোগদান পত্র নথিতে উপস্থাপন করেন এবং নিজেই যোগদানপত্র গ্রহণের আদেশ লিপিবদ্ধ করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চান্দিনা পৌরসভার মেয়রের স্বাক্ষর ও সীল নেন। পরে অবৈধভাবে তৈরী করা যোগদানপত্র গ্রহনের একটি অফিস আদেশেও মেয়রের স্বাক্ষর নেন।

যে কারণে স্বাক্ষর ও সীল জালিয়াতি
মো. সালাহ উদ্দিনকে হিসাব রক্ষক হিসেবে চান্দিনায় বদলী করা হলে দেবিদ্বার পৌর প্রশাসক নথিপত্র ও হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে না দেয়ায় তাকে অবমুক্ত করেনি। তাকে অবমুক্ত করার আগে চান্দিনা পৌরসভায় তার যোগদানপত্র গ্রহণ না করতে মেয়রের কাছে অনুরোধ করেন দেবিদ্বার পৌর প্রশাসক। অপরদিকে চান্দিনা পৌর পরিষদের সদস্যরা তার অস্বাভাবিক আচরণ, দাপ্তরিক নিয়ম-নীতি অমান্য, শৃংখলা ভঙ্গ এবং প্রভাব খাটিয়ে মেয়রের স্বাক্ষর নেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের কথা উল্লেখ করে তার বদলী পুনর্বিবেচনা করে অন্যত্র বদলীর জন্য অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। ওই অনুযায়ী মেয়র স্থানীয় সরকার বিভাগে অনুরোধ জানিয়ে গত ২২ জুলাই একটি চিঠি পাঠায়। হিসাব রক্ষক মো. সালাহ উদ্দিন কাজে যোগদিতে ব্যর্থ হয়ে চান্দিনা পৌরসভার সচিব মো. সামছুল আলমের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন। ওই অভিযোগের তদন্তকে গতিশীল করতেই কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য, সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ.বি.এম গোলাম মোস্তফা’র স্বাক্ষর ও সীল মোহর নকল করে তার সুপারিশ লিপিবদ্ধ করেন। অপরদিকে মেয়রের সাক্ষর ও সীল মোহর নকল করে সচিব মো. সামছুল আলমকে বদলী করতে স্থানীয় সরকার বিভাগে আরও একটি চিঠি প্রদান করেন। ওই চিঠিতে ভিত্তিহীন স্মারক নাম্বার ব্যবহার করেন ওই হিসাব রক্ষক। অভিযোগ দায়েরের স্মারক নং দেন-২৩৪, কিন্তু ওই সময়ে চান্দিনা পৌরসভার স্মারক নং চলছিল মাত্র ১৮৪।

চান্দিনা পৌরসভার মেয়র আবদুল মান্নান সরকার তার স্বাক্ষর ও কার্যালয়ের স্মারক ব্যবহারে জালিয়াতি করা হয়েছে বলে গত ৮ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠান। তিনি ওই ঘটনার বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানান।

সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ.বি.এম গোলাম মোস্তফা এ ব্যাপারে জানান, ওই স্বাক্ষর এবং সীল আমার নয়। এ রকম সুপারিশ আমি কখনো কাউকে করিনি।

এ ব্যাপারে হিসাব রক্ষক মো. সালাহ উদ্দিন জানান, সুপারিশ করে কেউ অস্বীকার করলে আমার কিছু করার নেই।

Check Also

কুমিল্লার চান্দিনায় বাসে পেট্রলবোমা : জামায়াত-শিবিরের ৭ নেতাকর্মী জেল হাজতে

কুমিল্লা প্রতিনিধি :– কুমিল্লার চান্দিনায় বাসে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় আটক জামায়াত-শিবিরের সাত নেতাকর্মী আদালতে জবানবন্দী ...

Leave a Reply