শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে বিদেশেও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হবে -উপ-সচিব ফয়জুল কবীর


মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর :
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব ফয়জুল কবীর বলেছেন, ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ১০০% ভর্তি নিশ্চিত করতে হলে ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকদের অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন করার মাধ্যমে শতভাগ ভর্তি ণিশ্চিত করা সম্ভব। তাদেরকে বুঝাতে হবে, আপনার ছেলে একদিন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা হবেন। সেক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীরা ঝড়ে পড়বে না। তাছাড়া বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ ও বাবা সমাবেশ করে ঝড়ে পড়া রোধ করা সম্ভব। তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা মূলত শিক্ষকদের আন্তরিকতার মাধ্যমে দেয়া সম্ভব। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদেরকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শ্রেনী কক্ষ ও শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়ে বলেন, পর্যায়ক্রমে তা বৃদ্ধি করে সমস্যা সমাধান করা হবে। কিছুদিনের মধ্যে আরো প্রায় ৩১ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। জানুয়ারী মাসের মধ্যে সকল শিশুদের স্কুলে নিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে মুরাদনগরে ৯৭% ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে ভর্তি আছে বাকী ৩% ছাত্র-ছাত্রীদের জানুয়ারি মাসের মধ্যে ভর্তি করিয়ে নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষকদের আমরা উপযুক্ত টাকা পয়সা দিতে পারছি না। তবে এ সরকারের আমলেই আপনাদের মানসম্মত করে গড়ে তোলা হবে এবং উপযুক্ত বেতন ভাতা দেয়া হবে। মুরাদনগরে বর্তমানে পাশের হার ৯৩%, তা’ এ বছর পাশের হার ১০০% করাতে হবে। তবে যে প্রতিষ্ঠানের ১০০% পাশের হার থাকবে, সে স্কুলের শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে বিদেশে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হবে
উপ-সচিব ফয়জুল কবীর মঙ্গলবার বিকেলে মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের কবি নজরুল মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুন আল রশীদ এর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সানোয়ারা বেগম ও রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষক আয়শা খাতুন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আহমেদ, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন, প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে গাজীউল হক চৌধুরী (টনকী), তাহেরা খানম (করিমপুর), আক্তারুজ্জামান (আলীরচর), মনিরুল ইসলাম (বোড়ারচর), মোখলেছুর রহমান (সিদ্ধশ্বরী), সুপ্লা সেন (থোল্লা), জামাল উদ্দিন (বাঙ্গরা), সহিদুর রহমান (নবীয়াবাদ), গিয়াস উদ্দিন (জাহাপুর), সাহিদা বেগম (মোখলেছপুর), রফিকুল ইসলাম (গুঞ্জুর উত্তর) ও বাছির মোল্লা (কামারচর)।
উপ-সচিব ফয়জুল কবীর বলেন, স্কুল চলাকালীন সময়ে স্কুলের ‘ক্যাচ ম্যাপ এরিয়া’তে উপযুক্ত ও স্কুলগামী শিশুদেরকে রাস্তা ঘাটে দেখা না গেলে মনে করতে হবে সে বিদ্যালয়টি একটি মডেল বিদ্যালয়। তাহলেই উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষকতার সার্থকতা খুঁজে পাবেন। শিক্ষকদের পাশাপাশি স্কুল ম্যানেজিং কমিটিকেও সক্রিয় করে তুলতে হবে। নিয়মিত হোম ভিজিট করতে হবে। না পড়–য়া ছেলে-মেয়েদের তালিকা তৈরী করে তাদেরকে স্কুলে আনার ব্যাবস্থা করা এবং ২০১১ সাল থেকে স্কুল চলাকালীন সময়ে কোন শিক্ষার্থী বিদ্যালয় আঙ্গিনার বাহিরে থাকতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সরকার শিক্ষা খাতের জন্য খুবই আন্তরিক। তাই এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে সরকার সর্বাধিক বরাদ্ধ রেখেছে। বাজেট অনুযায়ী সরকার তার অঙ্গীকার বাস্তবায়িত করলে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সাধিত হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুন আল রশীদ বলেন, শিক্ষা খাতে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনার জন্য প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। এ সরকারই প্রথম শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরন করেন। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় আগামী ২০১১ সালের মধ্যে উপযুক্ত স্কুল বয়সী শিশুদেরকে স্কুলমুখী করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। সকল শিশুকে স্কুলমুখী করতে ও শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে শিক্ষকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। এর জন্য দরকার শিশুদেরকে খেলাচ্ছলে আনন্দ মুখর পরিবেশে পাঠদান ও পাঠ গ্রহণ। শ্রেণী কক্ষে কখনোই শিক্ষার্থীদেরকে ধমক কিংবা ভয়ভীতি দেখানো যাবে না এবং শারীরিক শাস্তি থেকেও তাদেরকে মুক্ত রাখতে হবে। কেননা, কোমলমতি শিশুরাই আগামী দেশ গড়ার কাঙ্খিত কারিগর।

Check Also

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...

Leave a Reply