কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন সংগঠনের নামে চলছে রাজনীতি :নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :
রাজনীতি ও ধুমপানমুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যনারে চলছে ছাত্র-শিক্ষকদের নোংরা রাজনীতি ও দলাদলি। বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। মারাত্মক তির সম্মূখিন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। নিয়ন্ত্রনে সম্পূর্ন ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সংস্লিষ্ট সূত্রে জানা যায, ২০০৭ সালের ২৮ মে রাজনীতি ও ধুমপানমুক্ত হিসেবে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম। ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে রাজনীতি না করার শর্তে অঙ্গিকারনামা নেয়া হয়। ১ম বছরটি ভালভাবে কাটলেও পরবর্তী বছর থেকে শুরু হয় ছাত্র শিক্ষকদের স্বার্থ সংস্লিষ্ট রাজনীতি। বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে পরবর্তী বছরই বিদায় নিতে হয় জোট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া প্রতিষ্ঠাতা ভিসি প্রফেসর ড.গোলাম মাওলাকে। তখন থেকেই ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের মদদে শুরু হয় রাজনৈতিক বিভক্তি।
বন্ধন সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের ব্যানারে ছাত্রশিবির রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে প্রথম রাজনীতি শুরু করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির নেতা ফয়সাল আহমেদ জানান, শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার পাশাপাশি সুস্থ সংস্কিতি চর্চা করতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই আমরা এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করি। তবে এটি কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। সকল শিক্ষার্থীরাই এর সদস্য হতে পারবে। এর পরই ছাত্রলীগ সমর্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আশে-পাশে অবস্থানরত শিক্ষাথীরা প্রতিষ্ঠা করে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন। যার নের্তৃত্বে রয়েছে লোকপ্রশাসন বিভাগের ১ম ব্যাচের ছাত্র মাহমুদুর রহমান মাসুম ও অথৃনীতি বিভাগের ১ম ব্যাচের ছাত্র আলআমিন অর্নব। ছাত্রলীগ সমর্থিত শহরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠা করে কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট ফোরাম। যার নের্তৃত্বে রয়েছে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ১ম ব্যাচের ছাত্র এমদাদুল বারী শাওন ও মার্কেটিং ১ম ব্যাচের ছাত্র মইনুদ্দিন চিশতি। ছাত্রদল শহরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠা করে বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক সংসদ। যার নের্তৃত্বে রয়েছে মার্কেটিং ১ম ব্যাচের ছাত্র নুরুল আলম চৌধুরী নোমান ও ব্যবস্থাপনা ২য় ব্যাচের ছাত্র শামিম আল অজিজ লেলিন এবং বিশ্ববিদ্যালয এলাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠা করে স্টুডেন্ট ইউনিটি। যার নের্তৃত্বে রয়েছে ব্যবস্থাপনা ২য় ব্যাচের ছাত্র মনিরুল ইসলাম ও লোকপ্রশাসন ২য় ব্যাচের ছাত্র শিহাবউল্লাহ। প্রত্যেক সংগঠনই তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয়। বিশেষ করে বর্তমান সরকার মতায় আসার পর থেকেই শুরু হয় ছাত্রলীগ সমর্থিত দুটি সংগঠনের তৎপরতা। তুচ্ছ ইস্যুতে বন্ধ করে দেয়া হয় কাস পরীক্ষা। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারন শিক্ষার্থীরা। সেশনজটের কবলে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদেরকে শুধু সতর্কই করে যাচ্ছেন। অজ্ঞাত কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।
এতদিন শিক রাজনীতির কোন ব্যানার না থাকলেও গত ২ জুলাই শিক্ষকদের একাংশকে নিয়ে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রধান কাজী জাহিদুর রহমাননের নের্তৃত্বে গঠন করা হয় বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ। পরিষদ গঠনের পরপরই কাজী জাহিদুর রহমান রা’বিতে যোগ দিয়েছেন বলে জানা যায়। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে দুটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়। শিক্ষকদের একাংশ পৃথক বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনে তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা যায়। অর্থনীতি বিভাগের জুনিয়র শিক্ষক কাজী কামাল উদ্দিন গত ২০ জুলাই বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে অসদাচরন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। জুনিয়র শিক্ষকের এ ধরনের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ সিনিয়র শিক্ষকরা। রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের এ ধরনের দ্বন্দে ক্ষুব্ধ সাধারন শিক্ষার্থীরাও। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদক মো: তাজুল ইসলাম জানান, কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয় বরং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষনা করতেই আমরা এ পরিষদ গঠন করেছি।
রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে রাজনীতি সম্পর্কে সকল ছাত্র নেতারাই অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ স্থানীয় গ্রুপের নেতা আলআমিন অর্নব জানান, ক্যাম্পাসে কোন রাজনীতির জন্য নয় বরং শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতেই আমরা স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন গঠন করি।
ছাত্রলীগ শহর গ্রুপের নেতা মইনুদ্দিন চিশতি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চা করতেই আমরা এ ইউনিভার্সিািট স্টুডেন্ট ফোরাম প্রতিষ্ঠা করি। তবে এ ফোরামের সকল সদস্যই স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ। আর এ ক্যাম্পাস রাজনীতিমুক্ত এটা শিকদেরই আগে মনে রাখা উচিত।
ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম চেীধুরী নোমান জানান, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ক্যাম্পাসে কোন রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি না , আর শিক্ষদের এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই যদি রাজনীতি করে তাহলে ছাত্ররা কি করবে ?

ছাত্র শিক্ষক রাজনীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কোন এ ব্যাপারে কোন কথা বলেননি ভিসি ড. আমির হোসেন খান । তিনি ব্যাস্ত আছেন এবং এ ব্যাপারে পরে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।

Check Also

কুবি সাংবাদিক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান পালিত

মো শরীফুল ইসলাম,কুবি :– বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ...