চান্দিনার পল্লীতে হোল্ডিং নম্বর দিয়ে বাণিজ্য; প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার, চান্দিনা:
চান্দিনার মহিচাইল ইউনিয়নে হোল্ডিং নম্বর দিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছে ইউনিয়ন উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি এনজিও। ইউনিয়নের প্রতিটি ঘরে লাগানো হচ্ছে হোল্ডিং নম্বর। ওই নম্বর লাগানোর ফলে কি উপকার পাওয়া যাবে গ্রামের মানুষ তাও জানে না। পাইলট প্রকল্প হিসেবে চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মোঃ শামসুল হক মাষ্টারের অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে এনজিওটি। সরকারি কোন বিধি বিধান ছাড়াই প্রতিটি ঘরে হোল্ডিং নম্বরের নামে একটি টিনের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ‘হোল্ডিং নম্বর প্লেট বন্টন প্রকল্প’ নামে জাতীয় মনোগ্রামযুক্ত রশিদের মাধ্যমে ঘর প্রতি একশ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ওই রশিদে সংস্থার নামও উল্লেখ নেই। হোল্ডিং নম্বর নিতে অনিহা প্রকাশ করলে মানুষকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। হোল্ডিং নম্বরের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইউনিয়ন উন্নয়ন সংস্থা।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় ওই সংস্থার ফিল্ড অফিসার পদে কর্মরত সোহেলের সাথে। তিনি জানান, আমরা এ এনজিওতে কর্মরত আছি, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশে আমরা এ কাজ করছি। হোল্ডিং নম্বর বিতরণের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে কুমিলা জেলা প্রশাসক ও চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি পত্র দেখান। জেলা প্রশাসকের অনুমতি পত্রে দেখা যায়, ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রতিটি ঘরে হোল্ডিং নম্বর স্থাপনের জন্য বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা রয়েছে, কিন্তু এর বিপরীতে কোন টাকা নেয়ার কথা উল্লেখ নেই।
এদিকে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার টাকা নেয়ার অনুমতি না দিলেও ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সামছুল হক মাষ্টার লিখিতভাবে একশত টাকা করে নেয়ার অনুমতি প্রদান করেন। এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জানান, অন্যান্য ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের অনুমতিপত্র আমাকে দেখানোর পর আমিও অনুমতি দেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মোহাম্মদ ভূইয়া জানান, গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে হোল্ডিং নম্বর স্থাপন করার উদ্যোগ এ সংস্থাটি গ্রহণ করায় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুমতিক্রমে আমিও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুমতি দেই। কিন্তু টাকা নেয়ার কোন অনুমতি নেই। এটা তাদের মনগড়া সিদ্ধান্ত। টাকা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছি, ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে ‘ইউনিয়ন উন্নয়ন সংস্থা’ এনজিও’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামূল কবির রুবেল জানান, টাকা নেয়ার ব্যাপারে কখনও জেলা প্রশাসক বা ইউএনও নির্দেশ দেয় না, একজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান একশত টাকা কেন পাঁচ হাজার টাকাও নেয়ার অনুমতি দিতে পারেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...