বাঞ্চারামপুরে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ঋণ নিয়ে তিন হাজার পরিবার স্বাবলম্বী

মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর:
দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলো ঋণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা করে শুধু নিজেরাই স্বাবলম্বী হননি, অন্যদেরও সাধ্যমতো সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। যে পরিবাবে একসময় অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, সে পরিবার এখন পেয়েছে সুখের সন্ধান। এসব পরিবারের ভাগ্য বদলে দিয়েছে বসুন্ধরা “পল্লী ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প”। বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাম্মনবাড়ীয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলার দুর্গারামপুর গ্রামে নতুন করে ১৮০ টি পরিবারের মধ্যে সুদবিহীন এ ঋণ বিতরণ করা হয়। বসুন্ধ রা গ্র“পের উর্দ্বতন নির্বাহী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) ময়নাল হোসেন চৌধুরী ঋণের নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ৯ লক্ষ টাকা বিতরন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাহাড়িয়া কান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গনি তালুকদার, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, হযরত আলী, বসুন্ধরা গ্র“পের প্রেস এন্ড মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন প্রমূখ।

২০০৫ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পটির কার্যক্রম বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ১১৮টি গ্রামের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নের ৪৮টি গ্রামে এ কার্য়ক্রম চালানো হলেও সরকারের অনুমতি নিয়ে তা সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে চায় বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ। ময়নাল হোসেন চৌধুরী জানান, দরিদ্রদের কাছ থেকে কোনো আমানত নেয়া হয় না। ফাউন্ডেশনের ৩৩টি স্ক্রীমের মাধ্যমে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা যা ঘূর্ণায়মানভাবে বর্তমানে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা বিতরন করা হয়েছে।

দূর্গারামপুর গ্রামের সাধারণ গৃহিনী মনোয়ারা বেগম, পারুল আক্তার ও লতিফা বেগম জানান, কয়েক বছর আগেও অভাব ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। বর্তমানে সবাই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে। বর্তমানে এদের রয়েছে নিজেদের ঘর, হাঁস, মুরগী,গরু-ছাগল ও চাষযোগ্য জমি। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৮০৭টি পরিবারে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ দিয়ে মনোয়ারাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের “পল্লী ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প”। ঋণ প্রদান মূলত গ্রামের মহিলাদের মাঝে হলেও অসদুপায় অবলম্বন না করার শর্তে তাদের স্বামীদের এই ঋণ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

প্রথম কিস্তির টাকা খাটিয়ে মূলধন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম তিনজন মহিলাকে ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের ৩টি গরু উপহার দেয়া হয়েছে। দরিদ্র ও অতিদরিদ্রদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য ২০০৫ সাল থেকে “ পল্লী ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পটি” শুরু হয়। ফাউন্ডেশনের ঋণ প্রকল্পের প্রকৃত মূলধন ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ফাউন্ডেশনের ঋণ গ্রহণের তিন মাস পর ঋণ আদায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বাঞ্চারামপুর উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়নের ১১৮টি গ্রামের মধ্যে ৪৮টি গ্রামে প্রকল্পের বিশাল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ঋণ গ্রহণের হার ১০০% যা প্রকল্পের সফলতা প্রমাণ করেছে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে গ্রামবাসীদের মধ্যে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৪৮ জন উপভোগকারী ৯৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করেছে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply