তিতাসে মর্জিনা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন:প্রেমিক ও বন্ধুরা ধর্ষণ করে হত্যার পর পানিতে ফেলে দেয়

নাজমুল করিম ফারুক,তিতাস প্রতিনিধি:
কুমিল্লার তিতাস উপজেলা কালাচান্দকান্দি গ্রাম সংলগ্ন কাউরিয়ার বিলে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা নাদিয়াতুল রেহান মর্জিনা (১৭) কে হত্যা করার কথা গ্রেফতারকৃত ছেনু মিয়া (৩৫) আদালতে ১৬৪ কার্যবিধিতে পুরো বৃত্তান্ত বর্ণনা করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এতে মর্জিনা হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়।
তিতাস থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবুল ফয়সল জানান, পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতারকৃত আসামী কালাচান্দকান্দি গ্রামের ধনু মিয়ার পুত্র ছেনু মিয়ার জবানবন্দিতে বেড়িয়ে এসেছে মর্জিনা হত্যা মামলার রহস্য। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত প্রতিবেদককে জানান, গত ২৫ জুন সকাল সাড়ে সাতটায় স্থানীয় গ্রাম পুলিশ বাবুলের ফোনের ভিত্তিতে কালাচান্দকান্দি গ্রাম সংলগ্ন কাউরিয়ার বিলে বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি অজ্ঞাত লাশ পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি আঞ্জুমানে মফিজুল ইসলাম গ্রহণ না করায় কালাচান্দকান্দি গ্রামেই দাফন করা হয়। ২৬ জুন মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের ছয়ফুল্লাহকান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ওরফে দুলালের স্ত্রী ফাতেমা বেগম থানায় এসে তার মেয়ে নাদিয়াতুল রেহান মর্জিনাকে ১৭ তারিখ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান। সে আরো জানান, কালাচান্দকান্দি গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের পুত্র টিটুর সাথে গত বছর পূর্বে মোবাইল ফোনে মাধ্যমে পরিচয় হয় এবং নিখোঁজের দিন টিটু আমাদের বাড়ীতে আসার কথা থাকলেও বার বার ফোনের মাধ্যমে মর্জিনাকে টিটু কোথায় যেন যাওয়ার জন্য বলে। সে যে আমার মেয়ে নিখোঁজ হলো তারপর অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। যখন লোক মারফত জানতে পারলাম টিটুদের গ্রামে একটি মহিলার লাশ পাওয়া গেছে তখন আমি থানায় ছুটে এসেছি। তিনি অভিযোগও করেন যে, যেহেতু টিটুটের বাড়ীর পার্শে লাশটি পাওয়া গেছে এটি আমার মেয়ের লাশ এবং এই হত্যাকান্ড টিটুই ঘটিয়েছে।
এদিকে মোবাইল ফোনের কললিষ্টের সূত্রধরে থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে কালাচান্দকান্দি গ্রামের মৃত মোসলেম মিয়ার বিবধা স্ত্রী নার্গিস আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নার্গিসের সাথে টিটুর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এবং সে প্রায়ই টিটুর বাসায় গিয়ে তাকে রান্না বান্না করে খাওয়ায়। টিটুর আত্মীয়-স্বজন না থাকায় দেশের বাড়ীতে সে একাই থাকে। পরে গ্রেফতার করা হয় একই গ্রামের ধনু মিয়ার ছেলে ছেনু মিয়া (৩৫) কে। সে আদালতে ১৬৪ কার্যবিধিতে পুরো বৃত্তান্ত বর্ণনা করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ১৭ জুন টিটু তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মর্জিনাকে তার বাড়ীতে আসতে বলে। মর্জিনা সন্ধ্যার দিকে তার বাড়ীতে আসে এবং সেখানে তাকে রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। রাত ১০টা থেকে টিটুর ঘরে ৭/৮ জন যুবক (গ্রেফতারের স্বার্থে নাম প্রকাশ সম্ভব নয়) জুড়ো হয় এবং টিটুসহ কয়েকজন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয় তাকে। তারপর বস্তার মধ্যে তাকে ভর্তি করে গ্রামের পাশ্ববর্তী কাউরিয়ার চর বিলে নেয়া হয়। পানিতে লাশ ফেললে ভাসবে বলে ধারনা হলে তখন বস্তার মধ্যে ইট-পাথর ঢুকিয়ে তা বিলে ফেলে দেয়া হয়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...