চান্দিনায় পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ


মাসুমুর রহমান মাসুদ,স্টাফ রিপোর্টার :
চান্দিনা পৌরসভার মেয়র আবদুল মান্নান সরকারের বিরুদ্ধে টোল আদায়, দোকান বরাদ্দ, রোড রোলার ভাড়া প্রদানসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পৌর পরিষদের সাতজন কাউন্সিলর এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশন কুমিল্লা’র উপ-পরিচালক এর নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। পৌরসভার যে কোন সিদ্ধান্তে কাউন্সিলরদের মতামতের তোয়াক্কা করেন না ওই মেয়র। অভিযোগ রয়েছে ২০০৪ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ওই মেয়র পৌরসভার রোড রোলার ভাড়া দিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। ওই সময় তিনি পৌরসভার ফান্ডে রোড রোলারের ভাড়া বাবদ কোন টাকা জমা দেননি। ২০০৫ সালে চান্দিনা পান বাজারে ১৬ টি শেড বরাদ্দেও তিনি ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। ১৬ টি শেড থেকে আদায়কৃত ৪লাখ ৮০ হাজার টাকা পৌর ফান্ডে জমা না দিয়ে তিনি ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
চান্দিনা উপজেলা সদরে নির্মিত পৌর সুপার মার্কেটে দোকান বরাদ্দেও তিনি সীমাহীন দুর্নীতি করেছেন। নিয়মানুযায়ী দোকান বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে টেন্ডার দিয়ে একটি কমিটি গঠন করার নিয়ম রয়েছে। দোকান বরাদ্দ দিতে পৌর পরিষদে কাউন্সিলরদের মতামত নেয়ার নিয়ম থাকলেও তিনি তা না করে নিজের ইচ্ছামত ব্যক্তিদের দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে একই মাপের দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। একই মাপের একটি দোকান সর্বোচ্চ ৬১,৬৯৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০,৫৬৫ টাকায় ভাড়া দিয়েছেন। দোকান ভাড়া প্রদানে ওই বৈষম্যের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জোট সরকারের আমলে তৎকালীন সংসদ সদস্য এডভোকেট রেদোয়ান আহমেদ ও তার ভাই ইমরান আহমেদ এর মালিকানাধীন দুটি ঠিকাদারী লাইসেন্স ব্যবহার করে মেয়র পৌরসভার প্রশাসনিক ভবন ও পৌর মার্কেটের নির্মাণ কাজ করেন। কাজ নিম্ন মানের হওয়ায় এনিয়ে ক্ষোভ দেখাদেয়।
পৌরসভার কর এসেসমেন্ট কাজে মেয়র আবদুল মান্নান সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ অর্থ উপার্জন করে একই সাথে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি করেন। পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সাদাত জুট মিল ও জেনিন কোল্ড স্টোরেজ এর মালিক পক্ষের সাথে যোগসাজেশে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পৌরসভার কাঠামো অনুযায়ী ধার্যকৃত করের চেয়ে অর্ধেক কর আরোপ করেন। ৫নং ওয়ার্ডের হারুন ভূইয়া মার্কেট মালিকের কাছ থেকে একইভাবে ৩৫ হাজার টাকা ঘোষ নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। পৌরসভায় চলাচলকারী যানবাহনের টোল আদায়ের ক্ষেত্রেও তিনি সীমাহীন দুর্নীতি করেছেন। পরিষদের সিদ্ধান্ত না নিয়েই মনগড়া মতো টোল রসিদ ছাপিয়ে নিজের খুশিমত লোকজন দিয়ে টোল আদায় করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
চান্দিনা লতিফপুর রাস্তার পাশে বন বিভাগের গাছ বিক্রি করে লভ্যাংশ ২৮ হাজার ৩ শত ২০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। নিয়মানুযায়ী ওই টাকা পৌর সভার ফান্ডে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও মেয়র আবদুল মান্নান সরকার তার ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে ওই টাকা জমা দিয়েছেন।
এদিকে অবৈধভাবে বিপুল অংকের সম্পদের মালিক হয়েছেন ওই মেয়র। অভিযোগকারী সাত কাউন্সিলর নির্বাচনের আগে প্রদত্ত সম্পদের হিসাবের সাথে বর্তমানে মেয়রের সম্পদের হিসাব করে অবৈধ সম্পদের পরিমাণ নির্ণয়ের দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে মেয়র আবদুল মান্নান সরকার বলেন, আমি কোন টাকা আত্মসাৎ করিনি, বনবিভাগের টাকা পৌরসভার ফান্ডে জমা দেওয়া হয়েছে। দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ার যে হারে ভাড়া ধার্য করেছে তাই নির্ধারিত হয়েছে। রোড রোলারের বিষয়ে কাউন্সিলররা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আমি তদন্তকালীন জবাব দিয়েছি।

Check Also

কুমিল্লার চান্দিনায় বাসে পেট্রলবোমা : জামায়াত-শিবিরের ৭ নেতাকর্মী জেল হাজতে

কুমিল্লা প্রতিনিধি :– কুমিল্লার চান্দিনায় বাসে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় আটক জামায়াত-শিবিরের সাত নেতাকর্মী আদালতে জবানবন্দী ...

Leave a Reply