কচুয়ায় পুনরায় নির্বাচন নিয়ে জল্পনা কল্পনা


চাঁদপুর, ২০ জুলাই ২০১০ (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :
বৃহস্পতিবার চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীরের নির্বাচন পূর্ব মনোনয়নটি অবৈধ ঘোষণা করেছে সুপ্রীম কোর্ট। সে কারণে নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ওই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে ৯০ দিনের মধ্যে পুনঃ নির্বাচন দেবে।নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পূর্বেই কচুয়ায় এর প্রভাব পড়েছে। জেলা ও দেশ জুড়ে এটি নিয়ে কম-বেশি আলোচনা ও জল্পণা কল্পনা চলছে। ১৫ জুলাই সুপ্রীম কোটের প্রধান বিচারপতি রায়টি পাঠ করার মুহুর্তের মধ্যে মোবাইলের বদান্যতায় খবরটি ছড়িয়ে পড়ে দেশ জুড়ে। স্বল্প সময়ে সম্প্রচার চালায় ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলো। বিদেশের মাটিতে বসে মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং দেশের কারাগারে আটক আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলনও খবরটি পেয়ে যায় স্বল্প সময়ে। তাদের দু’জনের নির্বাচনী এলাকা কচুয়ায়। আকোআপ্লুত হয়ে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সমর্থক ভক্তরা কেউ কেউ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সত্য খবরটি একাধিকবার শুনে সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করেন। অপরদিকে আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলনের সমর্থকরা খুশির খবরটি তাৎক্ষণিক জানান দিতে বেশক’টি মাইক নিয়ে নেমে পড়ে কচুয়া উপজেলা শহরে। একে অপরকে মিষ্টি মুখ করায়। গত দু’দিনে সেখানকার চিত্র কিছুটা পরিবর্তিত মনে হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা গুড়ে বালির মতো খবরটি শুনে অনেকটা ঝিম মেরে আছে। প্রতিপক্ষ বিএনপি তথা জোট সমর্থিত মিলনের অনুসারীদের মাঝে কিছুটা চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চায়ের টেবিলে, আড্ডায় এবং ছোট-বড় সকল অনুষ্ঠানে এ নিয়ে চলছে বাড়তি আলোচনা। আলোচক সমালোচকরা বলছেন নানান কথা। কেউ কেউ বলছেন, আওয়ামীলীগের প্রার্থী মহীউদ্দীন খান আলমগীর সম্পূর্ণ মুক্ত। ১/১১-এর সময় দায়েরকৃত মামলার সাজা থেকে তিনি ইতিমধ্যে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। অর্থাৎ সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। পুণরায় নির্বাচনে তিনিই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের বাড়তি ক্ষমতার আশির্বাদ নি­য় তিনি লাভ করবেন। ফলে পুনরায় নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়া তার জন্যে অনেকটা সহজ হবে। বিএনপি তথা ৪ দলের গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলনকে নিয়ে অনুসারীদের আশায় বুক ভরে আছে। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, কচুয়ার পুণরায় নির্বাচনে মিলনকে মনোনয়ন দেয়া উচিত। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে ১ ডজনের ওপরে মামলা থাকলেও সেগুলো বিচারাধীন। নির্বাচনের পূর্বে ওইসব মামলায় মিলন দন্ডপ্রাপ্ত না হলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। ইত:বৎসরে তাকে জামিন না দিলে তিনি এরশাদের মতো কারাগারে থেকে সাধারণ মানুষের অনেক বেশি আনুকূল্য পেতে পারেন। তাও যদি সম্ভব না হয়, অর্থাৎ মিলনকে যদি কোনো কারণে মনোনয়ন দেয়া সম্ভব না হয় তবে তার স্ত্রী বিএনপি নেত্রী বেবীকে মনোনয়ন দিলেও মন্দ হবে না। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে প্রায় ২৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে মিলনকে হারিয়ে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনের প্রায় ১ মাস পূর্বে তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ১৩ বছরের সাজা হয়েছিলো। সে কারণে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইতে বাদ পড়ে যায়। তখন তিনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রীট করলে ওই আদালতও রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। পরে তিনি আপিল বিভাগে পুনরায় আবেদন করলে চেম্বার জজ হাইকোটের আদেশ স্থগিত করে। সে সুযোগেই ড. মহিউদ্দীন নির্বাচন করার সুযোগ পান এবং নিবাচিত হন। নির্বাচিত হয়ে তিনি গত সাড়ে ১৮ মাস সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদের দায়িত্ব পালন করেন।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply