কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা কাটেনি : বন্ধ ছিল ক্লাস পরীক্ষা


স্টাফ রিপোর্টার, ২০ জুলাই ২০১০ (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা ছাত্র ধর্মঘটে অচলাবস্থা ২০ জুলাই অব্যাহত থাকে। ফলে ক্যাম্পাসে বন্ধ থাকে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাসহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম। শহরে আটকে রাখা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী পরিবহনের সবকটি বাস। ছাত্রলীগ শহর গ্রুপের নেতৃবৃন্দের সাথে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের দীর্ঘ তিন ঘন্টা বৈঠকের পরও সমোঝতায় আসতে পারেনি। পাঁচ দফা দাবীতে প্রক্টরিয়াল বডির নিকট ছাত্রলীগ শহর গ্রুপের দেয়া স্মারকলিপির প্রেক্ষিতে গতকাল বিকেলে শিক্ষকরা জরুরী বৈঠকে বসে। ওই ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ট্রেজারার গোপাল চন্দ্র সেনকে আহ্বায়ক করে ৮সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে ক্লাস শুরুর ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তে পৌছতে পারেনি। ফলে ক্লাস পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ স্থানীয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের হাতে শহর গ্রুপের ৫ কর্মী আহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং সে ঘটনার বিচারের দাবীতে সোমবার থেকে লাগাতার ধর্মঘট ঘোষনা করে ছাত্রলীগ শহর গ্রুপ। এরই অংশ হিসেবে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটি বাস আটকে রাখে শহর গ্রুপের বিক্ষোব্ধ কর্মীরা। একই দিন তারা কুমিল্লা শহওে এই ঘটনার বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল বের করে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় সকল ক্লাস ও পরীক্ষা। গতকাল মঙ্গলবারও ধর্মঘট অব্যাহত থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসতে পারেনি। ফলে গতকালও সব ক্লাস পরীক্ষা স্থগিত থাকে। এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টর মো তাজুল ইসলাম ও রাশিদুল ইসলাম শেখ পুলিশ পাহারায় শহরে গিয়ে শহর গ্রুপের ১০-১২ জন নেতাকর্মীকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে। বেলা ১১টায় প্রক্টর অফিসে দীর্ঘ ৩ঘন্টা বৈঠকের পরও কর্তৃপক্ষ কোন সমোঝতায় আসতে পারেনি। শহর গ্রুপের নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার সহ পাঁচ দফা দাবীতে প্রক্টরের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল বিকেলে ভিসি ড.আমির হোসেন খানের সভাপতিত্বে শিক্ষকরা জরুরী মিটিংএ বসে। দীর্ঘ ৪ঘন্টাব্যাপি শিক্ষকদের মিটিংএ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ট্রেজারার গোপাল চন্দ্র সেনকে আহ্বায়ক করে ৮সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে ক্লাস শুরুর ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তে পৌছতে পারেনি ।
সহকারী প্রক্টর তাজুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে পাঁচ কমর্ দিবষের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবে। ধর্মঘটের ব্যাপারে তিনি বলেন, গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা উচিত। ছাত্রলীগ শহর গ্রুপের নেতা কর্মীদের সাথে যোগাযাগ করেও ধর্মঘট প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোন তথ্য জানা যায়নি।

Check Also

কুবি সাংবাদিক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান পালিত

মো শরীফুল ইসলাম,কুবি :– বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ...

Leave a Reply