ছাত্রলীগের একাংশের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :
ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বন্ধ হয়ে যায় চারটি বিভাগের চলমান ফাইনাল পরীক্ষাসহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম। ধর্মঘটের অংশ হিসেবে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবহনের সবকটি বাস শহরের কান্দিরপাড় টাউন হল চত্ত্বরে আটকে রাখে হাজী বাহার সমর্থিত ছাত্রলীগের শহর গ্রুপের কর্মীরা। সিএনজি যেগে পরীক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে যেতে চাইলে সেখানেও বাধার সৃষ্টি করা হয়। পরিক্ষা হবে কি হবে না এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রোববার নাসিমুল আলম নজরুল সমর্থিত ছাত্রলীগের স্থানীয় গ্রুপের নেতা-কর্মীদের হাতে শহর গ্রুপের পাঁচ কর্মী আহত হয়। এ ঘটনার বিচার দাবিতে ছাত্রলীগের শহর গ্রুপ গতকাল থেকে লাগাতার ছাত্র ধর্মঘট আহবান করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, গত রোববার দুপুরে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের ছাত্র মহিউদ্দিন সরকার শহরের খন্দকার অপটিক্স থেকে চশমা কেনার সময় দোকানদারের সঙ্গে বাক-বিতন্ডার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে দোকানদার তাকে মারধর করে। এ সময় মহিউদ্দিন নিজেকে ছাত্রলীগের স্থানীয় গ্রুপের কর্মী এবং সে গ্রুপের নেতা মাসুম-অর্নবের একান্ত লোক বলে পরিচয় দিলে দোকানদার তাকে আরো বেদম প্রহার করে। মারধরের খবর ক্যাম্পাসে জানাজানি হলে স্থানীয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকাল ৪টায় তারা ক্যাম্পাসের মূল গেইটে জড়ো হয়ে এ ঘটনার বিচার দাবিতে বাস আটকে দেয় এবং প্রক্টরিয়াল বডির নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে। এ সময় তারা ক্লাস শেষে শহর গ্রুপের কর্মী ও মার্কেটিং তৃতীয় ব্যাচের ছাত্র সাকিবকে মারধর করে। সাকিবকে উদ্ধার করতে মারুফ, ফয়সাল, মোশাররফ এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ও শিক্ষকমন্ডলী আহতদের উদ্ধার করলে শহর গ্রুপের নেতা-কর্মীরা তাদের কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। । স্মারকলিপির প্রেক্ষিতে প্রক্টরিয়াল বডির আশ্বাসে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ক্যাম্পাস থেকে বাস ছেড়ে যায়।
এ ঘটনায় শহর গ্রুপের কর্মীরা গতকাল সকালে ক্যাম্পসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া সবকটি বাস আটকে টাউন হল চত্ত্বরে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। প্রতিবাদ সমাবেশে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়। এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোন বাস ক্যাম্পাসে যেতে দেয়া হবে না এবং সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষনা দেয়া হয়। ফলে ৪টি ব্যাচের ফাইনাল পরীক্ষাসহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এদিকে অভিযুক্তদের বিচারের দাবীতে গতকাল বিকেলে কুমিল্লা শহরে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যানারে ছাত্রলীগ শহর গ্রুপ বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এ ব্যাপারে সহকারি প্রক্টর মো: তাজুল ইসলাম জানান, আমরা এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি, তাহলে আমরা কিভাবে ব্যবস্থা নেব ? আর ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ করে বাস আটকে রাখা অন্যায়।
এদিকে গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে শৃংখলা ভঙ্গের লিখিত অভিযোগে প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি দুই শিক্ষার্থীকে আর্থিক জরিমানা করে। অনুষ্ঠানের দিন লোকপ্রশাসন বিভাগের ২য় ব্যাচের ছাত্র শাহেদ আল মামুনকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার ঘটনায় হিসাব বিজ্ঞান ২য় ব্যাচের ছাত্র মফিজুর রহমান মুন্না এবং একই বিভাগের ৩য় ব্যাচের ছাত্র আশরাফুল আলম হিমেলকে ৫০০০ টাকা করে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল তথ্য কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

Check Also

কুবি সাংবাদিক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান পালিত

মো শরীফুল ইসলাম,কুবি :– বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ...

Leave a Reply