পিলখানায় খোয়া যাওয়া ২৬৮ আগ্নেয়াস্ত্রের হদিস নেই


ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০১০ (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :
পিলখানা হত্যাকান্ডের সময় খোয়া যাওয়া ১৯৮ শক্তিশালী আর্জেস গ্রেনেড ও ৭০টি অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রগুলো রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের কাছে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের একটিমাত্র গ্রেনেড শতাধিক মানুষকে স্তব্ধ করার ক্ষমতা রাখে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জনসমাগমে দুষ্টচক্রের রাজনৈতিক সন্ত্রাসীরা এ ধরনের ভয়াবহ অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ হত্যা করে থাকে। ইতিমধ্যে বহুল আলোচিত মামলার চার্জশিট দাখিল হলেও খোয়া যাওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের উপায় সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ১৩২ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়, খোয়া যাওয়ার মধ্যে রয়েছে – ১৯৮ আর্জেস গ্রেনেড, ৬৪ পিস্তল, ৫ চাইনিজ রাইফেল ও ১টি এসএমজি। পলাতক অভিযুক্তের সংখ্যা ২১ বলা হলেও তাদের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে কোনো ধারণা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি।
মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ঢাকা মেট্রো) আব্দুল কাহ্হার আকন্দ জানান, খোয়া যাওয়া গ্রেনেডগুলো অধিক শক্তিশালী। এর মধ্যে বিদ্রোহের সময় পিলখানা অভ্যন্তরে বেশকিছু গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কি পরিমাণ বিস্ফোরিত হয়েছিল তার হিসাব পাওয়া যায়নি। মোট খোয়া যাওয়ার এক-তৃতীয়াংশ বিস্ফোরিত হয়েছিল বলে ধারণার সঙ্গে একমত কি না প্রশ্ন করা হলে কাহ্হার আকন্দ জানান, এমন কোনো তথ্য কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মতে বেশ কিছু পিলখানা কম্পাউন্ডে বিস্ফোরিত হয়েছিল এবং বেশকিছু কম্পাউন্ডের বাইরে পাচারের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি মনে করছেন, খোয়া যাওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে পলাতক বিডিআর সদস্যদের হাতে কিছু থাকতে পারে। পলাতকরা কিছু বিক্রিও করে থাকতে পারে। তবে অনেক অনুসন্ধান হয়েছে, এখনো হচ্ছে। পলাতকদের গ্রেফতারে বিশেষ দল মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিকভাবে সতর্ক রয়েছে।

সিআইডির অপর একটি সূত্র জানান, গ্রেনেড খুব সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্র নয়। এগুলো দিয়ে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ করা হয় না। বিষয়গুলো সবাইকে খুব সতর্কতার সঙ্গে স্মরণে রাখতে হবে। নয়তো আবার বড় ধরনের কোনো দুঃখজনক ঘটনার অবতারণার আশঙ্কা থাকবে। সূত্র মতে, এ ধরনের গ্রেনেড ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ছোড়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী সেদিন মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন। রমনা বটমূল, যশোর, সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এবং সাবেক স্পিকার এস এ এম এস কিবরিয়ার ওপর এ ধরনের গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। এ বিষয়গুলো অনেক বেশি করে মনে রাখতে হবে। তখন জেএমবি, হুজি ও হরকাতুল জিহাদের সন্ত্রাসীরা কীভাবে গ্রেনেড সংগ্রহ করেছিল এবং কি ধরনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হামলাগুলো চালিয়েছিল তার বিস্তারিত তদন্তের বর্ণনা এখনো অস্পষ্ট। শুধু বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেই ঘটনাগুলোর তদন্ত শেষ করা হয়। কিন্ত এসব ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আর কোনো দিকনির্দেশনামূলক মন্তব্য তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ না থাকায় বিষয়গুলো নিয়ে যথেষ্ট সতর্কতা গ্রহণ করা হচ্ছিল না। এখন সময় এসেছে অন্তত পিলখানা হত্যাকা-ের মর্মান্তিক ঘটনা-পরবর্তী তদন্তে যাতে বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply