বিডিআর হত্যা মামলার চার্জশিট রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক : খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন


ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০১০ (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বিডিআর হত্যা মামলার চার্জশিটে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরুদ্দিন আহমেদ পিন্টুর নাম দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। বলেছেন, বিরোধী দলকে নির্মূল করার সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পিন্টুর নাম চার্জশিটে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পিন্টুর বিরুদ্ধে সাজানো মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে দেলোয়ার বলেন, এত বড় একটা ঘটনা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। আর মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত না করে চার্জশিট দেয়া হয়েছে।
চার্জশিটে আওয়ামী লীগের তোরাব আলীর নাম থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি নেতা নাসিরুদ্দিন পিন্টুকে জড়ানোর জন্যই সরকার তোরাব আলীর নাম জড়িয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টু এবং আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ৮২৪ জনকে অভিযুক্ত করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম একেএম এনামুল হকের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) । বিদ্রোহ ও হত্যার ঘটনা নিয়ে লালবাগ থানায় মামলা দায়েরের ১ বছর ৪ মাস পর এ অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র জমা দেয়ার জন্য সাতবার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। একজন পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৮০ জন কর্মকর্তা এ মামলা তদন্তে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৩ জন নিহত হয়। ঘটনার দুইদিন পর একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় রাজধানীর লালবাগ থানায়। পরে মামলাটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডিকে। তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয় সংস্থার তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দকে। মামলায় ৫ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ ৩৫ বেসামরিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সাবেক সেনাপ্রধান, ৬ হাজার ৪৩৫ বিডিআর জওয়ান, ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৬৭ জনসহ ১৩৯ সেনা কর্মকর্তা, বিডিআর হাসপাতালে কর্মরত ৪১৭ চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারীসহ ৭ হাজার ৯৭৪ জনকে। মামলায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭শ জন বিডিআর জওয়ান এবং নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু, তোরাব আলীসহ ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২ হাজার ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ৫৪৩ জন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। অভিযোগপত্রে ৮২৪ জন ব্যতীত অন্য আসামিদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তি দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে ।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply