মুরাদনগরে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের পদ দখলের পাঁয়তারা


স্টাফ রিপোর্টার, মুরাদনগর, ১৩ জুলাই ২০১০ (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :

মুরাদনগর উপজেলার পাচঁপুকুরিয়া বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে মনগড়া নিয়োগ কমিটি বানিয়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন প্রধান শিক্ষক পদ দখল করার পাঁয়তারা করছে। বিষয়টির ব্যাপারে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করলেও অনেককে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে গুরতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন যাবত স্বেচ্ছাচারিতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দসহ অভিভাবক মন্ডলী তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ, বিনা মূল্যের বই বিতরনে অর্থ গ্রহন ও প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ পাহাড় সমান অভিযোগ বিভিন্ন স্থানে করলেও কোন ফল হয়নি। সে একটি মহলকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজের মাধ্যমে একের পর এক দূর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করে রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ করলেই শুরু হয় তড়িগড়ি ম্যানেজের প্রক্রিয়া। অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন সবকিছুই ম্যানেজ করে যাচ্ছেন আজান দিয়ে। যার ফলে অপরাধ করেও তার সকল দূর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি সহজেই ধামাচাপা পড়ে যায়। এলাকাবাসী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের খুটির জোর কোথায় জানতে চায়! সে ভূয়া রেজুলেশন সৃষ্টি করে কমিটির অন্য সদস্যদের ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ভাবে আব্দুল বারীকে সভাপতি এবং কামাল হোসেনকে সহ-সভাপতি বানিয়ে দেদারসে সকল অপকর্ম জায়েজ করে দাবরিয়ে বেড়াচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কারীদেরকে তিনি একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীসহ নাজেহাল করে যাচ্ছেন। ফলে স্কুলের সাধারণ অভিভাবক ও সহজ সরল কমিটির লোকজন ইজ্জত সম্মানের ভয়ে ইচ্ছা থাকলেও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন না।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে দায়ের করা অভিযোগ সমূহ সঠিক নয়। একটি মহল তাকে ওই স্কুল থেকে বিতাড়িত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, যোগ্যতার মাপকাঠিতেই তাকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
অপর দিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদার জানান, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য সাজানো নিয়োগ কমিটি গঠন করার খবরে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হয়েও যাইনি। পরে জানতে পারলাম, সে একজন ভাল শিক্ষক বিধায় তাকে নেয়ার জন্য অনেকে সুপারিশ করেছেন।
এ দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুন আল রশীদ জানান, আমার মতে শুধু এ দ্যিালয়ই নয়, যে কোন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ না দেয়াই উত্তম, কারন-এ পদটি লোভনীয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদে থাকার সময় স্কুল কমিটি ও প্রশাসনের কিছু লোকের সাথে তার সম্পর্ক হয়। সে সুবাধে যাকে ধরলে প্রধান শিক্ষক হওয়া যাবে তাকেই ম্যানেজ করে নামমাত্র সার্কুলার দিয়ে অর্থের বিনিময়ে পকেট নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়। আর ওই পকেট নিয়োগ কমিটিই তাকে ভাল মেধাবী উপাধি দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ব্যাবস্থা করে থাকেন। ফলে ওই বিদ্যালয়ে দূর্নীতি ও অনিয়ম আরো বেড়ে যায়।

Check Also

দেবিদ্বারের সাবেক চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু: কঠোর নিরাপত্তায় গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভাণী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান (৫৫) করোনায় আক্রান্ত ...

Leave a Reply