নয় রাত ঘুমাতে পারিনি : নামাজ পড়ারও সুব্যবস্খা করে দেয়া হয়নি: আদালতে মুজাহিদ-সাঈদী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আদালতে বলেছেন, গত নয় দিনের রিমান্ডে তাদের ঘুমাতে দেয়া হয়নি। রাতভর বসিয়ে রাখা হয়েছে। নামাজ পড়ারও সুব্যবস্খা করে দেয়া হয়নি। রাতে উচ্চ তাপমাত্রার বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে। এতে তারা অসুস্খ হয়ে পড়েছেন। আদালতে একই বক্তব্য তুলে ধরে জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতার আইনজীবীরা তাদের রিমান্ডে না নিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন জানান।
আদালত দুই নেতার আইনজীবী ও সরকার পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে রমনা থানার একটি মামলায় মঞ্জুরকৃত চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। তিন নেতার আইনজীবীরা বলেছেন, এভাবে লাগাতার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ আইনসম্মত নয়।
পল্টন থানার তিনটি মামলায় নয় দিনের রিমান্ড শেষে জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতাকে গত শনিবার ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ৩টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে কড়া পুলিশ প্রহরায় সিএমএম আদালতে নেয়া হয় সাঈদী ও মুজাহিদকে। প্রিজন ভ্যানে করে সাধারণ বন্দিদের মতোই তাদের আদালতে নেয়া হয়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাদের বহনকারী প্রিজন ভ্যান আদালত কম্পাউন্ডে পৌঁছায়। সেখানে তাদের আধাঘন্টা কোর্ট হাজতে রাখার পর বেলা ৪টার দিকে এজলাসে উঠানো হয়। এ সময় দুই নেতাকে খুবই ক্লান্ত দেখাচ্ছিল।
আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্খিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মশিউল আলম, অ্যাডভোকেট মো: আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট এফ এম কামাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান, ইউসুফ আলী, শামসুল ইসলাম আকন্দ, লুৎফর রহমান আজাদ এবং অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ মোল্লাসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী।
জামায়াতের দুই নেতাকে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট ড. আবদুুল মজিদের আদালতে নেয়া হয়। সেখানে তাদের আইনজীবীরা পল্টন থানার তিনটি মামলায় জামিনের আবেদন করেন এবং নতুন করে রিমান্ডে না দিয়ে আপাতত জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন জানান। আদালত আসামি পক্ষের আবেদন নামঞ্জুর করে রমনা থানার গাড়ি পোড়ানো ও ফারুক হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। এর আগেই গত ৩০ জুন ওই মামলায় দুই নেতার প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। জামায়াত নেতাদের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, সাঈদী ও মুজাহিদকে পুলিশ রিমান্ডে থাকাকালীন নয় রাত ঘুমাতে দেয়া হয়নি। তাদের রাতভর বসিয়ে রাখা হয়েছে। মাথার ওপর উচ্চ তাপমাত্রার বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে। এভাবে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের কারণে তারা খুবই অসুস্খ হয়ে পড়েছেন। তারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে নেই। তারা দুই নেতাকে জেলহাজতে প্রেরণ ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার আবেদন জানান।
আদালতে মুজাহিদ বলেন, রাতে ৩০০ ওয়াটের বাল্ব জ্বালিয়ে রাখা হয়। দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে পারি না। চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করতে হয়। কিন্তু সেই ব্যবস্খা নেই। তিনি আদালতকে বলেন, গ্রেফতারের সময় তার ব্লাড প্রেসার ছিল ৮০/১২০। কিন্তু বর্তমানে প্রেসার ১০০/১৫০।
সাঈদী বলেন, তিনি বয়স্ক লোক। এভাবে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অসুস্খ হয়ে পড়েছেন।
দুই নেতাই তাদের রিমান্ডে না নিয়ে চিকিৎসার আবেদন জানান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...