ওসি’র যোগসাজসে বেওয়ারিশ হিসেবে তড়িগড়ি করে লাশ দাফন: তিতাসে প্রেমিকাকে গণধর্ষণ শেষে খুন করে লাশ বস্তায় পুড়ে পানিতে ফেলে দেয় পাষন্ড প্রেমিক

স্টাফ রিপোর্টার, মুরাদনগর
মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের ছয়ফুল্লাহ কান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ওরফে দুলালের মেয়ে জান্নাতুল জাহান ওরফে মর্জিনাকে (২২) কথিত প্রেমিক তিতাস উপজেলার কালাচান্দ কান্দি গ্রামের মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে টিটু (২৮) সঙ্গীদের নিয়ে নিজ বাড়িতে গণধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশ বস্তায় পুরিয়ে পাশ্ববর্তী কাউরিয়ার বিলে ফেলে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার ১০ দিন পর স্থানীয় চৌকিদার বাবুল মিয়ার মাধ্যমে তিতাস থানা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিনই তিতাস থানার ওসি আবুল ফয়সলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তড়িগড়ি করে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে কালাচান্দ কান্দি গ্রামে দাফন করে ফেলে। বর্তমানে এ ঘটনায় জড়িত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক।
মর্জিনার মা ফাতেমা বেগম জানান, গত এক বৎসর পূর্বে মোবাইলের মাধ্যমে মর্জিনার সাথে টিটুর পরিচয় হয়। ঘটনার দিন ১৭ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকালে টিটু আমাদের বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিন্তু সে না এসে ০১৯১৪৩৩৩৩৯১ নাম্বার থেকে মর্জিনার ০১৯২৬০০২৩৪৩ নাম্বারে ফোন করে কোথায় যেন তাকে যেতে বলল। মর্জিনা আমাকে বলে মা আমি এখনই আসতেছি এই যে গেল আর ফিরে এলোনা। অনেক খোঁজা খুঁজি করে কোথাও পাইনি। গত ২৬ জুলাই যখন লোক মারফত জানতে পারলাম খুনি টিটুদের গ্রামে একটি বস্তা ভর্তি অজ্ঞাত মহিলার লাশ পাওয়া গেছে। তখন সন্দেহ হল নিশ্চয়ই আমার মেয়েকে নিয়ে মেরে ফেলেছে। ওই দিনই আমি তিতাস থানায় গিয়ে আমার মেয়ের বর্ণনা দিলে প্রমানিত হয় যে অজ্ঞাত লাশটিই আমার মেয়ের। তিনি কবর থেকে লাশ উঠাইয়া নিজ গ্রাম ছয়ফুল্লাকান্দি নিতে চাইলে মামলার আই-ও তিতাস থানার এসআই মিজানুর রহমান ১৫/২০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। তখন তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ১৩ বছর পূর্বে মর্জিনার বাবা অন্য মহিলাকে বিয়ে করে দিনাজপুরে চইল্লা গেছে, সেই থেকে দুই মেয়ে এক ছেলে নিয়া অভাব অনটনের মধ্য দিন কাটাইতেছি। তার মধ্য মেয়ের লাশ নিতে এত টাকা পাব কোথায়?
মর্জিনার চাচা মনির জানান, ওই গ্রামের খুনি টিটুসহ ৮/১০জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করতে চাইলে ওসি মামলা নিতে নারাজ। প্রভাবশালী ফরিদ মেম্বার ছেলে নাছিরের নাম দেয়ায় ওসি আমার প্রতি ক্ষেপে যান এবং বলেন, সে আমার বন্ধু মানুষ। এ ছাড়াও সে আওয়ামী অঙ্গসংগঠনের সাথে জড়িত। অথচ ঘটনার শুরু থেকে সব কিছুই হচ্ছে নাছিরের নির্দেশে।
এ দিকে খুন হওয়া মর্জিনার পরিবারকে আসামী পরে লোকজন বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। এ ঘটনায় তিতাস থানার পুলিশ খুনি টিটুর তালুই ইমান্দি কান্দি গ্রামের মৃত জব্বর মাষ্টারের ছেলে ইদ্রিছ মিয়াকে আটক করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে তিতাস থানার ওসি আবুল ফয়সাল জানান, আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমানের মোবাইল নাম্বারে (নং ০১৭১২০৯২৭৪৬) বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করে ও তাকে পাওয়া যায়নি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...