সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে অপহরণ শুরু করেছে : চৌধুরী আলমকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীই গ্রেপ্তার করেছে -বিএনপি


ঢাকা, ১০ জুলাই ২০১০ (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :
নিখোঁজ চৌধুরী আলমের অবস্থান সর্ম্পকে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে বিএনপি। সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে অপহরণ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। বলেছেন, চৌধুরী আলম নিখোঁজ হওয়ার পরও সরকারের নীরবতা প্রমাণ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীই তাকে গ্রেপ্তার করেছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী আলমের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সরকারের উদাসীনতার প্রতিবাদে শনিবার রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এ অভিযোগ করেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অতীতে অত্যাচার করে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমান সরকারও পারবে না। ‘সারা বাংলাদেশে জনগণের আজ একটাই প্রশ্ন চৌধুরী আলম কোথায়?’
খন্দকার মোশাররফ বলেন, “বিরোধী দলকে দমিয়ে রাখতে সরকার নির্যাতন-গুম-অপহরণের পথ বেছে নিয়েছে। চৌধুরী আলমকেও তারা অপহরণ করেছে। ‘৭২-৭৫ সালেও তারা এভাবে অনেক বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে গুম করেছে। এবারও তারা একই কাজ করছে।” তিনি দাবি করেন, সাদা পোষাকধারী আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই চৌধুরী আলমকে গ্রেপ্তার করেছে। তাই অনতিবিলম্বে তাকে মুক্তি অথবা আদালতে হাজির করতে হবে।
ডিসিসি মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেন, চৌধুরী আলম কোনো অপরাধ করে থাকলে তার জেল হতে পারে। তবে আইন মেনেই এটা করতে হবে। একজন নির্বাচিত কাউন্সিলরকে গায়েব করে দেয়া সোজা কথা না। এই সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের একদিন না একদিন এর জবাব দিতে হবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একটি মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাবে, কিন্তু কেউ কোনো কথা বলবে না। সরকারও একটি কথা বলবে না। আমরা এই কোন সমাজে বাস করছি। এই সরকার আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সালাম বলেন, ক্ষমতায় গেলে চৌধুরী আলমের নিখোঁজ হওয়ার প্রথম মামলাটি দেয়া হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।
সরকারের এ ধরণের তৎপরতার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
দলটির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য মওদুদ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান সরকার অপহরণের রাজনীতি শুরু করেছে। এ সরকারের আমলে গুপ্ত হত্যা বেড়েছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এভাবে আওয়ামী লীগ সংবিধান ও মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে।”
উল্লেখ্য, ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও রমনা থানা বিএনপির সভাপতি চৌধুরী আলম হরতালের দুইদিন আগে গত ২৫ জুন রাতে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। সাদা পোশাকধারী র্যাব সদস্যরা তাকে আটক করেছে বলে তার পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চৌধুরী আলমকে গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করেছে।
মহানগর বিএনপির উদ্যোগে মুক্তাঙ্গণে বিকালে নিখোঁজ রমনা থানা বিএনপির সভাপতি ও ৫৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী আলমকে খুঁজে বের করার দাবিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়। রমনা থানাসহ আশ-পাশের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতা-কর্মীরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে সমাবেশে অংশ নেয়।
বিএনপির সহসভাপতি সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, দপ্তর সম্পাদক রিজভী আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম, যুব দলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান, মহিলা দলের সভাপতি নুরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, ছাত্র দলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, চৌধুরী আলমের ছোট ভাই খোরশেদ আলম মিন্টুসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলররা বক্তব্য রাখেন।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply