রাজধানীর যানজট নিরসনে ৯৫০টি নতুন বাস নামানো হবে তিন মাসের মধ্যে


ঢাকা, ১০ জুলাই ২০১০ (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :
রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাত্রীদের উন্নতসেবা দিতে সরকার প্রায় এক হাজার নতুন বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার রাস্তায় প্রথম নামছে রেলের বগির মতো দেখতে আর্টিকুলেটেড ৫০টি বাস। নতুন বাসের মধ্যে রয়েছে ৩০০টি ডবলডেকার ও ২৫০টি এসি বাস। আগামী তিন মাসের মধ্যে এসব বাস রাস্তায় নামানো হবে। চলতি মাসেই টঙ্গী থেকে নিউমাকের্ট রুটে নামবে ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাস। বাকিগুলোর জন্য আগামী মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানান যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন।
তিনি জানান, তিন মাসের মধ্যে রাজধানীতে নতুন ৯৫০টি বাস নামানো হবে। বিআরটিসির নিয়ন্ত্রণে এসব বাস রাস্তায় নামানো হবে। নতুন বাস রাস্তায় নামার পর পুরনো বাসগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়ে ক্র্যাশ করা হবে বলেও তিনি জানান। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন, নরডিক ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (এনডিএফ) এবং কোরিয়া সরকারের অর্থায়নে এসব বাস কেনা হচ্ছে। নতুন বাসবহরে রয়েছে রেলের মতো বগি সংবলিত আর্টিকুলেটড বাস ৫০, ডবলডেকার ৩০০, ভারত থেকে আনা ১০০টি এসি বাস। কোরিয়া থেকে আসবে ৩০০টি বাস। এর মধ্যে ১৫০টি এসি এবং ১৫০টি নন-এসি। চীন থেকে আনা হচ্ছে আরও ২০০ নন-এসি বাস। গত মাসে চীন থেকে ১০০ বাস আনা হয়, যা রাজধানীতে চলাচল করছে।
বিআরটিসির পরিচালক কর্নেল কামাল আক্তার বলেন, সাড়ে ৯০০ বাস কেনার বিষয়ে কিছু প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে, কিছু কেনার বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে এবং কিছু বাস বিষয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে বিআরটিসির বহরে প্রায় সাড়ে ৬০০ বাস রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এসব বাসের অর্ধেকই অলাভজনক অবস্থায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী অকেজো বাসের মধ্যে ২০০৪ সালে ৭টি, ২০০৩ সালে ৭টি, ২০০২ সালের ১১টি, ২০০১ সালে ৩৬টি এবং ২০০০ সালে কেনা ৩০টি বাস রয়েছে। বাকিগুলো ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে কেনা। ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন বাস ডিপোতে এসব বাস পড়ে আছে। এসব বাসের মধ্যে বেশির ভাগই অশোক লেল্যান্ড দ্বিতল বাস। একতলা টাটা কামিনস (টিসি) বাস রয়েছে অর্ধশতাধিক। বাকিগুলো একতলা টাটা ও একতলা ইসুজু (হিনো) বাস।
বর্তমান সরকার পুরনো বাস মেরামতের ক্ষেত্রে অর্থায়ন করতে নারাজ। কারণ এসব বাস পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকায় মেরামত করলে আশানুরূপ আয় হয় না; বরং মেরামত কাজে যথেচ্ছ অর্থ অপচয় এবং লুটপাট হয়। গত জোট সরকারের আমলে একেকটি বাসের ভারী মেরামতের জন্য ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা খরচ করার নজির রয়েছে। একটি সূত্র জানায়, নতুন যন্ত্রাংশের নাম দিয়ে পুরনো যন্ত্রাংশ সংযোজন করেই মেরামত করা হতো। অনেক সময় কোনো যন্ত্র না লাগিয়ে নতুন যন্ত্র সংযোজন করা হয়েছে মর্মে বিল করা হতো।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply