কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠিত : রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক-রাজনীতি


কুমিল্লা, ০৯ জুলাই ২০১০ (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :
ধূমপান ও রাজনীতিমুক্ত’ শিক্ষাঙ্গনের অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠন করেছেন। এর মাধ্যমে শিক্ষাকার্যক্রম চালুর তিন বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকেরাও রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। তবে পরিষদের নেতাদের দাবি, বঙ্গবন্ধুর নামে গবেষণা করার জন্য বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠন করেছেন তাঁরা। জানা গেছে, অসদাচরণের অভিযোগ থাকা শিক্ষকও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নবগঠিত বঙ্গবন্ধু পরিষদে যোগ দিয়েছেন।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ তথা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী শিক্ষকদের এক সভা হয়। এতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমানকে সভাপতি এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. তাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে আট সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন সহসভাপতি বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জি এম মনিরুজ্জামান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আইনুল হক, যুগ্ম সাধারণ পদে সম্পাদক অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মো. শামীমুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রভাষক মো. রশিদুল ইসলাম শেখ, অর্থ সম্পাদক পদে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক মো. তোফায়েল হোসেন মজুমদার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া। সভা শেষে শিক্ষকেরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
জানা গেছে, ২০০৯ সালের ১০ আগস্ট দুপুর আড়াইটায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কাজী জাহিদুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একজন উপাচার্যের সঙ্গে তাঁর বিভাগের নাম পরিবর্তন নিয়ে অসদাচরণ করেন।একই সঙ্গে তিনি ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন উপাচার্যসহ এক সিন্ডিকেট সদস্যকে অবরুদ্ধ করে উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দেন। গত সোমবার উপাচার্য, শিক্ষক ও ছাত্রদের এক বৈঠকে উত্তেজিত হয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কলম ছুড়ে মারেন। এতে উপাচার্যসহ সবাই হতভম্ব হয়ে পড়েন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(৪) নম্বর ধারায় বলা আছে, ‘কোন শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হইতে পারিবেন না।’ এমনকি শিক্ষকেরা চাকরির সময় লিখিত চুক্তির মাধ্যমে রাজনীতি করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। এখানে আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছি না। বঙ্গবন্ধুর নামে গবেষণা করার জন্য বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠন করেছি। এটা শিক্ষক-রাজনীতির অংশ নয়।’ এ প্রসঙ্গে কুমিল্লার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আমির আলী চৌধুরী বলেন, ‘এখন বঙ্গবন্ধু পরিষদ হয়েছে। পরে জিয়া পরিষদ হবে। এতে শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি বাড়বে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে বলা আছে, কোনো শিক্ষক-রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না। তা ছাড়া ক্যাম্পাস ধূমপান ও রাজনীতিমুক্ত। এখন শিক্ষকেরা যদি কোনো সংগঠন করে থাকেন, এ ব্যাপারে আমার কথা বলা ঠিক হবে না। আমি বিষয়টি জেনেছি।’

Check Also

কুবি সাংবাদিক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান পালিত

মো শরীফুল ইসলাম,কুবি :– বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ...

Leave a Reply