জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ : অর্ধশতাধিক আহত : ছাত্রলীগের ১৩ কর্মীকে বহিস্কার


ঢাকা, ০৫ জুলাই ২০১০ (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :
হলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক সহকারী প্রক্টরসহ আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। আহতদের মধ্য ১৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। আল-বিরুনি হলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সাফিন ও সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলম সাম্যের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রুপের মধ্যে কমপক্ষে ১১ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে। কয়েক দফার এ সংঘর্ষ আল-বিরুনি হল থেকে অন্য হলেও ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীর ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালান।
ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ১৩ কর্মীকে বহিস্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে।

বহিস্কৃতরা হলেন- কাজী মারুফ সজীব, বিজয় কুমার দাশ, পারভেজ, দেবব্রত প্রিয় জনি, আরিফুল হক আরিফ, খায়রুল বাশার রাজু, শুভাশীষ কুন্ড টনি, মহিউদ্দিন আহমেদ মুহি, উজ্জ্বল কুমার দাশ, চয়ন, সকাল, স্বাধীন ও পলাশ।
সন্ধ্যায় ছাত্র লীগের সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়,ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার রোটনের জানান, বিকালে কার্যনির্বাহি সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কমিটি স্থগিত ও ১৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সন্ধ্যায় অনির্দিষ্টকালের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার কার্যক্রমও স্থগিত করার ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় সংগঠন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে সেসময়ে কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তিতে ওই কমিটি বাতিল করে গত ১৯ মে সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সাফিন ও সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলম সাম্যের নেতৃত্বে নতুন কমিটি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আরজু মিয়া।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply