কুমিল্লায় স্বাস্থ্য বিভাগে ভুয়া ডাক্তারের নিয়োগ নিয়ে তোলপাড়

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে একজন ভুয়া ডাক্তারের নিয়োগ নিয়ে পুরো স্বাস্থ্য বিভাগে এখন তোলপাড় চলছে। ফেনীতে ভুয়া ডাক্তার প্রমানীত হওয়ার পর সরকারি চাকুরীতে ফরিদ উদ্দিন নামের এক ভুয়া ডাক্তারের নিয়োগপ্রাপ্তির ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের সিনিয়র কর্তাব্যক্তিরাও হতবাক। কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগ পাওয়া ফরিদ উদ্দিন ছাড়াও তথ্য গোপন রেখে লোপা সেন গুপ্ত নামের একজন ইন্টার্নী ডাক্তার মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বিষয়টি তদন্তে নেমেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
জানা যায়, সরকার চলতি বছর এডহক ভিত্তিতে দেশব্যাপী ৩ হাজার ৫ শ’ ডাক্তার নিয়োগ প্রদান করে। ঐ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গত ৩ জুলাই মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ও ১ জুলাই লোপা সেন গুপ্ত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার পদে যোগদান করতে আসেন। কিন্তু একই পদে অপর একজন ডাক্তার যোগদান করায় ফরিদ উদ্দিন যোগদান করতে পারেনি। তবুও ফরিদ উদ্দিনের নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। কারণ ফেনীর ডাক্তার মিরাজ একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। তিনি সদ্য নিয়োগ পাওয়া ফরিদ উদ্দিনকে দেখে ফেনীর সিভিল সার্জন ডাক্তার জাহাঙ্গীর হোসেন ও ফেনীর বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডাঃ কাউছারকে বিষয়টি অবহিত করেন। ২ মাস আগে ফরিদ উদ্দিন ভুয়া ডাক্তার প্রমানীত হওয়ায় ফেনীর ডায়াবেটিক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। ওই সময় ফেনীর সিভিল সার্জনের তদন্তে ফরিদ উদ্দিনের দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের সনদ ও বিএমডিসি’র সনদপত্রটি ভুয়া প্রমানীত হয়। গত ১৩ মে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ হামিদুল হক খন্দকার কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক পত্রে ফরিদ উদ্দিন দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি বলে ফেনীর সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ চিকিৎসা ও দন্ত চিকিৎসা পরিষদ (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রার কর্তৃক গত ২৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয় মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনের দাখিলকৃত কাগজপত্র ভুয়া। তার দাখিলকৃত সনদপত্রটি সোনিয়া আক্তার নামের এক চিকিৎসকের। এ ব্যাপারে বিএমএ কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, সরকারি চাকুরীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দেয়া হলে এ ধরণের দুর্নীতি ও জালিয়াতি সংঘটিত করতে কেউ সাহস পাবে না।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আবদুল মতিন পাটোয়ারী জানান, গতকাল ৫ জুলাই ফরিদ উদ্দিনের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, লোপা সেন গুপ্ত ইন্টার্নী শেষ না করেই কীভাবে নিয়োগ পেয়েছে এ বিষয়ে লিখিতভাবে তাকে জানানোর জন্য চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শফিকুল হায়দার চৌধুরীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...