ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ডিজিটাল স্কুলিং সিষ্টেম


মো: তারেক মাহমুদ সরকার :
মানুষের যে কোন বিষয়ে অভ্যাস তৈরী করার মোক্ষম সময় বা বয়ষ হল তার স্কুল জীবন। একজন মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তির হাতে খড়ি দেয়ার উত্তম সময়ও স্কুল জীবন। তাহলে স্কুলে গমনকারী প্রতিটি ছাত্র/ছাত্রীকে দক্ষ জনবল হিসাবে তৈরী করার জন্য তথ্য প্রযুক্তির উপর জ্ঞান বাড়ানোর উদ্দৌগ নেয়াটা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। অন্যথায় আমাদের দেশের বর্তমানে স্কুল কলেজে যে ছাত্র/ছাত্রীরা আছে তারা ডিজিটাল ডিভাইডে পিছনে পড়ে থাকবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য স্কুল কলেজের ডিজিটাল কমর্কান্ড হাইস্কুল পরযায় থেকে শুরু করা অতন্ত্য জরুরী। কলেজে এ কর্মকান্ড অনতি বিলম্বে শুরু করা আব্যশ্যক অন্যথায় প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আমরা আরো পিছিয়ে পরব।
তথ্যপ্রযুক্তি শুধুমাত্র স্কুল কলেজে একটা দুইটা কম্পিউটার ক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে আমাদের দেশে স্কুল কলেজে ডিজিটাল কর্মকান্ড চালানোর জন্য ভৌত কাঠামো তৈরী হয়েই আছে এখন প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে তার বাস্তবায়ন করা। প্রতিটি ছাত্রছাত্রীদের নবম শ্রেনী থেকেই ডিজিটাল কর্মকান্ডের বিষয়ে সম্পৃক্ত হতে পারবে। তারজন্য নিন্মবর্নিত কয়েকটি কর্মপন্থা গ্রহন করতে হবে।
১। নবম শ্রেনীর সকল ছাত্র/ছাত্রী আমেরিকার ডিভি আবেদনের মত অনলাইন রেজিষ্টেশন করবে। তবে অনলাইন রেজিষ্টেশনের সম্পূর্ন ফরমটি প্রিন্ট করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।প্রতিটি ছাত্র/ছাত্রী অনলাইন আবেদনটি তিন কপি প্রিন্ট করে এককপি নিজের কাছে রেখে দুই কপি স্কুলে জমা দিবে। স্কুল এক কপি অফিস কপি রেখে। অন্যটি বোর্ডে জমা দিবে। সকল ছাত্রছাত্রীকে ই-মেইল এড্রেস থাকতে হবে যাতে তার ইমেইলে মেইল করে বোর্ড হতে রেজিষ্টেশন নম্বর জানতে পারে। একজন ছাত্র/ছাত্রী পৃথক মেইল এড্রেস ব্যবহার করবে। এজন্য বোর্ডের সার্ভারে এরুপ ব্যবস্থা থাকবে যাতে একই মেইল এড্রেস একাধিক ছাত্র/ছাত্রী ব্যবহার করতে না পারে। মেইলে এটাচমেন্ট আকারে রেজিষ্টেশনের কপি প্রেরন করা হবে। ছাত্র/ছাত্রীরা রেজিষ্টেশন কনফারমেশনের দুই কপি প্রিন্ট করে এক কপি নিজের কাছে রাখবে আর অন্য কপিটি রেজিষ্টেশন নিশ্চিত করার জন্য স্কুলে জমা দিবে।এটা হল প্রথম ডিজিটাল কাজ।
২। দ্বিতীয় পরীক্ষার আগে একই পদ্ধতিতে পরীক্ষার জন্য ফরম ফিলাপ করবে। পরীক্ষার ফি পাঠানোটা ব্যাংক ড্রাফট বা পে অর্ডারে স্কুলের মাধ্যমে পাঠাবে। স্কুলের ড্রাফট বা পে অর্ডার নাম্বার অনলাইন ফরম ফিলাপের সময় উল্লেখ করবে। পূরবের মত একইভাবে তিন কপি অনলাইন ফরম প্রিন্ট করে নিজে,স্কুল ও বোর্ডে পাঠাবে। বোর্ড হতে ছাত্র/ছাত্রীরা মেইল এড্রেসে এ্যাডমিট কার্ড পাঠানো হবে। ছাত্র/ছাত্রীরা মেইল এটাচ হতে এ্যাডমিট কার্ড দুই কপি প্রিন্ট নিয়ে নিজে এক কপি রেখে দুই কপি একটি স্কুলে দিবে অন্যটি বোর্ডে পাঠাবে।
৩। পরবর্তীতে বোর্ড হতে মার্কশীট মেইল এটাচ করে ছাত্র/ছাত্রীকে পাঠাবে। তারা বোর্ড থেকে পাঠনো মার্কশীট প্রিন্ট করে স্কুলের মাধ্যমে বোর্ডে পাঠিয়ে নিরীক্ষা ও স্বাক্ষর করিয়ে নেবে।

এভাবে আমরা ডিজিটাল স্কুলিং এর সুচনা করতে পারব। এতে যে বিষয়গুলি আমরা অর্জন করব তা হল নিন্মরুপ:
১। একজন ছাত্রছাত্রী নবম শ্রেনী থেকেই তার ই-মেইল এড্রেস থাকবে এবং বোর্ড হতে তিনটি মেইল প্রাপ্ত হয়ে মেইল আদান প্রদান শিখবে। এভাবে ধীরে ধীরে ডিজিটাল ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ততা চলে আসবে।
২। সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে বতমানে পিতামাতারা অনেক বেশী সচেতন । তারাও ই-মেইল কি জিনিসি,অনলাইন সাবমিশন কিভাবে করতে হয় জানবে। মোটকথা আনেক অডিজিটাল পিতামাতা ডিজিটাল ব্যবস্থার সাথে একাত্ব হতে পারবে।
৩। অনেক অডিজিটাল শিক্ষক শিক্ষিকা ডিজিটাল সিষ্টেমের সাথে পরিচিত হতে পারবে।
৪। দেশের প্রতন্ত্য অঞ্চলে মোবাইল মোডেম দিয়ে ইন্টরনেট ব্যবসা আরো বেগবান হবে। ছাত্র/ছাত্রীরা কিছু টাকা খরচ করে তাদের কারযার্দি সম্পন্ন করতে পারবে।
৫। ডিভি অনলাইন করার জন্য দেশব্যাপী কম্পিউটার দোকানগুলি যেরুপ তৎপর হয় তেমনি লক্ষাধিক ছাত্র/ছাত্রীকে সামাল দিতে অনেক বেকারের কর্মসংস্থান তৈরী হবে।
৬। প্রতিটা অভিভাবকের ১০০/২০০ টাকা খরচ গেলেও তারা স্কুলের কেরানীদের কাছে আর জিম্মি থাকতে হবে না। অনেক হয়রানী থেকে মুক্তি পাবে।
৭। স্কূল কর্তৃপক্ষের কাজ কমবে কারন ছাত্রছাত্রীরা নিজেরা সব কিছু করে প্রিন্ট কপি স্কুলকে দিবে বাকী দাপ্তরিক কর্মকান্ড করার জন্য। এতে অনেক শিক্ষকও যুক্ত হবে ফলে তাদেরও কাজের চাপ কমবে শিক্ষকরা অধিক সময় পাবে ও তারা ক্লাস নেয়ায় আরো তৎপর হতে পারবে।
৮। বোর্ড কর্তৃপক্ষ তার সীমিত জনবল নিয়ে আরো গতিশীলভাবে তাদের কার্যাবলী সম্পন্ন করতে পারবে।
এধরনের ডিজিটাল সিষ্টেমে কারো কারো ক্ষতি হতে পারে তা বিশ্লেশন করা যেতে পারে।প্রথমত: কেরানী শ্রেণী এবং স্কুলের ও বোর্ডের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বাড়তি আয়ের বা অনৈতিক আয়ের সুযোগ কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ভয় থাকছে বলে আমরা ধারনা করতে পারি। মনে হয় তা তারা হবেন না কারন হার্ডকপির মাধ্যমে অফিসিয়াল প্রক্রিয়া চালু থাকছে। বরঞ্চ কিছু স্মার্ট কেরানী ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহার করে কিছু ছাত্র/ছাত্রীকে সাহায্য করে বাড়তি উপারজন করতে পারবে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ কি কিছু বাড়তি উপাজর্ন হারাবে? মোটেও না। তাদের উপার্জন ঠিক থাকবে বরং ডিজিটাল হওয়ায় তাদের কাজ সহজ হবে।
এবার আশা যাক রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কি কি লাভ হবে । দলীয় টেন্ডারের মাধ্যমে অনেক ডিজিটাল সামগ্রী ক্রয় করার সুযোগ হবে। নিবাচর্নী ওয়াদা পূরনে সহায়তা করবে। বিভিন্ন স্কুল কলেজে অনলাইন রেজিষ্টেশন ও অনলাইন ফরম ফিলাপের উদ্বোধন করে ছবিসহ অনেক অনেক ডিজিটাল কাযক্রমের ছবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিনা অর্থব্যয়ে সংবাদ তৈরী করতে পারবেন।
সবশেষে আমরা দেখতে পাচিছ ডিজিটাল স্কুলিং সিষ্টেম সকলের জন্য লাভজনক। এটা বাস্তবায়ন ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য অতন্ত্য জরুরী । পরবর্তী ধাপে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেনীর জন্য কেন্দ্রীয় পরীক্ষার জন্য এ পদ্ধতি চালু রাখা যাবে।

Check Also

দেবিদ্বারে মাদ্রাসার ফলাললে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে : পিছিয়ে কলেজ

দেবিদ্বার প্রতিনিধি :– কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় এবারের এইচ এস সি ও আলিম পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৫ ...

Leave a Reply