জামায়াত নেতাদের গ্রেপ্তার : কঠোর অবস্থানে সরকার : দেশব্যাপী গণগ্রেপ্তার অভিযান শুরু


ঢাকা, জুন ৩০, ২০১০ (কুমিল্লাওয়েব ডটকম) :
জামায়াত নেতাদের গ্রেপ্তার পরবর্তী কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের নির্দেশে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে গণগ্রেপ্তার অভিযান। বিভিন্ন জেলায় গণগ্রেপ্তারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে কয়েকশ’ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শীর্ষনেতাদের গ্রেপ্তারে প্রতিবাদ এবং তাদের মুক্তির দাবিতে মিছিল করার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকশ’ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলা দায়ের করা হয়েছে শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়েছে শতাধিক নেতাকর্মী।
ঢাকা: জামায়াতের শীর্ষনেতাদের আদালতে হাজিরের খবরে বুধবার সকাল থেকেই সিএমএম কোর্ট প্রাঙ্গনে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। পাশ্ববর্তী এলাকায় ছাত্রলীগ মিছিল করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ এ সময় কমপক্ষে ২৮ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে।
কুমিল্লা: জামায়াত নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জামায়াত-শিবিরের ৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে কুমিল্লা সদর থানায় ১ জন, সদর দক্ষিণ থানায় ৪ জন, বুড়িচং থানায় ৩ জন ও ব্রাহ্মণপাড়া থানায় ১ জনকে আটক করা হয়। বুড়িচং থানায় আটককৃতরা হলেন- মাওলানা মামুন সাইদী, মাওলানা সাদেক হোসেন ও আবদুর রউফ। আটককৃতদের মধ্যে সদর দক্ষিণ থানার ৪ জন ও কুমিল্লা সদর থানার ১ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। এছাড়া জামায়াত-শিবিরের আরো ৯৭ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে।

চট্টগ্রাম: বুধবার চট্টগ্রাম, সাতকানিয়া ও হাটহাজারী এলাকা থেকে জামায়াতের ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে সাতকানিয়ায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে।
শেরপুর: জামায়াত নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জেলা জামায়াত উদ্যোগে বুধবার সকাল ৮টার দিকে শহরে এক ঝটিকা মিছিল করা হয়। মিছিলের খবর পেয়ে সকাল ৯ টার দিকে সদর থানার পুলিশ শহরের জামায়াত কার্যালয়ে আবস্থান নেয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: জেলার কসবায় নতুনবাজারের কাছে শিবির-পুলিশ সংঘর্ষে পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও ১৩ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে, এ ঘটনায় কসবা থানা পুলিশ বাদী হয়ে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করে। এলাকায় এখন জামায়ত-শিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে আখাউড়া উপজেলা শিবির সভাপতি সোয়াদ মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

মেহেরপুর: মেহেরপুরে জামায়াত নেতাকর্মীদের বাড়িতে মঙ্গলবার রাতভর তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ৪ জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। মেহেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিহাদ জানান অভিযানে আটক নেতা-কর্মীরা হলেন- মেহেরপুর শহরের কাশারী পাড়ার সাবদার হোসেনের ছেলে এনামুল হক, দিঘির পাড়ার মুনছুর আলীর ছেলে আঙ্গুর হোসেন, বন্দর গ্রামের আব্দুল জাব্বারের ছেলে সোয়াইব হোসেন ও পিরোজপুর গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে মানিকউজ্জামান।
বগুড়া: কেন্দ্রীয় কর্মসূচী অনুযায়ী বুধবার বগুড়ায় জামায়াতের মিছিলে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংর্ঘষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ এবং কমপক্ষে ৩০ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ ২ জামায়াত কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- রেজাউল হাসান (২৮) ও গোলাম সরোয়ার (২৫)। এদিকে পুলিশের লাঠি চার্জে জামায়াত-শিবিরের কমপক্ষে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়।
সুনামগঞ্জ: জেলায় জামায়াত আয়োজিত মিছিল থেকে জেলা জামায়েতের আমীরসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছে জামায়াত ও শিবিরের ১০ নেতাকর্মী।
নাটোর: জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার কদমরসুল এলাকা থেকে জেলা আমির ড. শহীদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চাঁদপুর: শহর থেকে জেলা আমীর অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়াসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় জেলা আমীরসহ ৪ জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত অপর ৩ জন হলেন- জেলা নায়েবে আমীর ফরহাদ হোসেন, কুমারখালী উপজেলা সেক্রেটারী আব্দুল বারি ও ভেড়ামারা পৌর আমির হারুন-উর রশীদ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করার অভিযোগে ২২ জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা: পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কলারোয়ায় কলেজ অধ্যক্ষসহ ৮ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার। গ্রেপ্তার আতঙ্কে পৌর শহর জামায়াত শূন্য হয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ঈমান আলি শেখ (৫৫), কলারোয়া সোনার বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু (৩৮), তার ভাই শিবির নেতা আতিকুর রহমান (২২), সিংহলাল গ্রামের এরশাদ আলি(৪৮), লাঙ্গলঝাড়া গ্রামের মকবুল (৪২), বুইতা গ্রামের আসাদুজ্জামান (৩২), পৌর সদরের গদখালি গ্রামের শাহজালালী (৩৬) ও একই গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৩৫)।
ময়মনসিংহ: জেলার ত্রিশাল ও গৌরীপুর উপজেলা জামায়াতের আমীরসহ ৪ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জামায়াত নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ জামায়াতের উপজেলা শাখার আমীর আনম আব্দুল্লাহ হিল বাকীকে গ্রেপ্তার করে।
দিনাজপুর: জামায়াত নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দিনাজপুরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বিভিন্ন উপজেলা ও শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালিত হয়।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply